Universal Vaccine

এক ডোজ়েই কুপোকাত হবে হাজার রকম ভাইরাস-ব্যাক্টেরিয়া, ‘ইউনিভার্সাল টিকা’ তৈরির পথে বিজ্ঞানীরা

আলাদা আলাদা টিকা নেওয়ার প্রয়োজন হবে না। এক টিকাতেই প্রায় হাজার রকম ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়া ঘটিত সংক্রমণ থেকে রেহাই পাওয়া যাবে। এমন সর্বগুণসম্পন্ন টিকা তৈরির পথে আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:০৮
Researchers are developing Universal Vaccine could protect against a vast array of respiratory illnesses

একটি টিকা নিলেই নানা রকম রোগ থেকে মুক্তি! গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

এক টিকাতেই রোগমুক্তি! আলাদা করে নানা রোগের টিকা নেওয়ার দিন কি ফুরিয়ে আসছে? সর্বগুণসম্পন্ন এক টিকা তৈরির পথে আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা।

Advertisement

‘ইউনিভার্সাল ভ্যাকসিন’ নাম দেওয়া হয়েছে টিকাটির। এটি আসলে ন্যাজ়াল ড্রপ। অর্থাৎ, নাকে ড্রপ নেওয়ার মতো করে প্রতিষেধকটি দেওয়া হবে। তবে অন্য ভাবেও তা দেওয়া হতে পারে। গবেষকেরা দাবি করেছেন, একটি ডোজ়েই বহু রকম ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়া ঘটিত রোগের বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ তৈরি হবে।

কী কী রোগ ঠেকাতে পারবে?

ইনফ্লুয়েঞ্জার চার রকম ভাইরাস যেমন এ, বি, সি ও ডি, নিউমোনিয়ার ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেবে টিকাটি। আবার হাম, পক্সের জন্য যে টিকা নিতে হয়, তার গুণও থাকবে এতে। স্ট্যানফোর্ডের গবেষকেরা জানিয়েছেন, মূলত ভাইরাল জ্বর, ব্যাক্টেরিয়া ঘটিত যে কোনও সংক্রমণ এবং শ্বাসযন্ত্রের রোগের জন্য দায়ী যে যে ভাইরাস, তাদের সব ক’টির বিরুদ্ধেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে টিকাটি। প্রাপ্তবয়স্ক তো বটেই, ছোটদেরও দেওয়া হতে পারে এই প্রতিষেধক।

ইদানীং কালে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। কোভিডের পর থেকে ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়া ঘটিত সংক্রমণ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। কারণ, আবহাওয়ার পরিবর্তনের ফলে নানা রকম ভাইরাস তাদের রূপ বদলে আরও সক্রিয় হয়ে উঠছে। ইনফ্লুয়েঞ্জা জ্বরের লক্ষণ খুব বেশি মাত্রায় দেখা দিচ্ছে এই সময়ে। সে জন্য ‘ফ্লু টিকা’ নিয়ে রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। আবার হাম, পক্সের প্রকোপও বেশি বিশ্বের নানা দেশে। কোভিড যে একেবারে পাততাড়ি গুটিয়েছে, তা-ও নয়। সেই সঙ্গে নতুন কিছু প্রজাতির সংমিশ্রণও ঘটেছে। আগামী দিনে ‘ডিজ়িজ় এক্স’ নামক অচেনা ভাইরাস ঘটিত রোগ নিয়ে চিন্তা বেড়েছে। এই নিয়ে সতর্কতাও জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)।

চিন্তার শেষ এখানেই নয়। আমেরিকার সেন্টার ফর ডিজ়িজ় কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, ইনফ্লুয়েঞ্জা এ (এইচ৩এন২) ভাইরাসের পরিবর্তিত রূপ ‘সাবক্ল্যান্ড কে’ ছড়িয়েছে নানা দেশেই। এর সংক্রমণে নাক বন্ধ, গলা ব্যথা, মৃদু জ্বর, সঙ্গে খুসখুসে কাশি হচ্ছে। কারও আবার মারাত্মক রকম শ্বাসকষ্টও দেখা দিচ্ছে। এই সব সংক্রমণ রুখতে এ বার ওই ‘ইউনিভার্সাল টিকা’-র টিকার উপরেই ভরসা করা যাবে বলে আশা রাখছেন গবেষকেরা। তাঁদের মত, হঠাৎ করে নতুন কোনও ভাইরাস হানা দিলে বা পুরনো ভাইরাসেরই পরিবর্তিত রূপ আরও সংক্রামক হয়ে উঠলে তখন প্রতিষেধকের প্রয়োজন পড়ে। সে ক্ষেত্রে ভাইরাসের চরিত্র অনুযায়ী প্রতিষেধক তৈরি করতে হয়, যার প্রক্রিয়া খুবই জটিল ও সময়সাপেক্ষ। তাই আগে থেকে যদি এমন টিকা তৈরি করে রাখা যায়, যা আগামী দিনে এমনই কোনও ভাইরাস বা ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারে, তা হলে মৃত্যুহারও অনেক কমে যাবে। মানুষের শরীরে আগে থেকেই প্রতিরোধ শক্তি তৈরি হয়ে যাবে। নতুন টিকাটি সেই লক্ষ্য নিয়েই তৈরি হয়েছে এবং মানুষের শরীরে তার পরীক্ষা নিরীক্ষার কাজও শুরু হয়েছে বলে খবর।

Advertisement
আরও পড়ুন