Fatty Liver Risk

না জেনেই চুমুক দিচ্ছেন! তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বাড়ছে লিভারের অসুখ, বিপদ কোন ৩ পানীয়ে?

রকমারি পানীয়ের প্রলোভনে পা দিচ্ছে তরুণ প্রজন্ম, আর তাতেই উদ্বিগ্ন চিকিৎসকমহল। সাম্প্রতিক একাধিক রিপোর্টে স্পষ্ট, অতি সাধারণ পানীয় বাড়িয়ে দিচ্ছে লিভারের অসুখ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ১৭:২০
রোজের চুমুক দিচ্ছেন? চুপিসারে তাতেই ক্ষতি হচ্ছে কি লিভারের?

রোজের চুমুক দিচ্ছেন? চুপিসারে তাতেই ক্ষতি হচ্ছে কি লিভারের? ছবি: সংগৃহীত।

গরমের দিনে তেষ্টা মেটাতে পানীয় চাই। আছে কার্বোনেটেড ঠান্ডা পানীয়। ক্লান্ত শরীরে দ্রুত শক্তি জোগাতে হাতের কাছেই হাজির ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’-ও। সবই যখন হাতের মুঠোয়, গলায় ঢালতে অসুবিধা কোথায়?

Advertisement

রকমারি পানীয়ের প্রলোভনেই বাড়ছে বিপদ! সাম্প্রতিক একাধিক রিপোর্টে স্পষ্ট, এই ধরনের পানীয়ের জেরেই অপেক্ষাকৃত কম বয়সিদের মধ্যে বাড়ছে লিভারের অসুখ। দেখা দিচ্ছে হেপাটাইটিস। আর তাতেই উদ্বিগ্ন চিকিৎসকমহল।

লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ার সভাপতি অভীদীপ চৌধরি এক সাক্ষাৎকারে জানাচ্ছেন, এনার্জি ড্রিংক, অ্যালকোহল এবং চিনিযুক্ত পানীয় ঘন ঘন খাওয়ার ফলে লিভারের কার্যকারিতা নষ্ট হচ্ছে। বাড়ছে ফ্যাটি লিভারের মতো অসুখ। বিপদ ঘনাচ্ছে, কোনও রকম নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই যখন ইচ্ছা তখন এমন পানীয়ে চুমুক দেওয়ায়।

এনার্জি ড্রিংক থেকে কার্বোনেটেড পানীয়, নানা স্বাদে নানা মোড়কে বিক্রি হচ্ছে দোকান থেকে অনলাইনে। থাকছে আকর্ষণীয় ছাড়ও। এমন ঠান্ডা পানীয়ের প্রতি ছোট থেকে বড়— আকর্ষণ সকলেরই। অনেকেরই ধারণা, পেট আইঢাই করলে এমন পানীয়ে চুমুক দিলেই মিলবে উপকার। এতে সাময়িক স্বস্তি মিললেও চিকিৎসকেরা মনে করাচ্ছেন, অতিরিক্ত খেলে ক্ষতি হতে পারে লিভারের। দুশ্চিন্তার কারণ, কার্বোনেটেড পানীয়ের সঙ্গে মিশিয়ে মদ্যপানও। তরুণ প্রজন্মের এমন প্রবণতাই বিপদ বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন চিকিৎসকেরা।

চিকিৎসকেরা বলছেন, লিভার এমন একটি প্রত্যঙ্গ, যার প্রধান কাজই হল, শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত টক্সিন বা দূষিত পদার্থগুলিকে বার করে দেওয়া। লিভারে বেশি ফ্যাট জমলে, শরীরের টক্সিন নষ্ট হতে পারে না, লিভারের মধ্যে জমতে শুরু করে। ইনসুলিন রিসেপ্টর ঠিকমতো কাজ না করায় ইনসুলিন রেজ়িট্যান্স তৈরি হয়। মোদ্দা কথায়, লিভারের সমস্যা সামান্য অবহেলায় হয়ে উঠতে পারে বিপজ্জনক, এমনকি প্রাণঘাতীও।


‘ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নাল’-এ প্রকাশিত কেস রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, অতিরিক্ত এনার্জি ড্রিংক খাওয়ার ফলে হেপাটাইটিসের মতো অসুখ বাড়ছে, আচমকাই মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে নিয়াসিন বা ভিটামিন বি ৩-এর , যার ফলে তৈরি হচ্ছে হেপাটোটক্সিসিটি। চিনি, রাসায়নিক-সহ নানা ধরনের ফ্লেভার মিশ্রিত এনার্জি ড্রিংক এর কারণ। এই ধরনের পানীয় লিভারে চর্বির মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। অক্সিডেটিভ স্ট্রেস এবং প্রদাহের কারণে্রও নেপথ্যে থাকে পানীয়ের নানাবিধ উপকরণ। নিয়ম করে তা শরীরে গেলে লিভারের ক্ষতি অনিবার্য।

চিকিৎসকেরা বলছেন, নিয়ম করে এই ধরনের পানীয় এবং তা যদি অ্যালকোহলের সঙ্গে খাওয়া হয়, সঙ্গে থাকে ভাজাভুজি, ক্ষতির মাত্রা আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। অ্যালকোহল না খেলেও, নিয়ম করে এই ধরনের পানীয় এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতা ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। সাম্প্রতিক সমীক্ষায় প্রকাশ, দেশের শহরাঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে অন্তত ২৫-৩০ শতাংশই ফ্যাটি লিভারের সমস্যায় ভুগছেন।

লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সোসাইটি অফ ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট নীরব গয়াল বলছেন, ‘‘২০-৩০ বছর বয়সিদের মধ্যে লিভারের অসুখ হঠাৎ করেই বা়ড়ছে। আগে যা দে্খা যেত বয়স্কদের মধ্যে, এখন সেটাই কম বয়সেও হচ্ছে। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই পানীয়ের বিপদ সম্পর্কে উদাসীন। সচেতনতার অভাবই বিপদ ডেকে আনছে।’’

Advertisement
আরও পড়ুন