ear piercing safety precautions

শিশুর কান বেঁধানোর পর সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে কেন কোন বিষয় সতর্ক থাকতেই হবে, জানালেন চিকিৎসক

খুব ছোট বয়সে শিশুদের ত্বক খুবই কোমল থাকে, তাই তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যায়। তাই শিশুর কান বেঁধানোর আগে অভিভাবকদের কিছু বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১০ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:২৩
খুদের কান বেঁধানোর আগে কী কী মাথায় রাখবেন, বাবা-মায়েরা?

খুদের কান বেঁধানোর আগে কী কী মাথায় রাখবেন, বাবা-মায়েরা? ছবি: সংগৃহীত।

বহু বাবা-মা তাঁদের সন্তানের কান ছোট বয়সেই ফুটো করিয়ে দেন। বাবা-মা কখন তাঁদের সন্তানের কানে ফুটো করাবেন, সেটা একান্তই তাঁদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে খুব ছোট বয়সে শিশুদের ত্বক অত্যন্ত কোমল থাকে, তাই তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি থেকে যায়। তাই শিশুর কান বেঁধানোর আগে অভিভাবকদের কিছু বিষয় সতর্ক থাকা জরুরি।

Advertisement

চিকিৎসক অর্পণ সাহার মতে, তাঁর কাছে এমন অনেক শিশুই আসে, যাদের কান বেঁধানোর পর সংক্রমণ হয়ে যায়। অনেক সময় সংক্রম‌ণ এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায়, যা সারতে মাসের পর মাস সময় লাগে। অর্পণ বলেন, ‘‘খুদের বয়স দু’মাস না হলে ভুলেও কান বেঁধানো উচিত নয়। শিশুদের টিটেনাসের টিকা আর নিউমোনিয়ার টিকা দেড় মাস থেকে দু’ মাসের মধ্যে দেওয়া হয়। সেই টিকাগুলি নেওয়ার পরেই শিশুর কান বেঁধানো ভাল, এতে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। তবে আমি মনে করি, শিশুর বয়স দু’ থেকে তিন বছর হয়ে যাওয়ার পরেই কান বেঁধানো উচিত।’’

কোথায় কান ফুটো করাচ্ছেন, সেখানকার পরিবেশ সুরক্ষিত কি না, দেখে নিন। অর্থাৎ ইয়ার পিয়ার্স করানোর আগে তা স্টেরিলাইজ় করা হয় কি না, খোঁজ নিন। অনেক চিকিৎসকের ক্লিনিকে কান ফুটো করানো হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে স্যানিটাইজ়ার বা স্টেরিলাইজ় করার বিষয়ে তেমন চিন্তা থাকে না। সালোঁ থেকে করালে যিনি করছেন, তিনি কান ফুটো করানোর আগে হাত ধুচ্ছেন কি না, যন্ত্রপাতিগুলি স্টেরিলাইজ় করছেন কি না, তা যাচাই করে নিন। অন্য কোনও পদ্ধতি অবলম্বন না করে গান শটের ব্যবহারেই কান বেঁধানোর পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসক।

কান বেঁধানোর সময় তীব্র যন্ত্রণা হয় বলে শিশুরা কান্নাকাটি শুরু করে। চিকিৎসক অর্পণ বলেন, ‘‘কান বেঁধানোর আধ ঘণ্টা আগে শিশুর কানের লতিতে লিডোকেন অ্যান্ড প্রিলোকেন নামক জেল লাগিয়ে দিন। এই জেলের ব্যবহারে খুদে ততটাও যন্ত্রণা অনুভব করবে না।’’

সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে কান বেঁধানোর পর কোন ধাতুর দুল পরানো উচিত, সেটাও জেনে রাখা ভাল। টাইটেনিয়ামের দুল পরানো সবচেয়ে নিরাপদ। এই ধাতু ত্বকের সঙ্গে কোনও রকম বিক্রিয়া করে না। এ ছাড়া সোনার বা রূপোর দুলও ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে নিকেল জাতীয় ধাতুর দুল বা নিমের কাঠি বা ঝাঁটার কাঠি শিশুর কানে ভুলেও গুঁজবেন না।

শিশুদের কান বেঁধানোর পরে সেই জায়গাটি নিয়মিত স্টেরিলাইজ় ওয়াটার দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। পরিষ্কার করার পর সেই স্থানটি আলতো হাতে মুছে নিতে হবে। ওই অঞ্চলটি যেন ভিজে না থাকে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে। খুদের কান পরিষ্কার করার আগে অবশ্যই হাত স্যানিটাইজ় করে নিতে হবে। শিশু বার বার কান হাত দিতে পারে, ওকে বারণ করতে হবে। ওর হাতও পরিষ্কার করতে হবে বার বার আর নখ যেন ছোট করে কাটা থাকে, সে দিকে নজর রাখতে হবে। কান বেঁধানোর পর অন্তত ছ’সপ্তাহ পরে কানের দুল চাইলে বদল করতে পারেন।

কী ভাবে বুঝবেন সংক্রমণ হয়েছে?

শিশুর কান বেঁধানোর পর এক থেকে দু’দিন ওই জায়গায় লাল ভাব এবং হালকা ব্যথা থাকেই, তবে লাল ভাব ও ব্যথা দু’দিন পরেও থাকলে সতর্ক হোন। ওই জায়গা থেকে যদি পুঁজ বেরোয় বা জায়গাটি ধরলে গরম গরম লাগে কিংবা যদি জায়গাটি ফুলে যাচ্ছে দেখেন, তা হলে বুঝবেন সংক্রমণ ঘটছে। তখন সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

Advertisement
আরও পড়ুন