Brain Ageing

বুড়ো হবে না মগজ! ধার বাড়বে মেধা-বুদ্ধির, মস্তিষ্কের বার্ধক্য পিছিয়ে যাবে মাত্র দু’টি ডোজ়েই

শরীরের মতো মগজেও বার্ধক্য আসে। বুড়ো হয় মস্তিষ্ক। মলিন হতে থাকে স্মৃতির পাতা। মরচে ধরে মগজাস্ত্রে। এ সবই স্বাভাবিক নিয়মে হয়। তারই বিপরীতে হেঁটে ওষুধ বানালেন বিজ্ঞানীরা। যার মাত্র দুই ডোজ়েই মস্তিষ্কের বার্ধক্য ঠেকিয়ে রাখা যাবে বলে দাবি করা হয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:০৫
Scientists have developed a nasal spray that can reverse Brain Ageing

মগজেও থাকবে যৌবন, দুই ডোজ়েই বুদ্ধির হাওয়াবাতাস খেলবে। ফাইল চিত্র।

বয়স বাড়ে ঠিকই, কিন্তু ঠিক কোন বয়সে গিয়ে মস্তিষ্ক বৃদ্ধ হয়, তা কেউ জানেন না! শরীরের বয়সের সঙ্গে তার হিসেবনিকেশ ঠিক মেলে না। ঠিক যে সময়ে গিয়ে মগজের কুঠুরিগুলিতে ধুলোময়লা জমতে থাকে, স্মৃতির পাতা মলিন হতে থাকে, মগজাস্ত্রে মরচে ধরে যায়, হয়তো তখন থেকেই মস্তিষ্কের বুড়ো হওয়া শুরু। তা যে শরীরের বার্ধক্যেই হবে তা নয়, আগেও হতে পারে। এর বিভিন্ন কুঠুরির বাড়বৃদ্ধি বিভিন্ন রকম। তাই মস্তিষ্কের ‘সাবালকত্ব’ মাপার যেমন যন্ত্র নেই, তেমন তার বার্ধক্যের মাপকাঠিও জানা নেই। কিন্ত তা-ও মস্তিষ্ক বুড়ো হয়, তার বুদ্ধির ধার কমে। স্মৃতি লোপ পায়। এই প্রক্রিয়াটিকেই উল্টে দিতে নতুন ওষুধ তৈরি করে ফেলেছেন টেক্সাস এ অ্যান্ড এম ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা। দাবি করা হয়েছে, মাত্র দুই ডোজ়েই মস্তিষ্কের যৌবন ধরে রাখা যাবে।

Advertisement

শরীরে ও মনে যৌবন ধরে রাখার বাসনা এখন গোটা বিশ্বে আলোচিত। তাকে পরিণতি দেওয়ার জন্যই নানা আবিষ্কার, বিভিন্ন থেরাপি নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা। তবে বয়সটা তো শুধু শরীরের হয় না, মস্তিষ্কেরও হয়। শরীরে যৌবন অটুট, এ দিকে মস্তিষ্ক বুড়িয়ে গেল, স্মৃতিশক্তি উবে গেল সময়ের আগেই, তা হলে কোনও লাভই নেই। তাই মস্তিষ্কেরও বয়স ধরে রাখা জরুরি। সে কারণেই তৈরি হয়েছে এমন এক নেজ়াল স্প্রে, যার দুই ডোজ়ে মস্তিষ্কের বয়স কমবে বলে দাবি করা হয়েছে। অর্থাৎ, স্মৃতিশক্তি চনমনে থাকবে, বুদ্ধি ও মেধা বিকশিত হবে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও জোরদার হবে।

মস্তিষ্কের বয়স কেন বাড়ে?

মস্তিষ্কের বয়স কেন বাড়ে? ছবি: ফ্রিপিক।

মস্তিষ্কের জটিল ধাঁধা ভেদ করা খুবই কঠিন। বছরের পর বছর এই নিয়ে গবেষণা চলছে। মস্তিষ্কের আসল রহস্য নাকি লুকিয়ে হিপ্পোক্যাম্পাসেই। স্মৃতিকে বেঁধে রাখার কাজটি করে মাথার এই অংশটিই। মস্তিষ্কের মধ্যে কয়েক লক্ষ কোটি স্নায়ুকোষের (নিউরন) আদানপ্রদানের মাধ্যমে স্মৃতি তৈরি হয়। যে কোনও কোষের মতো, স্নায়ুকোষও তৈরি হয় প্রোটিন দিয়ে। যখন এই কোষগুলির প্রোটিন ভাঙতে থাকে, তখন তাদের দ্বারা নির্মিত স্মৃতিও টালমাটাল হয়ে যায়। মস্তিষ্কের হিপ্পোক্যাম্পাস অংশে এমন অদলবদল হয় যে, স্মৃতির পাতাই ধূসর হতে থাকে। ওই অংশের সঙ্গেই যুক্ত থাকে ‘এনটোরিনাল কর্টেক্স’ নামে আর একটি অংশ। স্মৃতি জমিয়ে রাখা, স্থান-কালের পরিচয়, সময়ের হিসেব ওই অংশই নিয়ন্ত্রণ করে। কী ভাবে মানুষের স্মৃতি তৈরি হয়, পুরনো কথা ছবির মতো ভেসে ওঠে মাথায় আর কী ভাবেই বা তা হারিয়ে যায়— এই সব রহস্যই লুকিয়ে আছে ওই অংশে। আর সেখানেই চুপিচুপি বাসা বেঁধে থাকে নানা প্রোটিন। হিপ্পোক্যাম্পাসের রহস্য ভেদ করতে গিয়ে ‘এফটিএল১’ নামক এক প্রোটিনের খোঁজ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা, যার কারণে বার্ধক্য খুব তাড়াতাড়ি চলে আসে মস্তিষ্কে। এর কারণেই গুলিয়ে যায় চিন্তাভাবনা, বাড়ে ভুলে যাওয়ার সমস্যা, পুরনো অনেক স্মৃতিই হারিয়ে যায় চিরতরে।

টেক্সাসের ওই ইউনিভার্সিটির গবেষক অশোক শেট্টি ও তাঁর টিম মস্তিষ্কের বার্ধক্য নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে আরও একটি বিষয় লক্ষ করেন। তাঁরা দেখেন, শরীরের ‘শক্তিঘর’ মাইটোকনড্রিয়ার কার্যক্ষমতা যখন কমতে থাকে, তখন স্নায়ুর কোষও বুড়িয়ে যেতে থাকে শক্তির অভাবে। সেই পর্যায়ে গিয়ে মস্তিষ্কে বিপুল প্রদাহ শুরু হয় যাকে বলে ‘নিউরোইনফ্ল্যামেজিং’। এটি হলে চিন্তাভাবনা গুলিয়ে যায়, সাময়িক স্মৃতিভ্রম হতে পারে, ‘ব্রেন ফগ’-এর লক্ষণ দেখা দেয় যা পরবর্তী সময়ে গিয়ে স্মৃতিনাশের কারণ হয়ে উঠতে পারে। নাকের ওই স্প্রে নিলে সেটি মস্তিষ্কে পৌঁছে ‘মাইক্রো-আরএনএ’ তৈরি করে। এটি এমন জিনগত উপাদান, যা প্রদাহ তৈরির পথটাই বন্ধ করে দিতে পারে। পাশাপাশি, মস্তিষ্কের কোষ ও স্নায়ুকে সচল রাখতে পারে। স্নায়ু মারফত সঙ্কেত আদানপ্রদানের পথ সচল ও সক্রিয় থাকে, ফলে স্মৃতিলোপের আশঙ্কাই থাকে না।

মানুষের উপর এই স্প্রে-র প্রয়োগ শুরু হয়েছে। তাতে আশার আলো দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তবে গবেষকদের দাবি, আরও বহু জনের উপর পরীক্ষার পরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আগামী দিনে এই ওষুধ ব্রেন স্ট্রোকের রোগীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতেও সাহায্য করবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

Advertisement
আরও পড়ুন