লেবু বেশি খেলে কী সমস্যা হবে? ছবি: সংগৃহীত।
সাপ্লিমেন্ট নয়, ভিটামিন-খনিজের অভাব পূরণে চিকিৎসকেরা সব সময়েই প্রাকৃতিক উপাদানে ভরসা রাখতে বলেন। দৈনন্দিন খাওয়া-দাওয়া ঠিক থাকলেই সাধারণত ভিটামিনের অভাব হওয়ার ভয় থাকে না। আর ঠিক সেই কারণেই রকমারি লেবু দৈনন্দিন ডায়েটে জুড়েছেন? ঘুম ভেঙে লেবু-মধুর জল, রোদ থেকে ফিরে লেবুর শরবত, ভাতের পাতে লেবু— দিনে নানা ভাবে ডায়েটে জুড়ছেন ভিটামিন সি! হিতে বিপরীত হচ্ছে কি?
ভিটামিন সি-এর অন্যতম উৎসই হল লেবুর মতো টক জাতীয় ফল। এতে থাকে সাইট্রিক অ্যাসিড। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে, ত্বকের জেল্লা ফেরাতে এই ভিটামিন একান্তই কাজের। কিন্তু কেউ যদি নানা ভাবে বার বার লেবুর রস খান, তার ফল মোটেই ভাল হয় না। ‘বিএমসি মেডিক্যাল ইনফরমেটিভস’ জার্নালে প্রকাটিত এক গবেষণাপত্র থেকে জানা যাচ্ছে, অতিরিক্ত মাত্রায় সাইট্রিক অ্যাসিড শরীরে গেলে নানা রকম সমস্যা হতে পারে। ক্ষয়ে যেতে পারে দাঁতের উপরিভাগের আস্তরণ, অম্বল-গ্যাস হতে পারে, এমনকি পেশিতে টানও ধরতে পারে। সাইট্রিক অ্যাসিডের মাত্রা যদি খুব বেশি হয়, হাইপোক্যালশেমিয়াও দেখা দিতে পারে। এতে শরীরে ক্যালশিয়ামের মাত্রা কমে যায়।
সাইট্রিক অ্যাসিড কী, কোন কাজে লাগে
টক জাতীয় ফলে থাকে সাইট্রিক অ্যাসিড। এটি প্রাকৃতিক উপাদান। তবে এই উপাদানেক কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন খাবারের স্বাদ বৃদ্ধি করা হয়, খাবারের স্থায়িত্বও বাড়ানো হয়। সীমিত পরিমাণে তা খাওয়া ভাল। তবে অতিরিক্ত সাইট্রিক অ্যাসিড, বিশেষত প্রক্রিয়াজাত খাবারের মাধ্যমে শরীরে গেলে, তা ক্ষতিকর হতে পারে।
দাঁতের ক্ষয়: পাতিলেবুর রস বা টক জাতীয় ফলের রসের সংস্পর্শে দাঁত দীর্ঘ ক্ষণ থাকলে, অ্যাসিডের প্রভাবে দাঁতের উপরিভাগের আস্তরণ ক্ষয়ে যেতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে দাঁতে গর্ত বা ক্যাভিটিও দেখা দিতে পারে।
বুক জ্বালা: অম্বলের ধাত থাকলে লেবুর রসে বুক জ্বালা, অম্বল, অস্বস্তি হতে পারে। অতিরিক্ত লেবু বা টক জাতীয় ফল খেলে পাকস্থলীর আস্তরণ নষ্ট হয়ে প্রদাহ দেখা দিতে পারে। তা থেকে বমি ভাব, পেটে অস্বস্তি দেখা হতে পারে।
মুখে জ্বালা: মুখে কোনও ঘা হয়ে থাকলে, সরাসরি লেবুর রস খেলে সেই অংশে জ্বালা হতে পারে। কারণ, এটি অ্যাসিড জাতীয় উপাদান।
কাদের সতর্ক থাকা দরকার
অম্বলের ধাত থাকলে বেশি লেবু না খাওয়াই ভাল।
দাঁত শিরশির করে যাঁদের, তাঁদেরও তা এড়ানো প্রয়োজন।
কোন খাবারগুলি এড়িয়ে চলবেন
অত্যন্ত বেশি পরিমাণে ঠান্ডা পানীয়, প্যাকেটজাত ফলের রস খেলে সমস্যা হতে পারে।
অ্যাসিড জাতীয় উপকরণ রয়েছে, এমন খাবার বা পানীয় কম খাওয়াই ভাল।