Stomach Flu

ছড়াচ্ছে পেটের সংক্রমণ! হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর ভিড়, কী থেকে ছড়াচ্ছে? সতর্ক থাকার উপায় কী?

গরমে পেটের সমস্যা বাড়ছে। বমি, ডায়েরিয়ায় ভুগছেন অনেকে। সেই সঙ্গে লিভারের রোগও বেড়ে চলেছে। ছোটরা তো বটেই, ভুগছেন বড়রাও। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) জানিয়েছে এই সময়ে ঘরে ঘরে ‘স্টমাক ফ্লু’ বাড়ছে। এর কারণ কি শুধু অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৫ মে ২০২৬ ১১:১২
Stomach flu cases see a spike as heatwave conditions intensify

কেন ছড়াচ্ছে ‘স্টমাক ফ্লু’, কী থেকে ঘটছে সংক্রমণ? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

মরসুম বদলের সময়ে জ্বর, পেট খারাপের খবর আসেই। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অন্য। গরমের পাল্লা খুবই ভারী। দেশের অনেক জায়গায় তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ফের হানা দিয়েছে পাকস্থলীর সংক্রমণ যাকে বলা হচ্ছে ‘স্টমাক ফ্লু’। অসুস্থ হচ্ছেন অনেকে। দেশের নানা জায়গা তো বটেই, কলকাতাতেও ছড়াচ্ছে পেটের এমন অসুখ। ছোটজের পাশাপাশি আক্রান্ত হচ্ছেন বড়রাও।

Advertisement

কী থেকে ছড়াচ্ছে স্টমাক ফ্লু?

তাপমাত্রা ৩০ থেকে ৪৫ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে নানা ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়ার উৎপাত বাড়ে। ফলে খাবার, জল থেকে সংক্রমণ ছড়ায় দ্রুত। সে বাইরের খাবার হোক বা বাড়িতে ফ্রিজে রেখে দেওয়া বাসি খাবার। ইদানীং আবার খাবার থেকে বিষক্রিয়া হওয়ার ঘটনাও খুব বেশি। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)জানিয়েছে, গরম বাড়তেই একাধিক ব্যাক্টেরিয়া ও ভাইরাসের উৎপাত শুরু হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে নোরোভাইরাস, রোটাভাইরাস, যাদের কারণে ‘ভাইরাল গ্যাস্ট্রোএন্টেরাইটিস’ নামক রোগ হচ্ছে। এরই নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্টমাক ফ্লু’।

তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সালমোনেল্লা, ই কোলাই ব্যাক্টেরিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। এদের থেকেই খাবারে বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটে। বাতাসে জলীয় বাষ্প বা আর্দ্রতা বেশি থাকলে খাবারে পচন খুব দ্রুত হয়। ফলে রান্না করা খাবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার স্বাদ ও গুণমান হারিয়ে ফেলে। তাতে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে। চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদারের মতে, এই সময়ে জ্বরের সঙ্গেই পেট ব্যথা, ডায়েরিয়া, বমি হচ্ছে। শরীরে জলশূন্যতা দেখা দিচ্ছে। সংক্রমণ থাকছে এক সপ্তাহেরও বেশি। কোনও শিশু আগে থেকেই অপুষ্টিতে ভুগলে বা সময় মতো হাসপাতালে না পৌঁছোলে বড় বিপদ ঘটতে পারে। ছোটরা শুধু নয়, বড়রাও এখন সংক্রমণের শিকার। ডায়াবিটিস, কিডনির রোগ রয়েছে অথবা ক্যানসারের চিকিৎসা চলছে, এমন রোগীর এই সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা প্রয়োজন।

কী ভাবে সতর্ক থাকবেন?

সকালে খালি পেটে চা বা কফি খাওয়ার অভ্যাস ছাড়তে হবে। ব্ল্যাক কফি বেশি খেলেও পেটের সমস্যা হবে।

গরমের সময়ে পেটের গোলমালের সঙ্গে জলশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশনের সমস্যা ভোগায়। তাই এই সময়টায় বেশি করে জল খেতে হবে। সকালে খালি পেটে মৌরি-মেথি ভেজানো জল বা জিরে ভেজানো জল খেলেও পেট ঠান্ডা থাকবে। ছোটদের জল ফুটিয়ে খাওয়াতে হবে।

খাবার বেশি ক্ষণ ফেলে রাখবেন না। গরম অবস্থাতেই খান। ঠান্ডা হয়ে গেলে আবার গরম করে তবেই খান। বাসি খাবার না খাওয়াই ভাল। কারণ ফ্রিজে রাখা খাবারেও কিছু ব্যাক্টেরিয়া জন্মায় যা ডায়েরিয়ার সমস্যা ডেকে আনতে পারে।

রাস্তায় বিক্রি হওয়া ফলের রস, লস্যি বা কাটা ফল খাবেন না। কোনও রকম নরম পানীয়, জাঙ্ক ফুড খাবেন না এই সময়ে। ঘরে কম তেলে রান্না করা হালকা খাবারই খেতে হবে।

গরমে শরীর সুস্থ রাখতে ওআরএস, নুন-চিনির শরবত বা ঘরে তৈরি ডিটক্স পানীয় বেশি করে খেতে হবে। ছোটদের একেবারেই বাইরের খাবার দেওয়া চলবে না।

Advertisement
আরও পড়ুন