লিপস্টিক কিনুন দেখেশুনে। ছবি: সংগৃহীত।
চোখে কাজল না পরলেও লিপস্টিক না মেখে বাইরে বেরোতেই পারেন না অনেকে। এমন অনেকেই রয়েছেন, যাঁরা বাড়িতে থাকলেও হালকা রঙের লিপস্টিক মাখতে পছন্দ করেন। আবার অনেকেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পান এই প্রসাধনীর রঙে। তবে বেশ কিছু লিপস্টিক তৈরিতে যে ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়, তা ত্বকের জন্য মোটেও ভাল নয়। যে সিন্থেটিক রঙের ব্যবহার হয়, তা পেট্রোলিয়াম জাত পণ্য থেকে আসে। দীর্ঘকালীন ব্যবহারে নানা রকম চর্মরোগ হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই সব রাসায়নিক থেকে ত্বকের অ্যালার্জিও হতে পারে। জেনে নিন, কোন কোন যৌগ লিপস্টিকে থাকলে তা না কেনাই ভাল।
১) লিপস্টিক ও লিপবামে থাকে গ্লাইকল প্রপিলিন। এটি এক ধরনের তরল, যা রং ও গন্ধের জন্য ব্যবহার করা হয়। কম মাত্রায় এটির প্রয়োগ হলে তেমন ক্ষতি নেই। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, লিপস্টিককে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে এর প্রয়োগ বেশি মাত্রায় হয়। আর ঠোঁট থেকে লিপস্টিক বা লিপবাম লালায় মিশে পেটেও যায়। আর তখনই এই রাসায়নিক বিষক্রিয়া করে। তেলরং ও প্লাস্টিকেও কিন্তু এর ব্যবহার হয়। কাজেই সেটি পেটে গেলে নানা রকম অসুখবিসুখ হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।
২) প্যারাবেনের মতো রাসায়নিকও থাকে লিপস্টিক ও লিপবামে। প্যারাবেন শরীরে গেলে তা ইস্ট্রোজেন হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। পরোক্ষে স্তনের ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই লিপস্টিক বা বাম কেনার আগে অবশ্যই লেবেল পরীক্ষা করে নিন। চেষ্টা করুন রাসায়নিকমুক্ত লিপস্টিক বা লিপ বাম ব্যবহার করতে।
৩) লেড বা সিসাও থাকে অনেক সময় লিপস্টিকে। খাওয়ার সময় লিপস্টিকের অংশবিশেষ পেটে চলে যায়, ফলে সিসা শরীরে জমতে পারে। এই ধাতু লিভারের ক্ষতি করে, সন্তানধারণে সমস্যা হয় এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতাতেও প্রভাব ফেলে।
৪) লিপস্টিকে আরও এক রাসায়নিক থাকে, যা হল স্যালিসাইলিক অ্যাসিড। ঠোঁট নরম রাখার জন্য এই উপাদানটি মেশানো হয়, কিন্তু এটির কারণে ত্বকের কোষের ক্ষতি হতে পারে। ত্বক থেকে মৃত কোষ দূর করতে স্যালিসাইলিক অ্যাসিড কার্যকরী ঠিকই, কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে এই উপাদান বেশি মাত্রায় ত্বকে মিশলে তা কোলাজেন উৎপাদনে বাধা তৈরি করতে পারে। ত্বকের অস্বস্তির কারণও হতে পারে।
৫) লিপস্টিক বা লিপবামে মেন্থলের ব্যবহার হয়, যা ঠোঁট ঠান্ডা রাখে। এই উপাদানটি কিন্তু ঠোঁটের ত্বকের কালচে ভাব, অস্বস্তির কারণ হতে উঠতে পারে।