গ্যাসের ওষুধ খাওয়ার নিয়ম কী? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ঘুম ভেঙে উঠেই আগে হাত চলে যায় ওষুধের বাক্সের দিকে। গ্যাস-অম্বলের একটা বড়ি খেয়ে নিলেই স্বস্তি। তার পর সারা দিন যত খুশি চর্বচোষ্য খান, অম্বল হবে না। মনে মনে এটা ভেবেই খুশি থাকেন যে, গ্যাসের ওষুধ তো সকালেই খেয়ে নিয়েছেন, তা হলে যা খুশি খেয়ে নেওয়া যায়। কিছুতেই গলা-বুক জ্বালা হবে না। এই ভাবনায় কোনও ভুল নেই ঠিকই, তবে তা কিন্তু সাময়িক। দিনের পর দিন একই ওষুধ খেয়ে গেলে, তার কার্যকারিতা এক সময়ে ফুরিয়ে যাবে। এর পরে ওষুধ খেলেও অম্বলের সমস্যা কমবে না। অন্য সমস্যাও দেখা দিতে থাকবে।
গ্যাসের ওষুধ কতটা ক্ষতিকর
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, অ্যান্টাসিড জাতীয় ওষুধ মুড়িমুড়কির মতো খেলে তা হার্ট ও কিডনির উপর সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে। এই ধরনের ওষুধের পোশাকি নাম প্রোটন পাম্প ইনহিবিটর (পিপিআই)। এই ওষুধগুলি সাময়িক ভাবে অম্বল কমায় ঠিকই, বদলে শরীরের পুষ্টিরস শুষে নেয়। পিপিআই গোত্রের ওষুধ মাসের পর মাস খেয়ে গেলে, অপুষ্টিজনিত রোগ হতে পারে। বিকল হতে পারে কিডনি। হাড়ের ঘনত্বও কমে যায় এই সব ওষুধে। ফলে গাঁটে গাঁটে যন্ত্রণা, অস্টিপোরোসিসের মতো হাড় দুর্বল হয়ে পড়ার রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
হঠাৎ অম্বলে সবচেয়ে ভাল ওষুধ লিকুইড অ্যান্টাসিড৷ কিন্তু মানুষ পিপিআই খান৷ আর তা খান চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়েই। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, কয়েকটি গোত্রের পিপিআাই আছে, যেগুলির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মারাত্মক। যেমন, ওমিপ্রাজ়োল, প্যান্টোপ্রাজ়োল বা ইসোমিপ্রাজ়োল জাতীয় ওষুধ। ভাল করে খেয়াল করে দেখবেন, দোকান থেকে এই গোত্রের ওষুধই বেশি কেনা হয়। কমবেশি সকলের বাড়ির ওষুধের বাক্সে এই গোত্রের পিপিআই থাকেই। এরা অম্বল কমানোর জন্য পাকস্থলীর স্বাভাবিক অ্যাসিডের মাত্রা কমিয়ে দেয়। ওই অ্যাসিড যেমন খাবার হজমে সাহায্য করে, তেমনই ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়াও নাশ করে। স্বাভাবিক অ্যাসিডের মাত্রা কমে গেলে, তখন শরীর নিজে থেকে খাবার হজম করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, এবং অন্ত্রে ক্ষতিকর ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণও বেড়ে যায়।
গ্যাসের ওষুধ খাওয়ার নিয়ম কী?
আলসার বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স কমাতে ৬–৮ সপ্তাহ পিপিআই খাওয়ার নিয়ম৷ কিন্তু শুরু করার পর অনেকেই বছরের পর বছর খেয়ে যান৷ কখনও খান জীবনভর৷ সেটিই ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অম্বলের কারণে অস্বস্তি যদি খুব বেশি হয়, তা হলে রোজ না খেয়ে ২-৩ দিন টানা খেয়ে বন্ধ করে দিন। আবার এক সপ্তাহ পরে খান।
হঠাৎ করে ওষুধ ছাড়লে অনেকেরই কষ্ট হয়। সে ক্ষেত্রে রোজের বদলে এক দিন অন্তর ওষুধ খাওয়া শুরু করুন। ধীরে ধীরে কমিয়ে ফেলুন।
তবে যাঁদের হার্টের অসুখ রয়েছে বা অন্য কারণে ওযুধটি খেতে হয়, তাঁরা এ বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলবেন।