কোন নিয়মে রোগা হলেন তমন্না? ছবি : সংগৃহীত।
শরীরকে বিষমুক্ত করার কোনও ‘শর্টকাট’ বা সহজ পন্থা হয় না। মনে করেন তমন্না ভাটিয়ার ফিটনেস প্রশিক্ষক সিদ্ধার্থ সিংহ। নায়িকার চেহারা আমূল বদলে দেওয়ার মূল কারিগর তিনিই।
তমন্নার দৈনিক ডায়েট থেকে শুরু করে শরীরচর্চার রুটিন, সবই তাঁর হাতে তৈরি। সেই দিনলিপি মেনেই শরীর থেকে বাড়তি মেদ ঝরিয়ে এখন অনেকটা ঝরঝরে তমন্না। ত্বক আরও ঝকঝকে হয়েছে অভিনেত্রীর। আর এ সবের নেপথ্যে যে ডিটক্স প্ল্যান কাজ করেছে, তাতে তেমন কোনও ডিটক্স পানীয় নেই, যা নিমেষে শরীর থেকে সমস্ত বিষ টেনে বার করে দেবে। কারণ সিদ্ধার্থ মনে করেন, ‘‘তেমন কোনও পানীয় হয় না। রোজ কোনও পানীয় খেলেন আর শরীর থেকে বিষ বেরিয়ে গেল— শরীরকে বিষমুক্ত করা অত সোজা নয়।’’
ডিটক্স অর্থাৎ শরীর থেকে টক্সিন বার করে দেওয়া। যে টক্সিন বা বিষাক্ত পদার্থ শরীরে থাকলে প্রদাহ বাড়তে পারে। আর প্রদাহ বাড়লে তৈরি হতে পারে নানা ধরনের জটিল রোগ। এর প্রভাব পড়ে ত্বকে। আসে অকাল বার্ধক্য। শরীরে জমে মেদ। এর থেকে বাঁচার নিজস্ব প্রক্রিয়া রয়েছে শরীরের। লিভার এবং কিডনি সেই ‘ডিটক্স’ বা শরীরকে বিষমুক্ত করার কাজ করে। সিদ্ধার্থ বলছেন, ‘‘এই যে সর্বত্র ডিটক্স করার ওষুধ, পানীয় পাওয়া যাচ্ছে এবং তা নিয়ে যে ভাবে বাণিজ্যিক প্রচার চলছে, তা সব সময় সঠিক নয়। কিডনি আর লিভার যে কাজ করে, তা কোনও সাপ্লিমেন্ট করতে পারে না।’’
তা হলে কী করা উচিত?
১। তমন্নার প্রশিক্ষক মনে করেন শরীরকে বিষমুক্ত করার জন্য কোনও শর্টকাটে ভরসা না করে শরীরচর্চা করুন নিয়মিত। তাতে শরীরের ফ্রি র্যাডিক্যালস জমতে পারবে না।
২। দৈনিক আহারে রাখুন ঘরে পরিচ্ছন্ন ভাবে বানানো খাবার।
৩। কোনও খাবারই পুরোপুরি বন্ধ করার দরকার নেই। মিষ্টি একেবারেই খেলেন না বা ভাজা খেলেন না বা কার্বোহাইড্রেট জাতীয় কিছু খেলেন না ! এমন রুটিন কিছু দিন মেনে চলা যায়। দীর্ঘ দিন কোনও ডায়েটে টিকে থাকতে হলে সব ধরনের খাবারেরই একটি ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।
৪। ওজন ঝরাতে হলে এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে হলে জরুরি রুটিন। তাই রুটিন এমন বানাতে হবে যা বজায় রাখা যায়। শরীর যথাযথ কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন এবং খনিজ না পেলে অচিরেই রুটিন ভাঙবে। আর তাতে লাভের চেয়ে ক্ষতিই হবে বেশি।
তমন্নার প্রশিক্ষকের মত
শরীরকে ডিটক্স করার ক্ষেত্রে তমন্নার প্রশিক্ষকের নীতি কচ্ছপের মতো। তিনি বলছেন ওজন ঝরানোর ‘ইনস্ট্যান্ট’ সমাধান হল খরগোশের মতো। প্রথমে অনেকটা এগিয়ে যাবে। কিন্তু মাঝপথে ঝিমিয়ে পড়বে। শেষ পর্যন্ত জয় আসবে কচ্ছপের নীতিতেই।