AI Posture Corrector

কুঁজো হয়ে বসলেই ‘বকুনি’ দেবে! সারা দিন বসে কাজে শরীরের ভঙ্গিমা ঠিক রাখবে স্মার্ট যন্ত্র

শরীরে একটি ছোট্ট চিপ লাগিয়ে নিলেই হবে। তার পর দিনভর তার কাজ হবে আপনার শরীরের ভঙ্গিমা ঠিক রাখা। ঝুঁক বসলেই চোখ রাঙাবে সে, আবার কুঁজো হয়ে হাঁটলেও বকুনি দেবে। সারা দিন বসে কাজে যাঁদের পিঠ-কোমরে ব্যথা বাড়ছে বা স্লিপ ডিস্কের সমস্যা ভোগাচ্ছে, তাঁদের জন্য এসে গিয়েছে ‘স্মার্ট’ এআই যন্ত্র।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৫৯
The Rise of AI Posture Correctors in the Digital Era, what is this device

একটানা বসে কাজে পিঠ-কোমরে ব্যথা, কিনে ফেলুন স্মার্ট এআই যন্ত্র। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

শরীরের যে কোনও অঙ্গে ব্যথাবেদনা স্বাভাবিক জীবনের ছন্দপতন ঘটায়। সে পিঠ-কোমর টনটনিয়ে উঠুক বা ঘাড়ে-কাঁধে বিদ্যুতের শক লাগার মতো ব্যথা— যার হয়, সে-ই তার মর্ম বোঝে। শরীরের পেশি আর হাড় যদি একই সঙ্গে বিদ্রোহ ঘোষণা করে, তখন মনে মনে ‘এ ব্যথা কী যে ব্যথা’ বলে হাহাকার করা ছাড়া আর উপায় থাকে না। দিনভর বসে কাজ করেন যাঁরা, তাঁরা এ ব্যথার মর্ম বিলক্ষণ জানেন। ডেস্কে বসে কাজে আর যা-ই হোক, কোমর-পিঠ-ঘাড়ের দফারফা হয়ে যায়। কেউ ভোগেন স্পন্ডিলাইটিসে, কারও আবার স্লিপ ডিস্কের সমস্যা। কেউ কম বয়সেই বাতের ব্যথায় কাবু। একটানা বসে কাজে আবার বিচিত্র সব অসুখও দেখা দিচ্ছে, যেমন ‘ডেড বাট সিনড্রোম’। মূলত নিতম্বের পেশির অসাড়তা। শুরুতে যন্ত্রণা হয়, তার পর পেশির সাড়ই চলে যায়। এ সব থেকে বাঁচতে তাই কাজের মাঝে বার কয়েক উঠে হেঁটে আসার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। তা-ই বা আর হয় কোথায়! তাই যে কাজ নিজে থেকে হয় না, তা করানোর জন্য নতুন যন্ত্র নিয়ে আসা হয়েছে। সেটি শরীরে লাগিয়ে নিলে, সে-ই বলবে কখন সোজা হয়ে বসতে হবে, কী ভাবে বসতে হবে এবং দীর্ঘ ক্ষণ বসে থাকলে সে সতর্কও করবে।

Advertisement

যন্ত্রই যখন প্রশিক্ষক

শরীর-স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য সাধ করে অনেকেই স্মার্ট ওয়াচ কিনছেন এখন। হাতে পরে থাকলে সে জানিয়ে দেয় কত পা হাঁটা হয়েছে, হার্টবিট কতটা, ঠিক কতখানি সময় ধরে বসে ছিলেন ইত্যাদি। এ বার সে কাজ আরও দায়িত্ব নিয়ে করবে ‘এআই পসচার কারেক্টর’। অর্থাৎ, শরীরের ভঙ্গিমা ঠিক রাখার যন্ত্র। রাস্তাঘাটে প্রায়ই দেখা যায় অনেকেই পিঠে-কোমরে বেল্টের মতো পরে রয়েছেন। সেটিও এক প্রকার পসচার কারেক্টর, কিন্তু ‘স্মার্ট’ নয়। সেটি এক রকম আঁটসাঁট বেল্ট যা পোশাক পরার মতো পরে নিতে হয়। কিন্ত এখন যেটি বাজারে এসেছে সেটি ছোট্ট একটি চিপের মতো যন্ত্র। শরীরের যে কোনও জায়গায় লাগিয়ে নিন, বাইরে থেকে বোঝা যাবে না। শুধু যন্ত্রটি যোগ করে নিতে হবে মোবাইল অ্যাপের সঙ্গে। তার পরেই সে তার কাজ শুরু করে দেবে।

ছোট্ট একটি যন্ত্র শরীরের ভঙ্গিমা ঠিক রাখবে।

ছোট্ট একটি যন্ত্র শরীরের ভঙ্গিমা ঠিক রাখবে। ছবি: সংগৃহীত।

প্রশিক্ষকের মতোই নির্দেশ দেবে এ যন্ত্র। এটি কাজ করবে দুই পদ্ধতিতে— ১) ক্যামেরা ভিত্তিক যা কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের ক্যামেরা ব্যবহার করে কাঁধ, ঘাড় ও মেরুদণ্ডের অবস্থান নজরে রাখবে। কখন ঝুঁকে বসছেন অথবা কখন হাঁটতে গিয়ে কুঁজো হয়ে যাচ্ছেন, কত ক্ষণ বসার পর আপনার পেশিও অসাড় হয়ে যাচ্ছে, সে সব জানিয়ে সতর্ক করবে। লাগাতার নোটিফিকেশন পাঠাতে থাকবে মোবাইলে।

২) দ্বিতীয়টি হল সেন্সর ভিত্তিক, সেটি ছোট এক ডিভাইস যা পিঠে বা পোশাকে লাগিয়ে নিতে হবে। এতে থাকা সেন্সর শরীরের বিভিন্ন ভঙ্গিমা খেয়াল রাখবে। আপনার শরীরের গঠন অনুযায়ী বসার ভঙ্গি কেমন হবে, কী ভাবে বসবেন, কত ক্ষণই বা টানা বসবেন, সে সব হিসেব কষে ঠিক করবে এবং সময় মতো জানিয়ে দেবে। ভঙ্গি ভুল হলেই শরীরে মৃদু টোকা (কম্পন) দিয়ে বুঝিয়ে দেবে, যে ভুল ভঙ্গিতে বসে আছেন।

বসার ভঙ্গিও ঠিক করে দেবে এআই যন্ত্র।

বসার ভঙ্গিও ঠিক করে দেবে এআই যন্ত্র। ছবি: সংগৃহীত।

লাভ কতটা

এআই নির্ভর নানা যন্ত্রপাতি এখন রোজের যাপনের অঙ্গ হয়ে উঠেছে। কেউই বেশি পরিশ্রম করতে বা মাথা ঘামাতে চান না। পয়সা খরচ করে যদি এমন যন্ত্র পাওয়া যায়, যা আপনারই খেয়াল রাখবে, তা হলে সেটিই সবচেয়ে ভাল বলে বিবেচিত হয়। এ ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। এআই যন্ত্রটি নিয়ে এখন আলোচনা হচ্ছে বেশি। বেশির ভাগ মানুষই দিনের অনেকটা সময় বসে কাজ করেন। এতে কোমর, পিঠ ও নিতম্বের পেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্নায়ু আর পেশির ব্যথা জট পাকিয়ে যায় অনেক সময়েই।

সিউড়ি সদর হাসপাতালের অস্থিরোগ চিকিৎসক সু্ব্রত গড়াই জানাচ্ছেন, পায়ের ব্যথায় ভুগছেন যিনি, তাঁর কিছু দিন পরে নিতম্বের ব্যথাও হতে পারে। পিঠ-কোমর থেকে ব্যথা নিতম্বে নামতে পারে। সায়াটিকা ব্যথার কারণেও নিতম্বের পেশিতে টান ধরতে পারে। সায়াটিকা আমাদের শরীরের দীর্ঘতম ও সবচেয়ে মোটা স্নায়ু। যা শুরু হয় মেরুদণ্ড থেকে। এর একাধিক রুটের মধ্যে কিছুটা থাকে কোমরের নীচের দিকে লাম্বার স্পাইনে। সেখানে আঘাত পেলেও এই ব্যথা হয়। সে জন্য এই সমস্যাকে ‘লাম্বোসায়াটিকা পেন’ বলা হয়। এর থেকেও পিঠ-কোমর ও নিতম্বে ব্যথা হয়। এই যন্ত্রটি থাকলে এমন ব্যথাবেদনা কমবে।

এআই যন্ত্রটি অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। সেন্সর ভিত্তিক ডিভাইসের দাম ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ২০ হাজার বা তারও বেশি হতে পারে। সেটি ব্র্যান্ড ও যন্ত্রের ধরনের উপর নির্ভর করবে।

Advertisement
আরও পড়ুন