Worst Pandemics in History

অজানা রোগের বলি কোটি কোটি মানুষ, যুগে যুগে চোখ রাঙিয়েছে রহস্যময় অসুখ, কী সেই ইতিহাস?

কোথাও 'নাচের মড়ক', তো কোথাও 'ঘুম-রোগ'। বিশ্ব-ইতিহাসে এমন বহু মারণ রোগের লিখিত উল্লেখ মেলে, যেগুলি লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনহানির কারণ হয়েছে। গ্রাস করেছে আস্ত কোনও সভ্যতাকে। বাংলার বুকেও লেখা হয়েছে প্রাণঘাতী কলঙ্কিত কিছু রোগের ইতিহাস।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ ০৯:৫৯
০১ ২৫
শাম্বপুরাণে, যাকে ভিত্তি করে কালকূট (সমরেশ বসু) লিখেছিলেন 'শাম্ব' উপন্যাসটি, তাতে উল্লেখ আছে যে, শ্রীকৃষ্ণ-জাম্ববতীর পুত্র শাম্ব ঋষি দুর্বাসার সাপে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং সূর্যের উপাসনা করে তা থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। কুষ্ঠ বা হ্যানসেন রোগ পৃথিবীর প্রাচীনতম ব্যাধিগুলির মধ্যে অন্যতম, যাকে আজকেও বিশ্ব থেকে নির্মূল করা যায়নি। বিশ্ব-ইতিহাসে এমন বহু মহামারির লিখিত উল্লেখ মেলে, যেগুলি খুব দ্রুত কোনও জনগোষ্ঠীর মধ্যে বা দেশ থেকে দেশান্তরে প্রবল আকার ধারণ করেছিল। লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনহানির কারণ হয়েছে। ‘‘মন্বন্তরে মরিনি আমরা, মারী নিয়ে ঘর করি’’, কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের লেখনীতেই স্পষ্ট যে বাঙালি জাতিও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইতিহাসের ভয়ঙ্করতম অতিমারি (মারী) ও দুর্ভিক্ষ (মন্বন্তর) সহ্য করেছে। দাঁড়িয়েছে মৃত্যুর মুখোমুখি। ইতিহাসে 'অভিশপ্ত' তকমা পেয়েছে এমন কিছু রোগ ও মহামারির কারণ আজও অজানা।

শাম্বপুরাণে, যাকে ভিত্তি করে কালকূট (সমরেশ বসু) লিখেছিলেন 'শাম্ব' উপন্যাসটি, তাতে উল্লেখ আছে যে, শ্রীকৃষ্ণ-জাম্ববতীর পুত্র শাম্ব ঋষি দুর্বাসার সাপে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং সূর্যের উপাসনা করে তা থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। কুষ্ঠ বা হ্যানসেন রোগ পৃথিবীর প্রাচীনতম ব্যাধিগুলির মধ্যে অন্যতম, যাকে আজকেও বিশ্ব থেকে নির্মূল করা যায়নি। বিশ্ব-ইতিহাসে এমন বহু মহামারির লিখিত উল্লেখ মেলে, যেগুলি খুব দ্রুত কোনও জনগোষ্ঠীর মধ্যে বা দেশ থেকে দেশান্তরে প্রবল আকার ধারণ করেছিল। লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবনহানির কারণ হয়েছে। ‘‘মন্বন্তরে মরিনি আমরা, মারী নিয়ে ঘর করি’’, কবি সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের লেখনীতেই স্পষ্ট যে বাঙালি জাতিও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইতিহাসের ভয়ঙ্করতম অতিমারি (মারী) ও দুর্ভিক্ষ (মন্বন্তর) সহ্য করেছে। দাঁড়িয়েছে মৃত্যুর মুখোমুখি। ইতিহাসে 'অভিশপ্ত' তকমা পেয়েছে এমন কিছু রোগ ও মহামারির কারণ আজও অজানা।

০২ ২৫
ব্ল্যাক ডেথ:  মানব ইতিহাসের সবচেয়ে কালো অধ্যায়। সময়কাল ১৩৪৬ থেকে ১৩৫১ খ্রিস্টাব্দ। কৃষ্ণসাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চল থেকে এই রোগের উৎপত্তি ঘটে। কৃষ্ণসাগর ছিল সে সময়ে ইউরোপ ও এশিয়ায় বাণিজ্য চালানোর অন্যতম জলপথ। ইউরোপ, এশিয়া এবং উত্তর আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অভিশাপ হয়ে নেমে আসে ‘কালো মৃত্যু’।

ব্ল্যাক ডেথ: মানব ইতিহাসের সবচেয়ে কালো অধ্যায়। সময়কাল ১৩৪৬ থেকে ১৩৫১ খ্রিস্টাব্দ। কৃষ্ণসাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চল থেকে এই রোগের উৎপত্তি ঘটে। কৃষ্ণসাগর ছিল সে সময়ে ইউরোপ ও এশিয়ায় বাণিজ্য চালানোর অন্যতম জলপথ। ইউরোপ, এশিয়া এবং উত্তর আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে অভিশাপ হয়ে নেমে আসে ‘কালো মৃত্যু’।

০৩ ২৫
ইঁদুর ও মাছির মাধ্যমে প্লেগের জীবাণু ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস ছড়িয়ে পড়ে বাণিজ্য তরীগুলিতে। আক্রান্ত নাবিকেরা যে দেশে বাণিজ্য করতে যেতেন, সেখানেই ছড়াত রোগ। জানা যায়, ইউরোপের মোট জনসংখ্যার ৩০-৬০ ভাগ মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছিল ব্ল্যাক ডেথ। আক্রান্তের সারা শরীর ভরে যেত পচা-দুর্গন্ধযুক্ত ক্ষতে। মৃত্যু হত সাত দিনেই। প্রজন্মের পর প্রজন্মকে এই অভিশপ্ত রোগের ক্ষত বহন করতে হয়েছিল।

ইঁদুর ও মাছির মাধ্যমে প্লেগের জীবাণু ইয়েরসিনিয়া পেস্টিস ছড়িয়ে পড়ে বাণিজ্য তরীগুলিতে। আক্রান্ত নাবিকেরা যে দেশে বাণিজ্য করতে যেতেন, সেখানেই ছড়াত রোগ। জানা যায়, ইউরোপের মোট জনসংখ্যার ৩০-৬০ ভাগ মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছিল ব্ল্যাক ডেথ। আক্রান্তের সারা শরীর ভরে যেত পচা-দুর্গন্ধযুক্ত ক্ষতে। মৃত্যু হত সাত দিনেই। প্রজন্মের পর প্রজন্মকে এই অভিশপ্ত রোগের ক্ষত বহন করতে হয়েছিল।

Advertisement
০৪ ২৫
জাস্টিনিয়ান প্লেগ:  বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের পতনের অন্যতম কারণ হয়েছিল এই রোগ। সময়কাল ৫৪১– ৫৪২ খ্রিস্টাব্দ। বাইজান্টিয়ামের রাজধানী কনস্ট্যান্টিনোপলে (বর্তমানে ইস্তাম্বুল) এই রোগের সূত্রপাত হলেও পরে তা গোটা ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে।

জাস্টিনিয়ান প্লেগ: বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের পতনের অন্যতম কারণ হয়েছিল এই রোগ। সময়কাল ৫৪১– ৫৪২ খ্রিস্টাব্দ। বাইজান্টিয়ামের রাজধানী কনস্ট্যান্টিনোপলে (বর্তমানে ইস্তাম্বুল) এই রোগের সূত্রপাত হলেও পরে তা গোটা ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ে।

০৫ ২৫
এটিও ছিল প্লেগেরই এক আদি রূপ। সম্রাট জাস্টিনিয়ানের রাজত্বকালে এই অতিমারি এত ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছিল যে, প্রতি দিন গড়ে ৫০০০ থেকে ৬০০০ হাজার মানুষের মৃত্যু হত। মৃতদেহ সৎকারের জায়গা না থাকায় শহরের বড় বড় টাওয়ারে মৃতদেহ স্তূপাকৃতি হয়ে জমে থাকত। শোনা যায়, রোমান সাম্রাজ্যের অর্থনীতির ধ্বংসের নেপথ্যেও ছিল এই অভিশপ্ত রোগ।

এটিও ছিল প্লেগেরই এক আদি রূপ। সম্রাট জাস্টিনিয়ানের রাজত্বকালে এই অতিমারি এত ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছিল যে, প্রতি দিন গড়ে ৫০০০ থেকে ৬০০০ হাজার মানুষের মৃত্যু হত। মৃতদেহ সৎকারের জায়গা না থাকায় শহরের বড় বড় টাওয়ারে মৃতদেহ স্তূপাকৃতি হয়ে জমে থাকত। শোনা যায়, রোমান সাম্রাজ্যের অর্থনীতির ধ্বংসের নেপথ্যেও ছিল এই অভিশপ্ত রোগ।

Advertisement
০৬ ২৫
স্পেনীয় ফ্লু: প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে ১৯১৮ সালের মার্চ মাসের এক সকালে গলা ব্যথা, জ্বর নিয়ে ঘুম ভাঙে আমেরিকার সেনাবাহিনীর রাঁধুনি অ্যালবার্ট গিচেলের। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কানসাসের ওই সেনা-শিবিরের আরও অনেক সেনাই একই উপসর্গে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন।  প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে সেনাবাহিনীর এক জায়গা থেকে অন্যত্র যাতায়াতের মাধ্যমে এই রোগ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, স্পেন ও ইটালিতে।

স্পেনীয় ফ্লু: প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার ঠিক আগে ১৯১৮ সালের মার্চ মাসের এক সকালে গলা ব্যথা, জ্বর নিয়ে ঘুম ভাঙে আমেরিকার সেনাবাহিনীর রাঁধুনি অ্যালবার্ট গিচেলের। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কানসাসের ওই সেনা-শিবিরের আরও অনেক সেনাই একই উপসর্গে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কারণে সেনাবাহিনীর এক জায়গা থেকে অন্যত্র যাতায়াতের মাধ্যমে এই রোগ দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, স্পেন ও ইটালিতে।

০৭ ২৫
ইতিহাস এই সংক্রমণকে চেনে ‘স্প্যানিশ ফ্লু’ নামে। সময়কাল ছিল  ১৯১৮ – ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দ। করোনার মতো স্প্যানিশ ফ্লুয়েরও তিনটি ওয়েভ (ঢেউ) আসে, যা বিশ্বের তৎকালীন জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশকে (প্রায় ৫০ কোটি) সংক্রমিত করে। প্রায় ৫ থেকে ১০ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়।

ইতিহাস এই সংক্রমণকে চেনে ‘স্প্যানিশ ফ্লু’ নামে। সময়কাল ছিল ১৯১৮ – ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দ। করোনার মতো স্প্যানিশ ফ্লুয়েরও তিনটি ওয়েভ (ঢেউ) আসে, যা বিশ্বের তৎকালীন জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশকে (প্রায় ৫০ কোটি) সংক্রমিত করে। প্রায় ৫ থেকে ১০ কোটি মানুষের মৃত্যু হয়।

Advertisement
০৮ ২৫
স্মল পক্স বা গুটিবসন্ত: বসন্ত রোগকে এখন কে আর ভয় পায়! কিন্তু ১৫২০ খ্রিস্টাব্দ এবং তার পরবর্তী সময়ে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় (বিশেষ করে মেক্সিকো ও পেরু) এই রোগই হয়ে উঠেছিল বিভীষিকা। প্লেগের মতোই অপর একটি ভয়ঙ্কর অতিমারির জন্ম দিয়েছিল ‘স্মল পক্স’।

স্মল পক্স বা গুটিবসন্ত: বসন্ত রোগকে এখন কে আর ভয় পায়! কিন্তু ১৫২০ খ্রিস্টাব্দ এবং তার পরবর্তী সময়ে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকায় (বিশেষ করে মেক্সিকো ও পেরু) এই রোগই হয়ে উঠেছিল বিভীষিকা। প্লেগের মতোই অপর একটি ভয়ঙ্কর অতিমারির জন্ম দিয়েছিল ‘স্মল পক্স’।

০৯ ২৫
ইউরোপীয় অভিযাত্রীরা যখন আমেরিকায় পা রাখেন, তখন তাঁরা অজান্তেই রোগের জীবাণু শরীরে বয়ে নিয়ে আসেন। দক্ষিণ আমেরিকার প্রাচীন সভ্যতাগুলিতে (আজ়টেক ও ইনকা সভ্যতা) এই রোগ ঠেকানোর উপায় জানা ছিল না। ফলে কয়েক বছরের মধ্যে আজ়টেক সাম্রাজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষের বসন্ত রোগে মৃত্যু হয়। ১৬৩৩ সালে আমেরিকার ম্যাসাচুসেটসে রোগটি ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় দু’কোটি মানুষের মৃত্যু হয়।

ইউরোপীয় অভিযাত্রীরা যখন আমেরিকায় পা রাখেন, তখন তাঁরা অজান্তেই রোগের জীবাণু শরীরে বয়ে নিয়ে আসেন। দক্ষিণ আমেরিকার প্রাচীন সভ্যতাগুলিতে (আজ়টেক ও ইনকা সভ্যতা) এই রোগ ঠেকানোর উপায় জানা ছিল না। ফলে কয়েক বছরের মধ্যে আজ়টেক সাম্রাজ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষের বসন্ত রোগে মৃত্যু হয়। ১৬৩৩ সালে আমেরিকার ম্যাসাচুসেটসে রোগটি ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় দু’কোটি মানুষের মৃত্যু হয়।

১০ ২৫
দ্য ডান্সিং প্লেগ:  ১৫১৮ সাল। বর্তমান ফ্রান্সের স্ট্রসবার্গে 'নাচের মড়ক' লাগে। ফ্রাউ তোফ্রিয়া নামের এক মহিলা মাঝরাস্তায় নাচতে শুরু করেন। দিনভর সে নাচ থামেনি। সপ্তাহখানেক পর দেখা যায়, আরও ৩৪ জন এবং এক মাসের মধ্যে প্রায় ৪০০ জন সে নাচে যোগ দেন। দিন নেই, রাত নেই, উদ্দাম সে নৃত্য। শেষে ক্লান্তি, স্ট্রোক ও হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে বহু জনের মৃত্যু হয়।

দ্য ডান্সিং প্লেগ: ১৫১৮ সাল। বর্তমান ফ্রান্সের স্ট্রসবার্গে 'নাচের মড়ক' লাগে। ফ্রাউ তোফ্রিয়া নামের এক মহিলা মাঝরাস্তায় নাচতে শুরু করেন। দিনভর সে নাচ থামেনি। সপ্তাহখানেক পর দেখা যায়, আরও ৩৪ জন এবং এক মাসের মধ্যে প্রায় ৪০০ জন সে নাচে যোগ দেন। দিন নেই, রাত নেই, উদ্দাম সে নৃত্য। শেষে ক্লান্তি, স্ট্রোক ও হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে বহু জনের মৃত্যু হয়।

১১ ২৫
নাচের মড়ককে ইতিহাস চেনে ‘ডান্সিং প্লেগ’ নামে। নৃত্যের এমন উন্মাদনা কেন তৈরি হয়, তা আজও জানা যায়নি। শোনা যায়, খাবারের মাধ্যমে বিষাক্ত এক ছত্রাকের সংক্রমণ ঘটে নৃত্য-রোগে আক্রান্ত হন অগণিত মানুষ। আবার অন্য মতে, এই উন্মাদনার নেপথ্যে ছিল মনস্তাত্ত্বিক কারণ বা ‘মাস হিস্টিরিয়া’। দুর্ভিক্ষ, মহামারি, চরম দারিদ্রে জর্জরিত মানুষ অবসাদের শিকার হতে হতে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিল।

নাচের মড়ককে ইতিহাস চেনে ‘ডান্সিং প্লেগ’ নামে। নৃত্যের এমন উন্মাদনা কেন তৈরি হয়, তা আজও জানা যায়নি। শোনা যায়, খাবারের মাধ্যমে বিষাক্ত এক ছত্রাকের সংক্রমণ ঘটে নৃত্য-রোগে আক্রান্ত হন অগণিত মানুষ। আবার অন্য মতে, এই উন্মাদনার নেপথ্যে ছিল মনস্তাত্ত্বিক কারণ বা ‘মাস হিস্টিরিয়া’। দুর্ভিক্ষ, মহামারি, চরম দারিদ্রে জর্জরিত মানুষ অবসাদের শিকার হতে হতে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিল।

১২ ২৫
ইংলিশ সোয়েটিক সিকনেস: ঘামই যখন মহামারি। সময়কাল পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দী (১৪৮৫ – ১৫৫১ খ্রিস্টাব্দ)। ইংল্যান্ড ও ইউরোপে হানা দেয় ঘাম-রোগ। দরদর করে ঘামতে ঘামতেই মৃত্যু হয়েছিল বহু মানুষের।

ইংলিশ সোয়েটিক সিকনেস: ঘামই যখন মহামারি। সময়কাল পঞ্চদশ ও ষোড়শ শতাব্দী (১৪৮৫ – ১৫৫১ খ্রিস্টাব্দ)। ইংল্যান্ড ও ইউরোপে হানা দেয় ঘাম-রোগ। দরদর করে ঘামতে ঘামতেই মৃত্যু হয়েছিল বহু মানুষের।

১৩ ২৫
তীব্র জ্বর, সঙ্গে কাঁপুনি ছিল প্রাথমিক লক্ষণ। তার পরেই শুরু হত কালঘাম। সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষ ঘামতে ঘামতে ঘণ্টা তিনেকের মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ত। শোনা যায়, রাজা অষ্টম হেনরিও এ রোগে আক্রান্ত হন। ১৫৫১ সালের পর রোগটি আচমকাই উধাও হয়ে যায়। কী এই রোগ, কেনই বা হানা দিয়েছিল— সে কারণ আজও অজানা।

তীব্র জ্বর, সঙ্গে কাঁপুনি ছিল প্রাথমিক লক্ষণ। তার পরেই শুরু হত কালঘাম। সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষ ঘামতে ঘামতে ঘণ্টা তিনেকের মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ত। শোনা যায়, রাজা অষ্টম হেনরিও এ রোগে আক্রান্ত হন। ১৫৫১ সালের পর রোগটি আচমকাই উধাও হয়ে যায়। কী এই রোগ, কেনই বা হানা দিয়েছিল— সে কারণ আজও অজানা।

১৪ ২৫
এনসেফেলাইটিস লেথারজিকা: সময়কাল ১৯১৫ থেকে ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলছে। ইউরোগ ও আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ে এক রহস্যময় রোগ। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়তেন মানুষজন। যাঁদের ঘুম ভাঙত তাঁরা বেঁচে যেতেন, যাঁদের ভাঙত না তাঁরা মৃত্যুর অতলে তলিয়ে যেতেন।

এনসেফেলাইটিস লেথারজিকা: সময়কাল ১৯১৫ থেকে ১৯২৬ খ্রিষ্টাব্দ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ চলছে। ইউরোগ ও আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ে এক রহস্যময় রোগ। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়তেন মানুষজন। যাঁদের ঘুম ভাঙত তাঁরা বেঁচে যেতেন, যাঁদের ভাঙত না তাঁরা মৃত্যুর অতলে তলিয়ে যেতেন।

১৫ ২৫
ইতিহাস এ রোগকে চেনে 'ঘুমের মড়ক' বা ‘স্লিপিং সিকনেস’ নামে। চরম ক্লান্তি, তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়া, প্রচণ্ড মাথাযন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে মৃত্যু হত। যাঁরা বেঁচে ফিরতেন, তাঁদের অনেকেই পক্ষাঘাতে পঙ্গু হয়ে যেতেন অথবা চলচ্ছক্তিহীন ‘জীবন্ত মূর্তি’ হয়ে থেকে যেতেন। শোনা যায়, ১০ লক্ষেরও বেশি মৃত্যু হয় ঘুম-রোগে। ১৯২৬ সালে রোগটি আচমকাই উধাও হয়ে যায়।

ইতিহাস এ রোগকে চেনে 'ঘুমের মড়ক' বা ‘স্লিপিং সিকনেস’ নামে। চরম ক্লান্তি, তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়া, প্রচণ্ড মাথাযন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে মৃত্যু হত। যাঁরা বেঁচে ফিরতেন, তাঁদের অনেকেই পক্ষাঘাতে পঙ্গু হয়ে যেতেন অথবা চলচ্ছক্তিহীন ‘জীবন্ত মূর্তি’ হয়ে থেকে যেতেন। শোনা যায়, ১০ লক্ষেরও বেশি মৃত্যু হয় ঘুম-রোগে। ১৯২৬ সালে রোগটি আচমকাই উধাও হয়ে যায়।

১৬ ২৫
কোকোলিজ়লি বা রক্তের মহামারি:  নাক-মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসত রক্ত। শরীরের ভিতরে শুরু হত রক্তক্ষরণ। রক্ত ঝরতে ঝরতেই মৃত্যু হত। ১৬ শতকে মেক্সিকো এবং গুয়াতেমালায় ছড়িয়ে পড়ে রক্তক্ষরা রোগ। স্থানীয় নাতাল ভাষায় যাকে বলা হত ‘কোকোলিজ়লি’ যার অর্থ অতিমারি।

কোকোলিজ়লি বা রক্তের মহামারি: নাক-মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসত রক্ত। শরীরের ভিতরে শুরু হত রক্তক্ষরণ। রক্ত ঝরতে ঝরতেই মৃত্যু হত। ১৬ শতকে মেক্সিকো এবং গুয়াতেমালায় ছড়িয়ে পড়ে রক্তক্ষরা রোগ। স্থানীয় নাতাল ভাষায় যাকে বলা হত ‘কোকোলিজ়লি’ যার অর্থ অতিমারি।

১৭ ২৫
১৫৪৫ থেকে ১৫৪৮ এবং ১৫৭৬ থেকে ১৫৭৮ সালের মধ্যে রোগটি ভয়াবহ রূপে আছড়ে পড়ে। আদিবাসী অধুষ্যিত জনগোষ্ঠীর মধ্যেই রোগটি ছড়াতে শুরু করে। এক একটি জনপদের প্রায় ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষকে এই রোগ নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষায় সালমোনেল্লা ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, রোগটি ঠিক কী, তা আজও জানা যায়নি।

১৫৪৫ থেকে ১৫৪৮ এবং ১৫৭৬ থেকে ১৫৭৮ সালের মধ্যে রোগটি ভয়াবহ রূপে আছড়ে পড়ে। আদিবাসী অধুষ্যিত জনগোষ্ঠীর মধ্যেই রোগটি ছড়াতে শুরু করে। এক একটি জনপদের প্রায় ৫০ থেকে ৮০ শতাংশ আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষকে এই রোগ নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিল। পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষায় সালমোনেল্লা ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণের ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও, রোগটি ঠিক কী, তা আজও জানা যায়নি।

১৮ ২৫
বর্ধমান জ্বর: বাংলার বুকে অভিশাপ হয়ে নেমেছিল এক মারণ রোগ। সেটা ছিল ১৮৬০-১৮৮০-র দশক। ‘বর্ধমান জ্বর’ নামে পরিচিত সেই রোগ তখন প্রাণ কেড়েছিল বহু মানুষের। শুধু বর্ধমান নয়, তৎকালীন সময়ে দক্ষিণবঙ্গের একের পরে এক গ্রাম উজাড় হয়ে গিয়েছিল। বহু জনপদ মুছে গিয়েছিল মানচিত্র থেকে। মাঠে ফসল কাটার লোক ছিল না, মৃতদেহ সৎকার করার মতো মানুষও পাওয়া যেত না।

বর্ধমান জ্বর: বাংলার বুকে অভিশাপ হয়ে নেমেছিল এক মারণ রোগ। সেটা ছিল ১৮৬০-১৮৮০-র দশক। ‘বর্ধমান জ্বর’ নামে পরিচিত সেই রোগ তখন প্রাণ কেড়েছিল বহু মানুষের। শুধু বর্ধমান নয়, তৎকালীন সময়ে দক্ষিণবঙ্গের একের পরে এক গ্রাম উজাড় হয়ে গিয়েছিল। বহু জনপদ মুছে গিয়েছিল মানচিত্র থেকে। মাঠে ফসল কাটার লোক ছিল না, মৃতদেহ সৎকার করার মতো মানুষও পাওয়া যেত না।

১৯ ২৫
১৮৭৪ সালে প্রকাশিত ‘ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল গেজেট’ ওই মহামারিকে ‘বর্ধমান জ্বর’ বলে স্বীকৃতি দিয়েছিল, যা আদতে ম্যালেরিয়া বলে মনে করা হয়। তবে কেউ কেউ ‘টাইফয়েড’ বা ‘কালাজ্বর’ বলেও মনে করেছিলেন। শোনা যায়, রোগীদের সেবা করার জন্য বর্ধমানে এসে থেকেছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

১৮৭৪ সালে প্রকাশিত ‘ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল গেজেট’ ওই মহামারিকে ‘বর্ধমান জ্বর’ বলে স্বীকৃতি দিয়েছিল, যা আদতে ম্যালেরিয়া বলে মনে করা হয়। তবে কেউ কেউ ‘টাইফয়েড’ বা ‘কালাজ্বর’ বলেও মনে করেছিলেন। শোনা যায়, রোগীদের সেবা করার জন্য বর্ধমানে এসে থেকেছিলেন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।

২০ ২৫
এশিয়াটিক কলেরা: বঙ্গজীবনে অতিমারির তালিকায় করোনার নাম নথিভুক্ত হওয়ার ঢের আগেই অন্য যে রোগটি ছিল, তার নাম কলেরা। উনিশ শতক থেকে একাধিক বার বঙ্গবাসী কলেরার মুখোমুখি হয়ছে। ঘন ঘন ভেদবমির পরই দ্রুত মৃত্যুমুখে ঢলে পড়া— কলেরার ভয়ঙ্করতম রূপটি বারে বারেই ফিরে এসেছে ইতিহাসের পাতায়। যশোর জেলা থেকে শুরু হয়ে ‘এশিয়াটিক কলেরা’ প্রথমে সমগ্র অবিভক্ত বাংলা ও পরে  বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে সেই সময়।

এশিয়াটিক কলেরা: বঙ্গজীবনে অতিমারির তালিকায় করোনার নাম নথিভুক্ত হওয়ার ঢের আগেই অন্য যে রোগটি ছিল, তার নাম কলেরা। উনিশ শতক থেকে একাধিক বার বঙ্গবাসী কলেরার মুখোমুখি হয়ছে। ঘন ঘন ভেদবমির পরই দ্রুত মৃত্যুমুখে ঢলে পড়া— কলেরার ভয়ঙ্করতম রূপটি বারে বারেই ফিরে এসেছে ইতিহাসের পাতায়। যশোর জেলা থেকে শুরু হয়ে ‘এশিয়াটিক কলেরা’ প্রথমে সমগ্র অবিভক্ত বাংলা ও পরে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে সেই সময়।

২১ ২৫
১৮১৭ সালে যশোরের সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় কলেরার প্রকোপ শুরু হয়। দূষিত জল থেকে ঘটা সংক্রমণে মৃত্যু হত কয়েক ঘণ্টায়। গ্রামের পর গ্রাম উজাড় হয়ে যেতে থাকে। বাংলায় একে ‘ওলাবিবির কোপ’ বলা হত। ১৮১৭ থেকে ১৮২১ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হন। এখনকার বিজ্ঞানীরা সেই সময়টিকে ‘প্রথম কলেরা প্যানডেমিক’ নামে আখ্যায়িত করে থাকেন।

১৮১৭ সালে যশোরের সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় কলেরার প্রকোপ শুরু হয়। দূষিত জল থেকে ঘটা সংক্রমণে মৃত্যু হত কয়েক ঘণ্টায়। গ্রামের পর গ্রাম উজাড় হয়ে যেতে থাকে। বাংলায় একে ‘ওলাবিবির কোপ’ বলা হত। ১৮১৭ থেকে ১৮২১ পর্যন্ত হাজার হাজার মানুষ আক্রান্ত হন। এখনকার বিজ্ঞানীরা সেই সময়টিকে ‘প্রথম কলেরা প্যানডেমিক’ নামে আখ্যায়িত করে থাকেন।

২২ ২৫
কলকাতা প্লেগ: : ১৮৯৮– ১৯০০ সাল। কলকাতা এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী ছিল। লক্ষ লক্ষ মানুষজন তখন শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন নিরাপদ কোনও আশ্রয়ের সন্ধানে। অসূর্যম্পশ্যা অন্তঃপুরবাসিনীদের পর্যন্ত দেখা গিয়েছিল পায়ে হেঁটে বহু রাস্তা পাড়ি দিতে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন,  “যে বছর কলিকাতা শহরে প্রথম প্লেগ দেখা দিল তখন প্লেগের চেয়ে তার রাজতকমা-পরা চাপরাসির ভয়ে লোকে ব্যস্ত হইয়াছিল।”

কলকাতা প্লেগ: : ১৮৯৮– ১৯০০ সাল। কলকাতা এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের সাক্ষী ছিল। লক্ষ লক্ষ মানুষজন তখন শহর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন নিরাপদ কোনও আশ্রয়ের সন্ধানে। অসূর্যম্পশ্যা অন্তঃপুরবাসিনীদের পর্যন্ত দেখা গিয়েছিল পায়ে হেঁটে বহু রাস্তা পাড়ি দিতে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন, “যে বছর কলিকাতা শহরে প্রথম প্লেগ দেখা দিল তখন প্লেগের চেয়ে তার রাজতকমা-পরা চাপরাসির ভয়ে লোকে ব্যস্ত হইয়াছিল।”

২৩ ২৫
প্লেগের আবির্ভাব প্রথম হয় তৎকালীন বোম্বাই শহরে, ১৮৯৬-তে। ১৮৯৮-এর এপ্রিল নাগাদ প্লেগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতা ছেড়ে পালাতে শুরু করেন বহু মানুষ। সে সময়ে দার্জিলিং থেকে ফিরে আতঙ্কিত মানুষজনের সেবায় নিয়োজিত হন স্বামী বিবেকানন্দ। ত্রাণ ও পরিচ্ছন্নতার অভিযানে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে প্লেগ থেকে মানুষকে রক্ষার কাজে নিয়োজিত হয়েছিলেন ভগিনী নিবেদিতাও। দরিদ্র বস্তিবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি শেখানো, সাফাই অভিযান পরিচালনা, রোগাক্রান্তদের সেবাই ছিল তাঁদের লক্ষ্য।

প্লেগের আবির্ভাব প্রথম হয় তৎকালীন বোম্বাই শহরে, ১৮৯৬-তে। ১৮৯৮-এর এপ্রিল নাগাদ প্লেগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতা ছেড়ে পালাতে শুরু করেন বহু মানুষ। সে সময়ে দার্জিলিং থেকে ফিরে আতঙ্কিত মানুষজনের সেবায় নিয়োজিত হন স্বামী বিবেকানন্দ। ত্রাণ ও পরিচ্ছন্নতার অভিযানে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে প্লেগ থেকে মানুষকে রক্ষার কাজে নিয়োজিত হয়েছিলেন ভগিনী নিবেদিতাও। দরিদ্র বস্তিবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি শেখানো, সাফাই অভিযান পরিচালনা, রোগাক্রান্তদের সেবাই ছিল তাঁদের লক্ষ্য।

২৪ ২৫
কুষ্ঠ রোগ: কুষ্ঠ বা হ্যানসেন রোগ বহু প্রাচীন। ভারতে খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ ও তৃতীয় শতকের সুশ্রুত ও চরক সংহিতায় কুষ্ঠরোগের সুস্পষ্ট বিবরণ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে নানা গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়া বা ভারতীয় উপমহাদেশে এই রোগের শিকড় রয়েছে।

কুষ্ঠ রোগ: কুষ্ঠ বা হ্যানসেন রোগ বহু প্রাচীন। ভারতে খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ ও তৃতীয় শতকের সুশ্রুত ও চরক সংহিতায় কুষ্ঠরোগের সুস্পষ্ট বিবরণ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে নানা গবেষণায় দেখা গিয়েছে, দক্ষিণ এশিয়া বা ভারতীয় উপমহাদেশে এই রোগের শিকড় রয়েছে।

২৫ ২৫
১৮৭০-এর দশকের প্রথম জনগণনা থেকে জানা যায়, ইংরেজ শাসনাধীন ভারতে সম্ভবত ৯৯ হাজার ৭৩ জন কুষ্ঠরোগী ছিলেন। এই সংখ্যা নিয়ে অবশ্য বিতর্কের অবকাশ আছে। কুষ্ঠ রোগকে সে সময়ে অভিশাপ বলেই মনে করা হত। রোগীকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হত সমাজ থেকে। সামাজিক বৈষম্য ও পরিবার থেকে বিতাড়িত হওয়ার ভয়ে অনেকেই এই রোগ লুকিয়ে রাখতেন। রাজস্থানের উদয়পুরের কাছে বালাথালে প্রত্নতাত্ত্বিকদের উদ্ধার করা ৪০০০ বছরের পুরনো কঙ্কালে কুষ্ঠরোগের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। তাই কুষ্ঠ রোগের ইতিহাস কত পুরনো, তা নিয়ে নানা মত রয়েছে।

১৮৭০-এর দশকের প্রথম জনগণনা থেকে জানা যায়, ইংরেজ শাসনাধীন ভারতে সম্ভবত ৯৯ হাজার ৭৩ জন কুষ্ঠরোগী ছিলেন। এই সংখ্যা নিয়ে অবশ্য বিতর্কের অবকাশ আছে। কুষ্ঠ রোগকে সে সময়ে অভিশাপ বলেই মনে করা হত। রোগীকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হত সমাজ থেকে। সামাজিক বৈষম্য ও পরিবার থেকে বিতাড়িত হওয়ার ভয়ে অনেকেই এই রোগ লুকিয়ে রাখতেন। রাজস্থানের উদয়পুরের কাছে বালাথালে প্রত্নতাত্ত্বিকদের উদ্ধার করা ৪০০০ বছরের পুরনো কঙ্কালে কুষ্ঠরোগের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। তাই কুষ্ঠ রোগের ইতিহাস কত পুরনো, তা নিয়ে নানা মত রয়েছে।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
আরও গ্যালারি