চোখের মেকআপ করতে হবে আরও বেশি সতর্ক হয়ে। ছবি: সংগৃহীত।
অনেকেই আছেন যাঁরা মেকআপ করতে পছন্দ করেন না, তবুও চোখের কাজলটুকু না পরলেই নয়। অনেকে আবার রূপটানের ক্ষেত্রে চোখের মেকআপকেই বেশি গুরুত্ব দেন। চোখের সাজ যতই সুন্দর হোক, সঠিক যত্ন না নিলে চোখের ক্ষতি হতে পারে। মেকআপ করে সারা দিন বাইরে ঘোরার পর রাতেও যদি তা রেখে দেন, তা হলে ত্বকে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। একই ভাবে চোখের মেকআপ না তুলে ঘুমোলে চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তরুণ প্রজন্মের অনেকেই, বিশেষত মহিলারা চোখ জ্বালা, র্যাশের সমস্যায় ভুগছেন। তাঁর পর্যবেক্ষণ, এর নেপথ্যে থাকতে পারে প্রসাধনীর মাত্রাতিরিক্ত বা অসচেতন ব্যবহার। বিশেষত যাঁরা নিয়মিত চোখের মেকআপ করেন, সমস্যা তাঁদেরই সবচেয়ে বেশি হতে পারে।
প্রসাধনীর প্রভাবে চোখে কোন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে?
১) চোখের পাতায় কখনও কখনও লালচে ফুস্কুড়ি হয়। চোখ চুলকায়, ব্যথাও হতে পারে। মেকআপ দীর্ঘ ক্ষণ থাকলে ত্বকের তৈলগ্রন্থিগুলির মুখ আটকে যায়। তা থেকে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে।
২) মেকআপের ফলে কখনও কখনও চোখে জলের পরিমাণ কমে যায় বা জল শুকিয়ে যায়। তার ফলে চোখ জ্বালা করতে পারে। একে বলে ড্রাই আই সিন্ড্রোম।
৩) মেকআপের কোনও উপাদান থেকে অ্যালার্জি হতে পারে। এতে চোখ চুলকাবে, র্যাশ হবে, জল বেরোবে। চোখ ফুলেও যেতে পারে। বিশেষত নকল আইল্যাশ লাগানোর প্রবণতা বিপজ্জনক। যে নিম্নমানের আঠা ব্যবহার হয় তা থেকেই কারও কারও অ্যালার্জি হতে পারে।
৪) ওয়াটার প্রুফ আইলাইনার, মাস্কারার ব্যবহার বেড়েছ। এগুলি চট করে উঠতে চায় না। আইলাইনার বা মাস্কারা তুলতে গিয়ে অতিরিক্ত ঘষাঘষির ফলে চোখের ক্ষতি হতে পারে। চোখের পলক বা আইল্যাশের ফলিকল দুর্বল হয়ে তা ঝরে যেতে পারে। চোখ জ্বালাও করতে পারে।
৫) ক্রমাগত কার্লার এবং মাস্কারার ব্যবহারের আইল্যাশ বাঁকানোর ফলে তা দুর্বল হয়ে ঝরে যেতে পারে। চোখের পল্লব কিন্তু শুধু সৌন্দর্যবৃদ্ধির জন্য নয়, ধুলো-ময়লা থেকে চোখকে রক্ষা করার জন্য তা থাকে। পল্লব ঝরে যাওয়া মানে চোখের ক্ষতি।
ত্বকের রোগের চিকিৎসকেরা বলছেন, প্রসাধনী যত কম ব্যবহার করা যায় ততই ভাল। তবে ব্যবহার করলে যত দ্রুত সম্ভব তা সঠিক উপায়ে তুলে ফেলতে হবে। মেকআপ যত বেশি ত্বকে থাকবে, ততই ক্ষতির আশঙ্কা বৃদ্ধি পাবে।