শরীরচর্চার পরে বুকে ব্যথা স্বাভাবিক নয়, কখন বুঝবেন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে? ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
একটানা ট্রেডমিলে হাই স্পিডে দৌড়ে হার্ট অ্যাটাকের উদাহরণ অজস্র। এমনকি ট্রেডমিলে হাঁটতে হাঁটতেও আচমকা হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বয়স ত্রিশ হোক বা পঞ্চাশ, জিমে গিয়ে ওজন তোলা বা কার্ডিয়ো করার সময়ে যদি দেখেন বুকে ব্যথা হচ্ছে, অথবা শরীরচর্চার পরে যদি বুকে চাপ চাপ ব্যথা হওয়ার অনুভূতি হয়, তা হলে এড়িয়ে যাবেন না। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, রোজ কার্ডিয়ো বা স্ট্রেংথ ট্রেনিং করছেন মানেই যে আপনি পুরোপুরি ফিট আছেন, তা নয়। হার্ট দুর্বল কি না অথবা হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত হয়ে গিয়েছে কি না, তা বোঝা যায় না আগে থেকে। তাই কিছু লক্ষণ দেখা দিলে, সাবধান হতে হবে।
শরীরচর্চা করুন নিয়ম মেনে
চল্লিশের বেশি বয়স হলে বছরে অন্তত একবার সবরকম স্বাস্থ্যপরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। বিশেষ করে ইসিজি, ইকোকার্ডিয়োগ্রাম করিয়ে রাখা জরুরি। শরীরে কী কী সমস্যা আছে জেনে জিম প্রশিক্ষকের পরামর্শ নিয়ে তবেই ব্যায়াম শুরু করুন।
নিজের খেয়ালখুশি মতো ব্যায়াম করলে হবে না। প্রশিক্ষক যতক্ষণ বলবেন, যেমন বলবেন তেমনটাই করা ভাল। অনেকে বাড়িতেও জিমের যন্ত্রপাতি কিনে ব্যায়াম করেন। আজকাল নানা রকম যন্ত্রপাতি অনলাইনেও সহজলভ্য। ইউনিটিউব ভিডিয়ো দেখে সেগুলি অভ্যাস করার চল হয়েছে। সে ক্ষেত্রে একবার অন্তত চিকিৎসক বা প্রশিক্ষকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
খাওয়াদাওয়ার দিকেও খেয়াল রাখতে হবে। অনেকে ভাবেন, নিয়মিত শরীরচর্চা করলে যা ইচ্ছে খাবার খাওয়া যায়। কিন্তু জাঙ্ক ফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাবার বা বেশি পরিমাণে ভাজাভুজি খেলে শরীরের যে পরিমাণে ক্ষতি হয়ে যায়, তা শুধু ব্যায়াম করে সারানো সম্ভব নয়।
অনেকেরই অজান্তে ধমনীতে চর্বিজাতীয় পদার্থ জমতে থাকে। ধমনীর মধ্যে দিয়ে রক্ত সঞ্চালনের সময় ওই জমে থাকা পদার্থের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সেখানে রক্ত জমাট বেঁধে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। সেখান থেকে হতে পারে হার্ট অ্যাটাক। বিশেষত, অতিরিক্ত পরিশ্রম করার সময় এমন সমস্যা হওয়ার ভয় বেশি থাকে। যদি দেখেন ভারী শরীরচর্চা করার পরে বুকে ব্যথা হচ্ছে, তা হলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
৪০ বছর বয়সের পরে জিমে যাওয়া শুরু করলে আগে লিপিড প্রোফাইল টেস্ট করান। মাত্রাতিরিক্ত কোলেস্টেরল থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ খেতে হবে ও একটা ইসিজি করিয়ে নিতে হবে।
কী কী লক্ষণ চিনবেন?
এই ব্যথা শুধু বুকে সীমাবদ্ধ না থেকে বাঁ হাত, ঘাড়, চোয়াল, পিঠেও ছড়িয়ে পড়বে। অনেকেই ব্যায়ামের পরে পেশির ব্যথা ভেবে এড়িয়ে যান।
ব্যায়ামের পরে বিশ্রামের সময়েও যদি মনে হয় দমবন্ধ হয়ে আসছে তা হলে সাবধান।
হঠাৎ মাথা ঘোরা বা বমি বমি ভাব হতে পারে।
কার্ডিয়ো বা ওজন তুলে ব্যায়ামের সময়ে হার্টে অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে যায়। যদি আগে থেকেই ধমনীতে ব্লকেজ থাকে, তা হলে সেটি বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তখন অক্সিজেনের অভাবে বুকে ব্যথা শুরু হয়, শ্বাসকষ্ট হতে থাকে। এমন সব লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।