মেয়েকে রোজ রাগির কাঞ্জি কেন খাওয়ান রামচরণ? ছবি: সংগৃহীত।
বেঁচে যাওয়া ভাত জলে ভিজিয়ে রেখে, পরদিন তা-ই পান্তা হিসেবে খাওয়ার চল বাংলায় বরাবরই ছিল। এখনও আছে। বাঙালির পান্তা দক্ষিণ ভারতে আরও কিছু উপকরণে মিশে তৈরি হয়েছে কাঞ্জি। সাদামাঠা এই খাবারটিই এখন অভিজাতদের ডায়েট চার্টে উঠে এসেছে। কাঞ্জি খাওয়ার চল বেড়েছে। তারকাদের ওজন কমানোর খাদ্যতালিকায় দিব্যি জায়গায় করে নিয়েছে সেটি। সে ভাত মজিয়ে তৈরি করা হোক, দই-ভাত হোক বা শসা বা ফল মজিয়ে তৈরি হোক—কাঞ্জির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দক্ষিণী তারকা রামচরণের স্ত্রী উপাসনা কামিনেনীও জানিয়েছেন, মেয়ে ক্লিন কারাকে রোজ নিয়ম করে রাগির কাঞ্জি খাওয়ান তিনি। আর তা খাওয়ার জন্যই অসুখবিসুখ কম হয় মেয়ের।
কাঞ্জি হল সহজপাচ্য পুষ্টিকর খাবার। এর সবচেয়ে বড় গুণ হল খাবারটিতে থাকা প্রোবায়োটিক যা পেট ভাল রাখে, লিভারের অসুখ সারায়। প্রোবায়োটিক অন্ত্রে ভাল ব্যাক্টেরিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। যা হজমের জন্য জরুরি। উপাসনা মেয়েকে যে কাঞ্জি খাওয়ান, তা তৈরি করেন রাগি বা মিলেট দিয়ে। রাগির তৈরি কাঞ্জি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ ও ছোটদের জন্যও উপকারী। রাগিতে প্রোটিন ও ফাইবার বেশি। রাগি খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভর্তি থাকে, শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিনের চাহিদাও মেটে। পাশাপাশি ক্যালশিয়াম সমৃদ্ধ রাগি হাড়ের গঠন মজবুত করে, যা ছোটদের জন্য খুবই ভাল। রাগি আয়রনের উৎস, তাই রাগি খেলে রক্তাল্পতার ঝুঁকি কমে। শিশুদের সহজপাচ্য খাবার খাওয়ানো শুরু করার পরে, দিনে অন্তত একবার রাগি খাওয়ানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। অন্য যে কোনও দানাশস্যের থেকে রাগি হজম হয় খুব তাড়াতাড়ি। এতে কোনও গ্লুটেন থাকে না, তাই রাগি খেলে পেটের সমস্যাও হয় না।
ছোটরা অনেক সময়েই বাইরের খাবার খাওয়ার বায়না করে। সে জায়গায় যদি রাগির কাঞ্জি খাওয়ানো যায়, তা হলে ভাজাভুজি বা মিষ্টি খাবার খাওয়ার ইচ্ছা কমে যাবে। সকালের জলখাবারে বা বিকেলের টিফিনে রাগির কাঞ্জি খুবই উপাদেয় হতে পারে ছোটদের জন্য। উপকারীও বটে। তবে সেটি ছোটদের মনের মতো করে তৈরি করে দিতে হবে।
রাগির কাঞ্জি। ছবি: সংগৃহীত।
ছোটদের জন্য রাগির কাঞ্জি তৈরির রেসিপি
উপকরণ
২ চামচ রাগির আটা
৩ কাপ জল
১ কাপ দই
১টি ছোট পেঁয়াজ কুচিয়ে নেওয়া
১ চামচ ধনেপাতা কুচি
১ চামচ ঘি
আধ চামচ সর্ষের দানা
আধ চামচ জিরে
১ চামচ আদা কুচি
১টি কাঁচালঙ্কা কুচি
কারিপাতা
প্রণালী:
তিন কাপ জলে ২ চামচ রাগির আটা গুলে নিন। এ বার দু’কাপের মতো জল ভাল করে ফুটিয়ে নিন। তার মধ্যে রাগি মেশানো জল ঢেলে কম আঁচে ফোটান। মাঝে মাঝে চামচ দিয়ে নাড়িয়ে নিন, যাতে দলা পাকিয়ে না যায়। এ বার নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। অন্য একটি পাত্রে সামান্য জলে দই ফেটিয়ে নিন। তাতে রাগির মিশ্রণ ঢেলে অল্প নুন দিয়ে নেড়ে রাখুন। প্যানে তেল বা ঘি গরম করে তাতে, পেঁয়াজকুচি, লঙ্কাকচি, জিরে, সর্ষে ও কারিপাতা ফোড়ন দিন। হালকা নেড়ে সেটি রাগির মিশ্রণে মিশিয়ে দিন।
রাগি শিশুদের জন্য ভাল, তবে কোনও কিছু খাওয়ানোর আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।