কেবল আলু নয়, আর কোন কোন সব্জি বাদের তালিকায় রাখবেন ডায়াবেটিকরা? ছবি: সংগৃহীত।
ডায়াবিটিস ধরা পড়লে অনেক নিয়ম মেনে চলতে হয়। বিশেষ করে রাশ টানতে হয় খাওয়াদাওয়ায়। রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়তে শুরু করলে ইচ্ছামতো সব খাবার খাওয়া যায় না। মিষ্টি তো বটেই, সেই সঙ্গে বাইরের প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া একেবারেই বন্ধ। খাওয়াদাওয়ায় নিয়ম মেনে না চললে ডায়াবিটিস বশে রাখা সহজ নয়। তবে যে কোনও অসুস্থতাই হোক, নিয়ম করে সব্জি খেতে বলেন চিকিৎসকেরা। সব্জিতে রয়েছে ভিটামিন, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, ফাইবারের মতো স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নানা উপাদান। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো থেকে পেটের যত্ন নেওয়া— সবেতেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে ফল। তবে ডায়াবিটিস রোগীর ক্ষেত্রে সব্জি খাওয়াতেও সতর্কতা মেনে চলা জরুরি। রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়লে সব ফল খাওয়া যায় না।
আলু: ভারতীয় হেঁশেলে আলুর জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। যে কোনও কিছুর সঙ্গেই সুন্দর ভাবে মিশে যেতে পারে এই সব্জি। তবে এতে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ বেশি থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। তাই ডায়াবেটিকদের রোজের ডায়েটে আলু না রাখাই ভাল। আলুকে ডায়েট থেকে একেবারে বাদ দিতে না পারলে আলুর দম বা আলুর চচ্চড়ির বদলে পালংশাক, মেথিশাক, বাঁধাকপি বা পাঁচমেশালি তরকারির সঙ্গে এক-দু’টুকরো আলু খেতে পারেন। এ ছাড়া ঘুগনি, কাবলি ছোলার সঙ্গে মিশিয়েও আলু খাওয়া যেতে পারে। ফাইবার আর প্রোটিনের সঙ্গে আলু খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা এক লাফে অনেকটা বেড়ে যেতে পারে না।
মিষ্টিআলু: সাধারণ আলুর তুলনায় মিষ্টিআলুকে প্রায়শই একটি স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসাবে বিবেচনা করা হয়, কারণ এটি ভিটামিন এবং অ্যান্টি-অক্সিড্যান্টে ভরপুর। তবে, এতেও বেশি মাত্রায় কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা রক্তে শর্করার মাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই, ডায়াবিটিসের ক্ষেত্রে এটি পরিহারযোগ্য সব্জিগুলির মধ্যে অন্যতম। ডাল বা শিমের মতো প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে মিষ্টিআলু মিশিয়ে খেলে তা রক্তে শর্করার মাত্রা খানিকটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।
কচু: এই সব্জিতেও স্টার্চের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে যা রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বাড়িয়ে দিতে পারে। এর উচ্চ গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের কারণে এটি রক্তে শর্করার মাত্রা এক লাফে অনেকটা বাড়িয়ে দেয়, ফলে ডায়াবেটিকদের কচু না খাওয়াই ভাল। যদি কচু ভালোবাসেন, তবে এটি ভাজার পরিবর্তে রোস্ট করে নিতে পারেন। সঙ্গে স্যালাড বা এক বাটি ডাল অবশ্যই খান। এতে ফাইবার ও প্রোটিন যোগ হবে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করবে।
ওল: এই সব্জিতেও শর্করার মাত্রা অনেকটাই বেশি। ডায়াবেটিকদের জন্য এই সব্জি না খাওয়াই ভাল। মাঝেমধ্যে খেতে ইচ্ছে করলে সঙ্গে অবশ্যই ফাইবার জাতীয় খাবার বেশি করে খান আর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
সুইট কর্ন: মিষ্টি ভুট্টা সুস্বাদু একটি খাবার। সাধারণত সেদ্ধ করে খাওয়া হয় বলে এটিকে স্বাস্থ্যকর জলখাবার হিসাবে ধরা হয়। তবে, সেদ্ধ করা হলেও এতে প্রাকৃতিক শর্করা এবং কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ অনেকটাই বেশি থাকে। মাঝেমধ্যে খেতে ইচ্ছে করলে এর সঙ্গে বেশি করে ক্যাপসিকাম, শসা, টম্যাটো মিশিয়ে খান। তবে পরিমাণ বুঝেশুনে খেতে হবে।