Sushma Seth

নব্বইতে নবযৌবন, প্রাণায়ামই সুস্থ রেখেছে সুষমা শেঠকে, বয়সকালে তা কতটা জরুরি?

নব্বইয়ের কোঠায় পৌঁছে শরীর ভেঙে পড়েনি। এখনও শরীর ও মনে তারুণ্য ধরে রেখেছেন রূপোলি পর্দার ‘ঠাকুরমা’ সুষমা শেঠ। প্রাণায়াম ও য়োগাসনই সুস্থ রেখেছে তাঁকে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ ১৪:১৮
Veteran actor Sushma Seth shares her fitness Routine

বয়স্কদের জন্য প্রাণায়াম কতটা উপযোগী? ফাইল চিত্র।

বয়স নব্বই ছুঁইছুঁই। বয়সের ভারে শরীর ন্যুব্জ হয়নি। অসুখবিসুখ ছুঁতেও পারেনি তাঁকে। নবতিপর অভিনেত্রীর শরীর ও মনে এখনও তারুণ্য। কী ভাবে তা সম্ভব হল, সেটিই বিস্ময়। রূপোলি পর্দার ‘ঠাকুরমা’ সুষমা শেঠ এখনও ফিট। শরীর ও মনে সম্পূর্ণ ভাবেই সুস্থ। এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, হাঁটাচলা করতে কোনও সমস্যা হয় না তাঁর। দুর্বলতা বা ক্লান্তি গ্রাস করেনি তাঁকে। এর কারণই হল তাঁর শরীরচর্চার কিছু বিশেষ রুটিন। প্রাণায়াম এবং যোগাসনই সুস্থ রেখেছে বর্ষীয়ান অভিনেত্রীকে। বয়সজনিত রোগ কাবু করতে পারেনি তাঁকে।

Advertisement

ভোর ৪টেয় ওঠেন সুষমা। তার পরেই করেন প্রাণায়াম। এতেই তাঁর হার্ট ও ফুসফুস ভাল থাকে। এর পরে যোগাসন। সহজ কিছু আসন অভ্যাস করেন রোজই। জিমে গিয়ে ভারী ব্যায়াম বা ওজন তুলে ব্যায়াম তিনি কোনওদিনই করেননি। কম বয়সেও ঘরেই যোগাসন অভ্যাস করতেন সুষমা। সেই অভ্যাস আজও রয়ে গিয়েছে। এমন কিছু আসন অভ্যাস করেন যা তাঁর পেশির শক্তি বৃদ্ধি করবে। সচল রাখবে হাত-পা। শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখবে।

বয়সের গতি কমানো যায় কি না, তা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন বিশ্বের তাবড় বিজ্ঞানীরা। বার্ধক্যের দোরগোড়ায় আসামাত্রই জীবনের চাকা মুখ ঘুরিয়ে গড়গড়িয়ে পিছন দিকে চলবে। অর্থাৎ, ফিরে যাওয়া যাবে যৌবনে। বার্ধক্যকে ঠেকিয়ে রাখার এই যে অদম্য বাসনা, তা থেকেই ‘অ্যান্টি-এজিং’ নিয়ে এত ভাবনাচিন্তা। বয়সের কাঁটা বিপরীতে চলবে কি না, তা জানা নেই। তবে বার্ধক্যে পৌঁছেও যে যৌবন ধরে রাখা যায়, তা শিখিয়ে দিয়েছেন সুষমা শেঠ। আর তা সম্ভব হয়েছে যোগাসন ও প্রাণায়ামে।

সুষমার ফিটনেট রুটিন যেমন, তেমনটা মেনে চলতে বলেন অনেক চিকিৎসকই। বয়সকালে সুস্থ থাকতে হালকা শরীরচর্চা করারই নির্দেশ দেন চিকিৎসকেরা। ব্যায়াম কেমন হবে, তা শরীর বুঝেই ঠিক করতে হয়। তবে প্রাণায়াম সকলেই করতে পারেন। এই বিষয়ে যোগাসন প্রশিক্ষক অনুপ আচার্যের মত, বয়স যতই হোক, নিয়মিত প্রাণায়ামে শরীর ও মন সুস্থ থাকে। রোজ প্রাণায়ামের অভ্যাস ফুসফুস সুস্থ রাখে। ফলে শ্বাসযন্ত্রের নানা সমস্যা থেকে রেহাই পাওয়া যায় সহজে। দূরে থাকে হাঁপানি-সহ শ্বাসনালির নানা রোগ। এ ছাড়া বাড়ে হজম করার ক্ষমতাও। প্রাণায়ামকে প্রশিক্ষকেরা বলেন অক্সিজেন থেরাপি, যা কোনও যন্ত্রের মাধ্যম ছাড়াই সারা শরীরে অক্সিজেনের প্রবাহকে স্বাভাবিক রাখতে পারে। বেশ কিছু প্রাণায়ামে জটিল রোগ থেকেও রেহাই পাওয়া যায়।

কপালভাতি, ভ্রামরী প্রাণায়াম, অনুলোম-বিলোম সকলেই করতে পারেন। আরও এক ধরনের প্রাণায়াম আছে যার নাম ভস্ত্রিকা প্রাণায়াম। পিঠ সোজা রেখে বসে গভীর ভাবে শ্বাস টানতে হবে, কিছু ক্ষণ ধরে রেখে ছাড়তে হবে। প্রতি ক্ষেত্রে যতটা শ্বাস নেবেন, ততটাই ছাড়তে হবে। তিন থেকে ছ’মিনিট রোজ এই প্রাণায়াম অভ্যাস করলে হার্ট, ফুসফুস ও শরীরের বাকি অঙ্গগুলি সুস্থ ও সচল থাকবে। বয়সের ছাপ পড়বে না শরীরে।

Advertisement
আরও পড়ুন