খালি পায়ে নুড়িপাথরের স্পর্শ কেন জরুরি? ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।
জুতো আবিষ্কারের আগে নগ্ন পায়েই চলত হাঁটাচলা। তাই খালি পায়ে হাঁটার কথা শুনে অবাক হওয়ার মতো কিছুই নেই। প্রাচীন এই সাধারণ ঘটনাকে বিভিন্ন দেশে এখন শারীরচর্চার অঙ্গ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সম্প্রতি আবারও এই পদ্ধতি নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। কারণ, অসমতল পাথরের উপর খালি পায়ে হাঁটলে পায়ের বিভিন্ন পেশি ও স্নায়ু সক্রিয় হয় বলে মনে করেন চিকিৎসকেরা।
নুড়িপাথর ছুঁয়ে হাঁটার কী কী উপকারিতা?
১. ক্ষুদ্র পেশিসমূহের সক্রিয়তা: সমতল রাস্তার তুলনায় নুড়িপাথরের উপর হাঁটলে পায়ের ছোট ছোট পেশিগুলিকে বেশি কাজ করতে হয়। ফলে পায়ের শক্তি ধীরে ধীরে বাড়তে পারে। যাঁরা নিয়মিত ট্রেকিং করেন বা এবড়োখেবড়ো রাস্তায় হাঁটেন, তাঁদের জন্যও এটি উপকারী।
নুড়িপাথর ছুঁয়ে হাঁটার কী কী উপকারিতা? ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি
২. শরীরের ভারসাম্যের দেখভাল: এই ধরনের হাঁটাহাঁটির পন্থা শরীরের ভারসাম্য উন্নত করতেও সাহায্য করে। অসমতল জমিতে প্রতিটি পদক্ষেপের সময়ে শরীরকে নিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়। এর ফলে পা, গোড়ালি এবং শরীরের অন্যান্য অংশের মধ্যে বোঝাপড়া আরও ভাল হয়। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই পদ্ধতিতে হাঁটা উচিত।
৩. পেশির নমনীয়তা বৃদ্ধি: নুড়িপাথরের উপর হাঁটলে পায়ের পেশির নমনীয়তা বাড়তে পারে। সব সময়ে মসৃণ মেঝে বা রাস্তার উপর হাঁটতে হাঁটতে পায়ের চলন একটি নির্দিষ্ট অভ্যাসে আটকে যায়। কিন্তু অসমতল জায়গায় হাঁটার সময়ে পায়ের পেশি ও অস্থিসন্ধিকে বেশি নড়াচড়া করতে হয়। এতে পায়ের স্বাভাবিক নমনীয়তা বজায় থাকে।
৪. রক্তসঞ্চালনের উন্নতি: নুড়িপাথরের উপর হাঁটলে পায়ের রক্তসঞ্চালনও কিছুটা উন্নত হতে পারে। পায়ের পেশির সক্রিয়তা বাড়ার ফলে রক্তপ্রবাহে প্রভাব পড়ে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
৫. স্নায়ুতন্ত্রের স্বাস্থরক্ষা: খালি পায়ে নুড়িপাথরের উপর দাঁড়ালেই পায়ের পাতার অসংখ্য স্নায়ুপ্রান্ত উদ্দীপিত হয়। শুরুর দিকে খানিক সুচের মতো বিঁধতে পারে, তবে ধীরে ধীরে পা এই ধরনের স্পর্শের সঙ্গে মানিয়ে নেয়। স্নায়ুর এই উদ্দীপনা মস্তিষ্ককে জানান দেয়, শরীর ঠিক কোথায় অবস্থান করছে। এতে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতাও বাড়ে।
কাদের জন্য নিষেধ?
ডায়াবিটিসের রোগীদের পা ও পায়ের পাতার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া দরকার। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এই অভ্যাস রপ্ত করতে পারেন, কিন্তু কথা না বলে কোনও ভাবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। তা ছাড়া যাঁদের বাতের ব্যথা, অস্থিসন্ধির সমস্যা রয়েছে, তাঁরাও সতর্ক থাকবেন। এঁদের ক্ষেত্রে সে সমস্ত রোগ গুরুতর হয়ে দাঁড়াতে পারে।