‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ পান করলে কী কী ক্ষতি হতে পারে? ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।
ক্লান্তি কাটাতে বা রাত জেগে কাজ করার জন্য অনেকেই নিয়মিত ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’ পান করেন। গায়ে তাৎক্ষণিক বল পাওয়ার আশায় এই ধরনের পানীয়ের জনপ্রিয়তা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এর ব্যবহার বেশি দেখা যায়। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত এমন পানীয় পান করার অভ্যাস শরীরে নানা রোগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সম্প্রতি মেরিল্যান্ড নিবাসী অ্যানেস্থেশিয়োলজিস্ট এবং ইন্টারভেনশনাল পেন মেডিসিনের চিকিৎসক কুণাল সুদ জানিয়েছেন, শক্তিবর্ধক পানীয় সাময়িক ভাবে শরীরকে চাঙ্গা করতে পারে বটে, কিন্তু প্রায়শই এমন পানীয় পান করলে তার প্রভাব উদ্বেগজনক হতে পারে। কারণ, এই পানীয়গুলিতে সাধারণত উচ্চমাত্রার ক্যাফিন, চিনি এবং বিভিন্ন উদ্দীপক উপাদান থাকে। এক একটি ক্যানে ৪০ গ্রামেরও বেশি চিনি থাকে কোনও কোনওটিতে। সেগুলি নানা ভাবে শরীরের ক্ষতি করে।
গায়ে তাৎক্ষণিক বল পাওয়ার আশায় অনেকে পান করেন। ছবি: সংগৃহীত
চিকিৎসকের মতে, ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’-এর মূল উদ্দেশ্য হল সাময়িক ভাবে শরীরের শক্তি বাড়ানো। ক্যাফিন এবং অন্যান্য উদ্দীপক উপাদান, যেমন টরিন, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় করে তোলে। ফলে কিছু ক্ষণের জন্য ক্লান্তি কমতে পারে এবং মনোযোগও বাড়তে পারে। ফলে কাজে গতি আসে, পড়াশোনায় মন বসে। আর তাই তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এই পানীয়ের প্রতি আকর্ষণ বাড়ছে।
কিন্তু সমস্যা হল, অতিরিক্ত বা প্রায়শই এগুলি পান করলে রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে, শরীরে জলশূন্যতা দেখা দিতে পারে, ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে এবং কিডনিতে রক্ত সরবরাহ কমে যেতে পারে। পাশাপাশি, শরীর চাঙ্গা হওয়ার বিষয়টিও দীর্ঘস্থায়ী হয় না। নির্দিষ্ট সময়ের পর শরীর আবার ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং আগের চেয়েও বেশি পরিশ্রান্ত হয়ে পড়তে পারেন। ফলে বেশি দিন পান করলে কিডনির স্বাস্থ্যের পক্ষে এই পানীয় বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়াতে পারে। যাঁরা ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, তাঁদের জন্য বেশি ক্ষতিকর হতে পারে এই ‘এনার্জি ড্রিঙ্ক’।
কালেভদ্রে পান করলে তেমন কোনও প্রভাব পড়ে না শরীরে, কিন্তু রোজ রোজ এই পানীয়ের উপর ভরসা রেখে কাজ করা বা পড়াশোনা করার অভ্যাস কাটিয়ে বেরোতে হবে। নয়তো তার প্রভাব খুবই ক্ষতিকর হতে পারে।