ছবি: সংগৃহীত।
ডায়েট করার সময় ওজন কমানোর তাড়নায় অনেকেই কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা একেবারেই বাদ দিয়ে দেন। সকাল থেকে রাত অবধি হয়তো শর্করা জাতীয় খাবার যেমন ভাত, রুটি, মুড়ি বা শসা, ফলের মতো খাবার খেলেন নামমাত্র। তাতে কিন্তু অচিরেই শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। কারণ, শর্করা শরীরের প্রাথমিক জ্বালানি। দীর্ঘ সময় এটি না খেলে বেশ কিছু নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
১. শারীরিক দুর্বলতা ও ক্লান্তি
শর্করা ভেঙে গ্লুকোজ তৈরি হয়, যা শক্তির মূল উৎস। দীর্ঘক্ষণ শর্করা না খেলে শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং সাধারণ কাজ করার শক্তিও হারিয়ে ফেলে। মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বজায় রাখতেও গ্লুকোজ প্রয়োজন, তাই এর অভাবে মনোযোগের সমস্যাও হতে পারে।
২. কিটোসিস ও কিটো ফ্লু
যখন শরীর শর্করা পায় না, তখন শক্তির জন্য চর্বি ভাঙতে শুরু করে। এই প্রক্রিয়াকে কিটোসিস বলে। এর ফলে রক্তে ‘কিটোন বডি’ বেড়ে যায়, যা থেকে মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, মাথাব্যথা এবং শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা হতে পারে। যাকে অনেকেই ‘কিটো ফ্লু’ বলেন।
৩. পেশির ক্ষয়
শরীর যখন পর্যাপ্ত কার্বোহাইড্রেট পায় না এবং জমানো চর্বি থেকেও শক্তি তৈরি করতে পারে না, তখন পেশির প্রোটিন ভেঙে শক্তি সংগ্রহ করতে শুরু করে। এতে পেশি দুর্বল হয়ে যায় এবং মেটাবলিজম বা হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়।
৪. হজমের সমস্যা ও কোষ্ঠকাঠিন্য
শর্করা জাতীয় খাবার কিন্তু ফাইবারও। যা পেট ভাল রাখতেও সাহায্য করে। ডায়েট থেকে এগুলো একদম বাদ দিলে পরিপাকতন্ত্রে সমস্যা দেখা দেয় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।
৫. মেজাজ পরিবর্তন
মস্তিষ্কে ‘সেরোটোনিন’ নামের একটি হরমোন নিঃসরণে সাহায্য করে শর্করা, যা মন ভালো রাখে। শর্করার অভাবে খিটখিটে মেজাজ, বিষণ্ণতা এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
৬. পুষ্টির ঘাটতি
দীর্ঘদিন শর্করা না খেলে ভিটামিন এবং খনিজের অভাব দেখা দিতে পারে, যার ফলে চুল পড়া বেড়ে যেতে পারে। ত্বক খসখসে হয়ে যায়। মুখে দুর্গন্ধ হতে পারে।