কেন ঘামে হাতের তালু, কারণটা স্নায়ুর রোগ নয় তো? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
করমর্দন করতে হাত বাড়িয়েই লজ্জায় পড়লেন। কারণ হাতের তালু ঘেমে ভিজে রয়েছে। অফিসে মাউস ধরে কাজের সময়েও দেখলেন তালুতে ঘাম জমে রয়েছে। বাইক চালানোর সময়ে, রান্নাবান্না করার সময়ে বা লেখালিখির সময়েও হাতের তালু দরদর করে ঘামতে থাকে অনেকের। কেবল গরমের সময়ে এমন হয় তা নয়, শীতের সময়েও হয়। যখন-তখন হাতের তালু ঘেমে যাওয়ার এ সমস্যা সাধারণ নয়। এর নেপথ্যে থাকতে পারে স্নায়ুর কোনও রোগ।
হাতের তালু ঘেমে যাওয়ার সমস্যাটিকে চিকিৎসাবজ্ঞানের পরিভাষায় বলে ‘পালমার হাইপারহাইড্রোসিস’। অর্থাৎ, অতিরিক্ত ঘাম হওয়ার সমস্যা। এই রোগ যে কোনও বয়সেই হতে পারে।
কী এই ‘পালমার হাইপারহাইড্রোসিস’?
শরীরে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এক বিশেষ ধরনের ঘর্মগ্রন্থি থাকে, যাকে বলে অ্যাক্রিন গ্রন্থি। হাতের তালু, পায়ের পাতা ও বাহুমূলে এই গ্রন্থির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি থাকে। স্বাভাবিক অবস্থায় যখন গরম লাগে বা শরীরে উত্তেজনা তৈরি হয়, তখন মস্তিষ্ক থেকে ‘সিমপ্যাথেটিক’ স্নায়ুর মাধ্যমে এই গ্রন্থিগুলিতে সঙ্কেত আসে ঘাম তৈরি করার। কিন্তু পালমার হাইপারহাইড্রোসিসে স্নায়ুগুলি অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে পড়ে। ফলে, কোনও কারণ ছাড়াই গ্রন্থিগুলি অনবরত ঘাম নিঃসরণ করতে থাকে। সামান্য মানসিক উদ্বেগেও হাতের তালু ঘামতে শুরু করে।
কাদের হওয়ার ঝুঁকি বেশি?
এই রোগের নানা ধরন আছে। যদি কোনও রকম শারীরিক সমস্যা না থাকে, তার পরেও ঘাম অনবরত হতে থাকে, তা হলে সেটি প্রাইমারি ফোকাল হাইপারহাইড্রোসিস। এই সমস্যা বংশগত। বাবা-মায়ের থেকে সন্তানের মধ্যে আসতে পারে।
কোনও অসুখবিসুখ বা ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ঘাম বেশি হলে সেটি সেকেন্ডারি হাইপারহাইড্রোসিস। যেমন থাইরয়েডের সমস্যা, ডায়াবিটিস বা অতিরিক্ত মানসিক অবসাদের ওষুধ খেলে এমন হতে পারে।
হাত ঘামার সমস্যাকে এড়িয়ে গেলে চলবে না। এটির নিরাময়ে অনেক সময়েই বোটক্স করে ঘাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হয়। তা ছাড়া হাইপারহাইড্রোসিস নির্মূল করতে ছোটখাটো কিছু অস্ত্রোপচারও করা হয়। সমস্যাটি দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।