ছবি : সংগৃহীত।
ওজন কমানোর জন্য সারা দিনের খাবারে প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি করে খাওয়া জরুরি। আর সেই পন্থা কার্যকরীও বটে। কিন্তু প্রোটিনের রুটিন শুরু করার আগে আরও একটি বিষয় জানা দরকার। আর তা হল— প্রোটিন কখন খেলে উপকার বেশি। কী ভাবেই খাওয়া উচিত?
এমনিতে প্রোটিন খাওয়ার কোনও একটি নির্দিষ্ট সময় নেই যে, অমুক সময়ে খেলেই ম্যাজিকের মতো বাড়তি মেদ ঝরে যাবে। তবে পুষ্টিবিজ্ঞান বলছে, ওজন কমানো এবং পেশির গঠন বজায় রাখার জন্য প্রোটিন একটি নির্দিষ্ট নিয়মে খাওয়া দরকার। কেন তা জানার জন্য বোঝা দরকার ওজন ঝরানোর ক্ষেত্রে প্রোটিনের ভূমিকা কী।
প্রোটিন কেন জরুরি?
পেশির গঠনের প্রধান উপাদান প্রোটিন। শরীর পর্যাপ্ত প্রোটিন না পেলে পেশির গঠন ভাল হওয়া সম্ভব নয়। তবে ওজন কমানোর জন্য এটি জরুরি দু’টি কারণে—
১। প্রোটিন খেলে শরীরের ক্যালোরি ঝরানোর ক্ষমতা বা ‘থার্মিক এফেক্ট’ বৃদ্ধি পায়।
২। প্রোটিন হজম হতে বেশি শক্তি লাগে এবং পেট দীর্ঘক্ষণ ভরা রাখে। তাই ওজন ঝরানোর ক্ষেত্রে এটি সহায়ক।
কখন প্রোটিন খাবেন?
প্রাতরাশে
ওজন ঝরানোর জন্য দিনের প্রথম খাবারে প্রোটিন থাকা সবচেয়ে বেশি জরুরি। কারণ, এতে রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে। এ ছাড়া তখন কম পরিমাণে নিঃসৃত হয় খিদে পাওয়ানোর হরমোন ঘেরলিন। ফলে, সারা দিন অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
ব্যায়ামের পর
শরীরচর্চার পরে প্রোটিন খাওয়া ভাল। এটি পেশির স্বাস্থ্যের জন্য প্রোটিন খাওয়ার আদর্শ সময়। কারণ, ব্যায়াম করার সময় পেশির তন্তুতে খুব সূক্ষ্ম চিড় ধরে। ব্যায়াম শেষ করার ৩০ থেকে ৬০ মিনিটের মধ্যে প্রোটিন খেলে তা পেশি মেরামত ও দ্রুত পুনর্গঠনে সাহায্য করে। একে বলা হয় ‘অ্যানাবলিক উইন্ডো’।
প্রতি বারের ভারী খাবারে
একবারে অনেক প্রোটিন খাবেন না। দুপুরে এবং রাতে খাবারের তালিকায় অল্প অল্প করে প্রোটিন রাখুন। কারণ, শরীর একবারে খুব বেশি প্রোটিন শোষণ করতে পারে না। প্রতি খাবারে ২০-৩০ গ্রাম প্রোটিন রাখলে পেশি সারাদিন পুষ্টি পায় এবং মেটাবলিজম বা বিপাক হার বৃদ্ধি পায়, যা চর্বি ঝরাতে সাহায্য করে।
ঘুমোনোর আগে
যদি আপনি ভারী ব্যায়াম করেন, তবে রাতে ঘুমোনোর আগে সামান্য প্রোটিন, যেমন— এক গ্লাস দুধ বা ছানা খেতে পারেন। এতে ঘুমের মধ্যে পেশি মেরামতির কাজ ভাল হবে।