Dal for Uric Acid Patients

ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা ঊর্ধ্বমুখী? ডাল নিয়ে সতর্ক হওয়া দরকার! মুগ-মুসুর খেতে পারবেন কি?

শরীরের বর্জ্য পদার্থ হল ইউরিক অ্যাসিড। এগুলি পিউরিন নামক উপাদান ভেঙে তৈরি হয়। আর এ দিকে এক এক ডালে এক এক পরিমাণে পিউরিন থাকে। তাই কোন ডাল কতখানি খাবেন জেনে নিন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৮ জুন ২০২৬ ১৯:৩২
কোন ডাল কতখানি খাবেন?

কোন ডাল কতখানি খাবেন? ছবি: সংগৃহীত।

ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গেলে কী খাবেন আর কী এড়িয়ে চলবেন, তা নিয়ে বিভ্রান্তির শেষ নেই। বিশেষ করে ডাল নিয়ে নানা ধরনের ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকলে সব ধরনের ডাল খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে। কিন্তু সব ডালই ইউরিক অ্যাসি়ডের রোগীদের জন্য ক্ষতিকারক নয়। বিস্তারিত জানাচ্ছেন পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক।

Advertisement

শরীরের বর্জ্য পদার্থ হল ইউরিক অ্যাসিড। এগুলি পিউরিন নামক উপাদান ভেঙে তৈরি হয়। সাধারণত কিডনির সাহায্যে প্রস্রাবের সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যায় পদার্থগুলি। কিন্তু সমস্যা বাড়ে তখন, যখন শরীরে এর মাত্রা বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে হাইপারইউরিসেমিয়া তৈরি হয়। এই সময়ে কিডনি সেই বর্জ্য পদার্থ বার করতে পারে না ঠিক ভাবে। এ ফলে অস্থিসন্ধিতে ক্রিস্টাল হিসেবে জমা হতে শুরু করে। গাউট বা গেঁটেবাতের রোগ ধরে। শুরু হয় যন্ত্রণাও।

বাড়ছে ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা।

বাড়ছে ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা। ছবি: সংগৃহীত

পুষ্টিবিদ জানাচ্ছেন, তিনি তাঁর রোগীদের পরামর্শ দেন, কোনও ডালই পুরোপুরি বাদ দেওয়ার দরকার নেই। ডালে পিউরিন থাকে বটে, কিন্তু সব ডালে সমপরিমাণ থাকে না। তাঁর কথায়, ‘‘যদি কোনও ডাল খেয়ে শারীরিক সমস্যা শুরু হয়, তা হলে বিষয়টি আলাদা। কিন্তু তা ছাড়া কোনও ডালই বাদ দেওয়ার দরকার নেই ডায়েট থেকে।’’

মুগ, মুসুর, অড়হর এবং ছোলার ডাল পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার কথা বলছেন অনন্যা। ইউরিক অ্যাসিড বেশি থাকলে রান্না করা ডাল আধ কাপ বা এক কাপ খেতে পারেন। তবে পুষ্টিবিদ জানাচ্ছেন, হঠাৎ করে গাঁটে তীব্র ব্যথা শুরু হলে, লক্ষণগুলি কমে না যাওয়া পর্যন্ত খাওয়াদাওয়ার বিষয়ে সতর্ক হওয়া উচিত। চিকিৎসকের পরামর্শে ডাল কিছু দিন পাত থেকে বাদ দিতে পারেন। পাশাপাশি, যে সব খাবারে পিউরিন রয়েছে, সেগুলি খানিক এড়িয়ে যাওয়াই ভাল।

পুষ্টিবিদের মতে, শুধু ডাল নিয়ে চিন্তা না করে পুরো খাবারের অভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া বেশি জরুরি। শাকসব্জি, গোটা দানাশস্য ও কম ফ্যাটযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার বেশি পরিমাণে খাওয়া উচিত। এমন সুষম খাবার ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। একই ভাবে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয়, অ্যালকোহল এবং অতিরিক্ত রেড মিট এই রোগ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

মনে রাখতে হবে, ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা সবার ক্ষেত্রে এক রকম নয়। কারও ক্ষেত্রে যে খাবার সমস্যা তৈরি করছে না, অন্য কারও ক্ষেত্রে সেটিই সমস্যা বাড়াতে পারে। তাই ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা থাকলে নিজে থেকে খাদ্যতালিকা থেকে সব ডাল বাদ না দিয়ে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস ঠিক করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

Advertisement
আরও পড়ুন