Kidney Care in Summer

বাড়ছে গরম, এমন মরসুমে কেন কিডনির বিশেষ খেয়াল রাখা দরকার? কী ভাবে ভাল থাকবে প্রত্যঙ্গটি

কিডনির ক্রনিক অসুখ এখন বিশ্বজনীন চিন্তার বিষয়। সেই তালিকায় ভারতও পিছিয়ে নেই। গরমকালে সেই সমস্যা কেন বাড়তে পারে, কী ভাবেই বা শরীর সুস্থ রাখা যায়, জেনে নিন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৩২
গরমে কিডনির যত্ন জরুরি। কোন ভুলে ক্ষতি হতে পারে?

গরমে কিডনির যত্ন জরুরি। কোন ভুলে ক্ষতি হতে পারে? ছবি: সংগৃহীত।

বিশ্ব জুড়ে কিডনি সংক্রান্ত অসুখ বাড়ছে। ভারতও ব্যতিক্রম নয়। ‌ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) এবং কয়েকটি সংস্থার যৌথ সমীক্ষায় প্রকাশ, এ দেশেও কিডনির ক্রনিক অসুখের রোগীর সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। কম বয়েসিদের মধ্যেও কিডনির সমস্যা ক্রমশই বাড়ছে।

Advertisement

সতর্ক না হলে, কিডনির সমস্যা আরও বাড়তে পারে। বিশেষত ঝুঁকি হতে পারে গরমে। ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশন বলছে, যাঁদের ডায়ালিসিস চলছে বা কিডনির অল্পবিস্তর সমস্যা রয়েছে, তাঁদের বাড়তি সতর্কতা জরুরি। তবে সমস্যা না থাকলেও সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

গরম কেন বিপজ্জনক?

কিডনির মূল কাজটি হল শরীর থেকে দূষিত পদার্থ বার করে দেওয়া। কিডনি মূলত ছাঁকনির কাজ করে। আর সেই কাজ করার জন্য পর্যাপ্ত জলের দরকার হয়। গরমে তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় ঘাম বেশি হয়। ফলে শরীর থেকে জল এবং প্রয়োজনীয় খনিজ বেরিয়ে যায়।

ঠিকমতো জল না খেলে চাপ পড়তে পারে কিডনির উপর। তা ছাড়া, জলের মাত্রা কমে গেলে রক্তচাপেরও হেরফের হয়, তার প্রভাব পড়ে কিডনির উপর। বিশেষত, ডায়াবিটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং কিডনির সমস্যা আগে থেকেই থাকলে এই মরসুমে বাড়তি সতর্কতা জরুরি।

দ্বারকা নিবাসী কিডনির চিকিৎসক অনুপম রায় জানাচ্ছেন, জল কম খাওয়া হচ্ছে কি হচ্ছে না বোঝা যায় প্রস্রাবের রং এবং ধরন দেখেই। প্রস্রাবের মাত্রা কমে গেলে, রং গাঢ় হলুদ হলে সতর্ক হওয়া জরুরি। অতিরিক্ত জল খেলেও যেমন কিডনির উপর চাপ পড়ে, তেমনই শরীর জলশূন্য থাকলেও কিডনি সঠিক ভাবে কাজ করতে পারে না। তাই জলের মাত্রা ঠিক রাখা অত্যন্ত জরুরি।

গরমে কিডনি ভাল রাখতে কোন অভ্যাস রপ্ত করবেন

১। সব সময় নিয়ম করে জল খাওয়া হয় না বা যায় না। তাই শুধু জল নয়, টাটকা ফলের রসও বেছে নিতে বলছেন চিকিৎসকেরা। ফলের রস জল মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে, এ ছাড়াও স্যুপ, ছাস, ঘোলের মতো পানীয় শরীরে জলের জোগান দেয়। তবে এই তালিকায় কার্বোনেটেড পানীয় বা চিনিযুক্ত শরবত রাখা যাবে না। তাতে উল্টে কিডনির ক্ষতি হবে।

২। অতিরিক্ত নুন বা সোডিয়াম স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষত কিডনি ভাল রাখতে হলে নুন খেতে হবে পরিমিত পরিমাণে। বাজারের প্রক্রিয়াজাত খাবারে অতিরিক্ত নুন থাকে। ঘরোয়া খাবারেও পরি্মাপ বুঝে নুন খাওয়াই ভাল। না হলে বাড়তে পারে রক্তচাপ। বাড়ে কিডনিতে পাথর হওয়ার ঝুঁকিও। তবে নুন একেবারে বাদ দিলে শারীরিক সমস্যা হবে, সোডিয়ামের মাত্রা কমে যেতে পারে। নুন বাদ নয়, কম খাওয়ার অভ্যাস করা দরকার।

৩। গরমের দিনেও শরীরচর্চা জরুরি। কিন্তু তাপমাত্রা এবং আর্দ্রতা বেশি থাকায়, এই সময় ঘাম হয় বেশি। ফলে শরীর থেকে জল বেরিয়ে যায়। জলশূন্যতা অন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে। শরীরচর্চার আগে কিছুটা জল খাওয়া উচিত। হাঁটাহাটি বা যোগাসন ভোরের দিকে বা বিকেলে করলে কষ্ট কম হবে। কম ঘাম ঝরবে। শরীরে জলের মাত্রা কমলে রক্ত ঘন হয়ে যাবে, ফলে কিডনির পক্ষেও কাজ করা সমস্যার হয়ে দাঁড়াবে।

৪। কিছু কিছু ব্যথানাশক ওষুধও কিডনির জন্য ক্ষতিকর। বিশেষত তা যদি দীর্ঘ দিন ধরে খাওয়া হয়। তা ছাড়া, এমন ওষুধ খেয়ে জল কম খেলে ক্ষতির মাত্রা আরও বাড়তে পারে। যথাসম্ভব এই ধরনের ওষুধ এড়িয়ে চলা উচিত।

৫। কিডনির সমস্যা হলেও তা যদি দ্রুত চিহ্নিত করা যায়, সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা বাড়ে। প্রস্রাবের রং, গন্ধের দিকে খেয়াল রাখুন। মূত্র ত্যাগের সময় জ্বালা, ব্যথা হলেও সতর্ক হওয়া জরুরি। এ ছাড়া, ঘন ঘন ক্লান্তি, তলপেটে ব্যথা, প্রস্রাবে ফেনা বা অন্য রকম গন্ধ হলে দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন।

Advertisement
আরও পড়ুন