Ragi Milk Benefits

দুধ নয়, রাগি দুধ খেলে পাবেন বেশি উপকার! বুড়ো বয়সে হাড়জনিত সমস্যার দাওয়াই এই পানীয়

হাড়ের ক্ষয় রুখতে রোজের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত মাত্রায় ক্যালশিয়াম রাখা প্রয়োজন। শরীরে ক্যালশিয়ামের ঘাটতি হলে শুধু হাড়ের অসুখ নয়, পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া, ক্লান্তি আসার মতো সমস্যাও শুরু হয়ে যায়। অনেকের আবার দুধ খেলে সমস্যা হয়। তাঁদের ক্ষেত্রে উদ্ভিজ্জ দুধ ভাল বিকল্প হতে পারে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ ১৪:১৩
দুধ ছেড়ে কেন খাবেন রাগি দুধ?

দুধ ছেড়ে কেন খাবেন রাগি দুধ? ছবি: সংগৃহীত।

হাড়ের স্বাস্থ্যের অবক্ষয়ের নেপথ্যে থাকে মূলত বার্ধক্য। শরীরে অন্য কোনও রোগ বাসা বাঁধলে আমরা যথেষ্ট সজাগ থাকি। তবে হাড়ের যত্নের ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষই খুব উদাসীন। খাওয়াদাওয়ায় অনিয়ম, শরীরচর্চা না করা, ভাজাভুজি খাওয়ার অভ্যাসে হাড়ের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। বিশেষ করে যাঁরা ধূমপান করেন, অল্প বয়সেই তাঁদের হাড়জনিত সমস্যা বাড়ে। হাড়ের সমস্যাগুলি শরীরে বাসা বাঁধার আগে কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। সেগুলি নিয়ে সতর্ক হওয়া জরুরি। না হলে পরবর্তী কালে বড় সমস্যায় ভুগতে হতে পারে। হাড়ের ক্ষয় রুখতে রোজের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত মাত্রায় ক্যালশিয়াম রাখা প্রয়োজন। শরীরে ক্যালশিয়ামের ঘাটতি হলে শুধু হাড়ের অসুখ নয়, পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া, ক্লান্তি আসার মতো সমস্যাও শুরু হয়ে যায়।

Advertisement

অনেকের আবার দুধ খেলে সমস্যা হয়। তাঁদের ক্ষেত্রে উদ্ভিজ্জ দুধ ভাল বিকল্প হতে পারে। রাগি দিয়েই বানিয়ে ফেলতে পারেন এমন দুধ, যার ১০০ গ্রাম থেকে প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম ক্যালশিয়ামের জোগান পেতে পারে শরীর। সাধারণত দুধ বা দুগ্ধজাত খাবারকেই ক্যালশিয়ামের প্রধান উৎস বলে মনে করা হয়। তবে পুষ্টিবিদেরা বলছেন, রাগিতে দুধের থেকেও বেশি ক্যালশিয়াম থাকে। তাই যে শিশুদের ল্যাকটোজ়ে সমস্যা আছে, তারা রাগি দিয়ে তৈরি খাবার খেতেই পারে। ল্যাকটোজ়ে অ্যালার্জি না থাকলেও হাড় ও দাঁত মজবুত করতে রাগি খাওয়া যেতে পারে।

কী ভাবে বানাবেন?

প্রথমে এক কাপ রাগি ভাল করে ধুয়ে নিন। এ বার বেশ খানিকটা জলে ১০-১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন। এ বার রাগি থেকে পুরোপুরি জল ঝরিয়ে নিয়ে একটি সুতির কাপড়ে মুড়িয়ে ২৪-৩৬ ঘণ্টা হেঁশেলের কোনও এক গরম জায়গায় রেখে দিন। তার পর দেখবেন রাগি থেকে অঙ্কুরোদগম হয়েছে। অঙ্কুরোদগমের ফলে রাগিতে থাকা উৎসেচকের পরিমাণ বেড়ে যায়, সঙ্গে পুষ্টিগুণও বাড়ে। অঙ্কুরিত রাগি শরীরের পক্ষে হজম করাও সহজ। এ বার একটি মিক্সিতে অঙ্কুরিত রাগি, আধ কাপ নারকেল আর জল দিয়ে ভাল করে বেটে নিন। নারকেল পানীয়টিতে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট যোগ করবে, শরীরে পুষ্টির শোষণের মাত্রা বাড়াবে এবং শরীরে শক্তির জোগান দেবে। এ বার একটি সুতির কাপড়ের সাহায্যে মিশ্রণটি ভাল করে ছেঁকে নিন। ছাঁকার পরে যে মিশ্রণটি বেঁচে গেল তাতে আরও খানিকটা জল মিশিয়ে আবারও বেটে নিন আর ছেঁকে নিন। তা হলেই তৈরি হয়ে যাবে রাগির দুধ। তবে কাঁচা নয়, এ দুধও ভাল করে ফুটিয়ে নিয়ে তবেই খেতে হবে। স্বাদ বৃদ্ধির জন্য সামান্য গুড় আর এলাচগুঁড়ো দিতে পারেন। এই দুধ সকালে খালি পেটে খেতে পারেন।

রাগি খেলে আর কী কী সুবিধা হয়?

অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভাল রাখার পাশাপাশি শিশুদের কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময় করতেও সাহায্য করে রাগি।

রাগিতে ভরপুর মাত্রায় অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট আর অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে তাই রাগি সাহায্য করে।

শরীরে আয়রনের ঘাটতি মেটাতেও রাগি সাহায্য করে। এতে ভাল মাত্রায় আয়রন থাকে, এতে থাকা ভিটমিন সি আয়রন শোষণেও সাহায্য করে।

Advertisement
আরও পড়ুন