ইয়ারফোন ব্যবহারে বেশি উদারতাই ডেকে আনবে বিপদ? ছবি: সংগৃহীত।
গান শোনার জন্য নিজের ইয়ারফোনটা আপনি বন্ধুকে দিলেন— বিষয়টি এমনই নিরীহ। কিন্তু এই ছোট এক অভ্যাসই নীরবে আপনার কানের ভিতরে বড় সমস্যার সূচনা করতে পারে। কান-গলা-নাকের (ইএনটি) চিকিৎসকদের মতে, ইয়ারফোন ভাগ করে ব্যবহার করা খুবই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস। সরাসরি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়। মানুষের কানের ভিতরের অংশ খুব স্পর্শকাতর এবং নিজের মতো করে ভারসাম্য বজায় রাখে। সেখানে যখন বাইরে থেকে বা অন্য কারও শরীর থেকে ব্যাক্টেরিয়া, ছত্রাক বা ময়লা ঢুকে যায়, তখন সেই ভারসাম্য নষ্ট হয়।
কর্ণকুহরের অংশটি অত্যন্ত সুরক্ষিত। সংক্রামক কিছু যদি ভিতরে ঢুকে যায়, তখন সেই অংশটি দূষিত হয়ে যায়। কান সংক্রান্ত নানাবিধ সমস্যা শুরু হয় সেখান থেকেই। একজনের ইয়ারফোন অন্যজন ব্যবহার করলে কানের জীবাণু খুব সহজেই অন্যত্র চলে যায়। ফলে সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।
চিকিৎসকদের মতে, ইয়ারফোন ভাগ করে ব্যবহার করা খুবই অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস। ছবি: সংগৃহীত
এর ফলে কী কী হতে পারে?
· অটোমাইকোসিস বা কানের বাইরের অংশে ছত্রাকজনিত সংক্রমণ, যার ফলে চুলকানি হতে পারে কানে, জমে থাকতে পারে সাদা-কালো ময়লা।
· কানে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ, যার ফলে হতে পারে ব্যথা, ফোলা ভাব, পুঁজ বেরোনোর মতো সমস্যা।
· অন্য কারও কানের ময়লা বা উপাদানের কারণে ত্বকে প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
· ফিউরুনকিউলোসিসের মতো সংক্রমণ, যা কানের কোনও কোনও অংশে দেখা যেতে পারে।
· গুরুতর ক্ষেত্রে সংক্রমণ ছড়িয়ে আশপাশের অংশেও প্রভাব ফেলতে পারে।
ইয়ারফোন কানের ভিতরে ঢুকে বাতাস চলাচল কমিয়ে দেয়। এতে ভিতরে আর্দ্র, গরম পরিবেশ তৈরি হয়, যা জীবাণুর বাড়বৃদ্ধির জন্য আদর্শ পরিস্থিতি। তাই নিয়মিত কান পরিষ্কার না করলে ঝুঁকি আরও বাড়ে।
কী করলে ঝুঁকি কমবে?
· ব্যবহারের আগে ও পরে এমন ওয়াইপ বা কাপড় দিয়ে ইয়ারফোন পরিষ্কার করতে হবে, যাতে ৭০ শতাংশ অ্যালকোহল রয়েছে।
· মাঝেমধ্যেই ইয়ারফোনের সিলিকন টিপ বদলানো উচিত।
· কানে চুলকানি, ব্যথা বা জল বেরোনোর মতো সমস্যা দেখা গেলে ইয়ারফোন ভাগ করে নেবেন না অন্যের সঙ্গে।
· কান শুকনো রাখা খুব জরুরি, নয়তো আর্দ্রতা থেকে সংক্রমণ বাড়তে পারে।
· ইন-ইয়ারের বদলে ওভার-ইয়ার হেডফোন তুলনামূলক ভাবে নিরাপদ, তাতে কানের ভিতরের অংশ বাইরের জীবাণুর সংস্পর্শে আসে না।