Mobile Phone Addiction

ঘুম থেকে উঠেই ফোনের ডিজিটাল পর্দায় চোখ রাখেন? তাতে নিজের কতটা ক্ষতি করছেন, জেনে নিন

নোটিফিকেশন, সমাজমাধ্যমের দেওয়াল দেখা, মেল চেক করা এবং হোয়াটসঅ্যাপ বা ম্যাসেঞ্জার অ্যাপে এক বার চোখ না বোলালে মনে হয় পৃথিবীটা বুঝি অলক্ষ্যে বদলে গেল অনেকটা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬ ১৬:১২

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

একটা সময় ছিল যখন সাতসকালে ঘুম থেকে ওঠার জন্য অ্যালার্ম দেওয়া ঘড়ি কিনতেন মানুষ। ঘুম চোখে হাতড়ে হাতের চাপড়ে ঘড়ির স্প্রিং দেওয়া সুইচ বন্ধ করে মিলত নিষ্কৃতি। এখন অবশ্য চাপড় নয়, বালিশের পাশে রাখা স্মার্টফোনের পর্দায় আলতো আঙুল ছুঁইয়েই সকাল শুরু হয়। চোখ খুলে দিনের আলো দেখতে না দেখতেই চোখ যায় মোবাইলের পর্দায়। তার পরে অবিরাম ফোনের দিকেই নিবদ্ধ থাকে দৃষ্টি। নোটিফিকেশন, সমাজমাধ্যমের দেওয়াল দেখা, মেল চেক করা এবং হোয়াট্‌সঅ্যাপ বা মেসেঞ্জার অ্যাপে এক বার চোখ না বোলালে মনে হয় পৃথিবীটা বুঝি অলক্ষ্যে বদলে গেল অনেকটা। কিন্তু ঘুম থেকে উঠেই দুনিয়া সম্পর্কে আপডেটেড থাকার চক্করে নিজের কতটা ক্ষতি করছেন জানেন কি? চিকিৎসকেরা বলছেন, এতে মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি তো হচ্ছেই তার পাশাপাশি ক্ষতি হচ্ছে মস্তিষ্কেরও। কী ভাবে?

Advertisement

১. ‘ইনফরমেশন ওভারলোড’

ঘুম থেকে জাগার পর প্রথম কয়েক মিনিট মস্তিষ্ক একটি ধীর এবং সংবেদনশীল রূপান্তর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। ওই সময়টায় মনোযোগ, আবেগ নিয়ন্ত্রণের স্নায়ু এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্নায়ুগুলি ধীরে ধীরে সক্রিয় হতে থাকে। ঘুম ভেঙেই ফোনে চোখ রাখলে ওই প্রক্রিয়া চলাকালীন হঠাৎ প্রচুর তথ্য হুড়মুড়িয়ে ঢুকে পড়লে, তা মস্তিষ্কে চাপ তৈরি করে, যা বোঝার এবং গোছানোর জন্য মস্তিষ্ক প্রস্তুত থাকে না। ফলে সকাল সকাল অজান্তেই মস্তিষ্ক ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ‘ইনফরমেশন ওভারলোড’ বা তথ্যের পাহাড়প্রমাণ বোঝার চাপেই ওই ক্লান্তি তৈরি হয়।

২. চোখ খুলেই চাপ!

সকালে ঘুম ভাঙার পরে শরীরে স্বাভাবিক নিয়মেই ‘কর্টিসল’ (মানসিক চাপের হরমোন) হরমোনের মাত্রা বাড়ে, যা জেগে উঠতে সাহায্য করে। কিন্তু বিছানায় শুয়ে বা পুরোপুরি সক্রিয় হওয়ার আগে যদি কেউ কাজের মেল, নেতিবাচক খবর বা সমাজমাধ্যমের এমন কোনও পোস্ট দেখেন, যা মানসিক চাপ বৃদ্ধি করতে পারে, তখন ওই হরমোনের ক্ষরণ আরও বেড়ে যায়। এতে স্নায়ুতন্ত্রে উত্তেজনা বাড়ে। অবচেতনেই তীব্র উদ্বেগ ও মানসিক চাপ তৈরি হতে শুরু করে। অর্থাৎ ঘুম থেকে জেগে ওঠার আগেই মস্তিষ্ক মানসিক চাপ উপলব্ধি করতে শুরু করে। যা সারা দিনের মনমেজাজের উপরেও প্রভাব ফেলে।

৩. মেজাজের রাশ আলগা

ফোনের নোটিফিকেশন বৈজ্ঞানিক ভাবেই এমন অঙ্ক কষে তৈরি যে তা যেনতেন প্রকারে মনোযোগ কাড়তে বাধ্য। দিনের শুরুতেই যদি মস্তিষ্ক সেই ফাঁদে পা দিয়ে ফেলে, তবে তা সারাদিনের কাজের মনঃসংযোগও নষ্ট করতে পারে। দিন যত গড়াবে ততই মনোযোগের সমস্যা, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়ার সমস্যা বাড়তে থাকবে। যা দীর্ঘ মেয়াদে ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। হতে পারে মানসিক অবসাদের কারণ।

তা হলে কী করবেন?

মোবাইলের উপর নির্ভরশীল না হয়ে, দিনটি নিজের মতো করে শুরু করুন। ঘুম থেকে ওঠার পর অন্তত ২০-৩০ মিনিট নিজেকে ফোন থেকে দূরে রাখুন। মস্তিষ্ককে প্রাকৃতিক ভাবে পুরোপুরি জেগে ওঠার সময় দিন। দরকার হলে মোবাইল বালিশের পাশে না রেখে দূরে কোনও জায়গায় রেখে দিন। ঘুম ভাঙার জন্য আগেকার মতো অ্যালার্ম ঘড়ি ব্যবহার করুন। এতে সারাদিন অনেক শান্ত এবং সুশৃঙ্খল ভাবে কাটবে।

Advertisement
আরও পড়ুন