রং খেলুন চোখ বাঁচিয়ে, রইল কিছু উপায়। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
দোলের দিন দুর্ঘটনার ভয়ে বাড়িতে লুকিয়ে বসে থাকাটা কোনও কাজের কথা নয়। চিকিৎসকেরা বলেন, সব চেয়ে নিরাপদ ভেষজ রঙে দোল খেলা। কিন্তু সেই পরামর্শ ক’জনই বা শোনেন! এ ক্ষেত্রে তাই কিছু সতর্কতার কথা খেয়াল রাখাই ভাল। আর দোলের দিন সেই তালিকায় এক এবং অন্যতম সাবধানতার জায়গা হল চোখ। রং খেলুন যত খুশি, তবে চোখ বাঁচিয়ে।
রং খেলার দিনে চোখে লেন্স পরবেন না চশমা, তা নিয়ে ভাবনাচিন্তা করেন অনেকে। চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, দোলের দিন চশমা অনেক বেশি নিরাপদ। কনট্যাক্ট লেন্সে রং বা আবিরের গুঁড়ো ঢুকে গেলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে চোখের।
লেন্স পরে রং খেলার বিপদ
কনট্যাক্ট লেন্স সাধারণত জলীয় বা স্পঞ্জ জাতীয় উপাদানে তৈরি। আবির বা রঙের সূক্ষ্ম কণা লেন্সের সংস্পর্শে এলে লেন্স তা শুষে নেয়। ফলে রাসায়নিক দীর্ঘ সময়ে মণির সংস্পর্শে থাকে, যা থেকে তীব্র জ্বালা বা সংক্রমণ হতে পারে।
লেন্স এবং মণির মাঝখানে যদি আবিরের গুঁড়ো ঢুকে যায়, তা হলে ঘর্ষণে মণির উপরে ক্ষত তৈরি হতে পারে। এটি অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক এবং দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি করতে পারে।
রং ভরা বেলুন চোখে লাগলে তা খুবই বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ ওই আঘাত সরাসরি রেটিনায় হওয়ার ঝুঁকিই বেশি। এ ক্ষেত্রে চোখে জলের ঝাপটা দিলেও বিপদ কাটবে না। ছোট-ছোট দানাদার চিকচিকে রংও চোখের পক্ষে বিপজ্জনক। কারণ ওই দানাগুলি লেন্সে ঢুকে যেতে পারে আর তা থেকে কর্নিয়ার ক্ষতি হতে পারে।
রঙের কপার সালফেট চোখে ঢুকলে, চোখের কোষ পুড়িয়ে দিতে পারে। তাই সতর্ক থাকতেই হবে।
কী কী নিয়ম মানবেন?
লেন্সের বদলে দোলের দিন পুরনো কোনও চশমা বা রোদচশমা পড়ুন। চশমাই চোখ বাঁচাবে।
বড় ফ্রেমের সানগ্লাস পরলে চারপাশ থেকে রং ঢোকার আশঙ্কা থাকে না।
রং খেলার অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে লেন্স খুলে রাখুন। চোখের চারপাশে ক্রিম বা নারকেল তেল মেখে নিন, এতে রং গড়িয়ে চোখে ঢুকবে না।
অনেক সময়ে রং দিতে গিয়ে আঙুলের খোঁচা লেগেও কর্নিয়া বা কনজাংটিভায় ক্ষত তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া কিছু কিছু রং কর্নিয়ায় আটকে থাকে। চোখ জ্বালা করলে কখনওই ঘষবেন না। দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই শ্রেয়।
লেন্স পরে রং খেলতে গিয়ে যদি চোখে জ্বালা শুরু হয়, তা হলে আগে লেন্স খুলে নিয়ে তার পর ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিন। সেই লেন্স ফের ব্যবহার করাও ঠিক হবে না।
রং খেলার পরে ঈষদুষ্ণ জল দিয়ে চোখ ধুয়ে ফেলা ভাল। এতে চোখের ক্ষতি কম হবে।