Lying down after eating

ভরপেট খাওয়ার পরেই বিছানায় গড়িয়ে নেন, দিবানিদ্রা সুখের না হয়ে অসুখের হতে পারে কেন?

খাওয়ার পরেই শুয়ে পড়ার অভ্যাস। নরম বিছানায় গা এলিয়ে দেওয়া সুখের হলেও, আদতে তা অসুখের কারণ। সতর্ক না হলে হতে পারে ক্যানসারও।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ১৮:০৬
Why You Should Never Lie Down Right After Eating

খাওয়ার পরেই শুয়ে পড়লে সমস্যা বেশি হয় কেন? ছবি: সংগৃহীত।

পেটে ভাত পড়ার অপেক্ষা। তার পরেই বিছানা যেন টানে। চর্ব্যচোষ্য খেয়ে নরম বিছানায় গা এলিয়ে দেওয়ার যে কী সুখ, তা বোধ হয় সকলেই জানেন। অনেকেরই দুপুরে ভরপেট খেয়ে ক্ষণিকের ঘুমের অভ্যাস আছে। কেউ কেউ আবার রাতেও খাওয়ার পরেই শুয়ে পড়েন। ভরপেট খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শোয়ার অভ্যাসটি সুখের হলেও, তাতেই লুকিয়ে অসুখের কারণ।

Advertisement

মাংস, ভাত, চাটনি, পাঁপড় খেয়ে শুলেন। ঘুমও এসে গেল ১০ মিনিটেই। তার পর যখন ঘুম ভাঙে তখন আর জীবনে সুখ থাকল না। কারণ ঘুমের হাত ধরেই শুরু হয় পেট ভার, বুকজ্বালা। মাঝে মাঝে পাওনা হয় চোঁয়া ঢেকুরও। মাঝে মধ্যে খাওয়ার পরেই শোয়ার অভ্যাস ততটা ক্ষতি না করলেও, নিয়ম করে দিবানিদ্রার অভ্যাসে স্থায়ী হতে পারে অম্বল এবং বুক জ্বালা। ওজন বেশি হলে এবং অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা অনেক ক্ষেত্রে নিয়মিত দেখা যায়।

খাওয়ার পরে দিবানিদ্রার অভ্যাসে তৈরি হতে পারে ‘জিইআরডি’ অর্থাৎ, ‘গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ’ । এটি হল একটি হজমের অসুখ। পাকস্থলীর খাদ্যবস্তু যখন ইসোফেগাসে ফিরে আসে, তখন তাকে বলে ‘গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ’। চলতি ভাষায়, একে টক ঢেকুর, চোঁয়া ঢেকুর বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সও বলা হয়।

শুয়ে পড়লে সমস্যা বেশি হয় কেন?

খাওয়ার পরে সোজা হয়ে বসলে বা হাঁটাহাঁটি করলে মহাকর্ষ বলের কারণে পাকস্থলীর অ্যাসিড সেখানেই থাকে। কিন্তু চিত হয়ে শুয়ে পড়লে অ্যাসিড উল্টোপথে খাদ্যনালীতে চলে আসে। পাকস্থলীতে অ্যাসিড থেকে বাঁচার আস্তরণ রয়েছে। কিন্তু তা খাদ্যনালীতে নেই। ফলে অ্যাসিড খাদ্যনালীর সংস্পর্শে এলে বুক জ্বালা, অম্বল শুরু হয়।

আমেরিকান কলেজ অফ গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজি-র চিকিৎসকেরা অম্বল বা অ্যাসিড রিফ্লাক্স-এর সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য খেয়েই শোয়ার অভ্যাস এড়ানোর পরামর্শ দিচ্ছেন।

ক্রমাগত বুক জ্বালা হেলাফেলার নয়

অনেকেরই অম্বল, বুক জ্বালার সমস্যা হয় নিয়মিত। ফরিদাবাদ নিবাসী মেডিসিনের চিকিৎসক মোহিত শর্মা বলছেন, মাঝে মধ্যে ভারী খাবার খেয়ে অন্বল, গ্যাস হওয়া এক রকম। তবে তা যদি প্রায়ই হয় সতর্ক হওয়া জরুরি। নিয়মিত অ্যাসিড রিফ্লাক্সে খাদ্যনালীতে প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে। শুরুতেই সতর্ক না হলে, ঘুমের সমস্যা, দাঁত ক্ষয়ে যায়, খাদ্যনালীতে ঘা এমনকি ক্যানসার পর্যন্ত হতে পারে।

কী ভাবে সমস্যার সমাধান সম্ভব?

অম্বলের ধাত থাকলে খাওয়ার মিনিট ১৫ পরে ১০-১৫ মিনিট পায়চারি করা ভাল। এতে হজম দ্রুত হয়। যদি হাঁটাহাটি করা সম্ভব না হয়, তা হলে খাওয়ার পরে অন্তত এক ঘণ্টা বসে থাকা বা অন্য কাজ করা দরকার। চিকিৎসক মনে করাচ্ছেন, মিষ্টি জাতীয় খাবার, ভাজাভুজি, কার্বনযুক্ত পানীয়, মদ্যপান, এক ধাক্কায় বেশি খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে। বদহজম, অম্বল এড়াতে হবে খেতে হবে হালকা এবং পরিমিত।

Advertisement
আরও পড়ুন