সুস্বাদু আমের শেক খেলেও সমস্যা হতে পারে? ছবি: সংগৃহীত।
গরম যতই বিরক্তিকর হোক, এই মরসুমের ফলগুলি কিন্তু ততটাই স্বাদু। আর তারই মধ্যে শীর্ষে থাকে আম। পাকা রসালো আম এমনিতেই স্বাদে-গুণে ভরপুর। তবে সেই আমের রস বার করে যদি ঠান্ডা ঘন দুধ, আইসক্রিম আর বরফ মিশিয়ে শেক বানানো যায়, তবে তা হয়ে দাঁড়ায় অতি উপাদেয়।
আমে শর্করার মাত্রা যথেষ্ট। আর তার সঙ্গে যদি আইসক্রিম বা চিনি যোগ করা হয়, সেই মাত্রা বেড়ে যায় আরও। তবে সুস্বাদু শর্করাযুক্ত এই পানীয়ই কিন্তু আচমকা ক্লান্তির কারণ হতে পারে, জানেন কি? পুষ্টিবিদেরা বলছেন, খাওয়ার ভুলেই এমনটা হতে পারে।
‘অ্যারাবিয়ান জার্নাল অফ কেমিস্ট্রি’-তে প্রকাশিত সমীক্ষার ফল বলছে, শর্করায় পূর্ণ আমের শেক, তা-ও যদি ঠান্ডা অবস্থায় এবং খালি পেটে বা ভুল ভাবে খাওয়া হয়, ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। আচমকাই কমতে পারে রক্তে শর্করার মাত্রা। আর তার ফলেই দেখা দিতে পারে ক্লান্তি। হতে পারে অন্য সমস্যাও।
কেন?
বরফ এবং আইসক্রিম দেওয়া আমের শেক খেলে গরমে আরাম বোধ হবে, বলাই বাহুল্য। কিন্তু খুব ঠান্ডা পানীয় শরীরে যাওয়া মাত্রই, অন্ত্রের তাপমাত্রা আচমকা কমতে পারে। এ দিকে বাইরে তখন গরম। ফলে তাপমাত্রার হেরফেরে হজমের সমস্যাও হওয়া সম্ভব।
রক্তে শর্করার মাত্রার হেরফেরও হওয়া সম্ভব
আমে ফাইবার থাকলেও শর্করার মাত্রা যথেষ্ট। তার উপর যদি চিনি, দুধ বা আইসক্রিম দিয়ে তা বানানো হয়, শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় আরও অনেকটাই।
এই ধরমের আমের শেকের গ্লাইসেমিক লোড বেশি (এটি হল এমন সূচক, যা ইঙ্গিত দেয় কোনও খাবার খাওয়ার পরে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা ঠিক কতটা বাড়বে)। অতিরিক্ত শর্করা শরীরে পৌঁছলে অগ্ন্যাশয় বেশি করে ইনসুলিন হরমোন তৈরি করে। এই হরমোনের কাজ হল শর্করাকে কোষে পৌঁছে শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করা।
ইনসুলিন এই ক্ষেত্রে এতটাই দ্রুত রক্ত থেকে শর্করা সরিয়ে দিতে পারে যে, আচমকা শর্করার মাত্রা কমে যেতে পারে। আর তার ফলেই শরীরে ক্লান্তি দেখা দিতে পারে, শুরু করতে পারে আনচান করা।
ঘুম পেতেও পারে?
ঠান্ডা উচ্চ ক্যালোরির শর্করাযুক্ত এই পানীয়টি হজমে যথেষ্ট বিপাকীয় শক্তির প্রয়োজন হয়। ফলে খাবারটি হজমে অতিরিক্ত শক্তি ব্যয় হয়। তার ফলে এমন পানীয় খাওয়ার পরে ঘুমও আসতে পারে।
সমস্যার সমাধানে কী করণীয়
· ভরপেট খাওয়ার পরে আমের শেক না খাওয়াই ভাল। এটি আলাদা ভাবে খাওয়া যায়।
· আমের শেকে এক টেবিল চামচ ভেজানো চিয়া বা কাঠবাদাম, আখরোট মিশিয়ে নিন। চিয়াতে ফাইবার এবং ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, ফলে রক্তে শর্করার শোষণ তুলনামূলক ভাবে ধীর হয়।
· শেকের মধ্যে চিনিবিহীন এক চামচ প্রোটিন পাউডার মিশিয়ে নিতে পারেন। এতেও শর্করা শোষণের গতি কমবে। ফলে আচমকা রক্তে শর্করার ওঠা-পড়া কমবে।
· শেক খাওয়ার সময় কৃত্রিম চিনি, আইসক্রিমের ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।