ইউরিক অ্যাসিড কমাতে কী কী করবেন? ছবি: সংগৃহীত।
দৈনন্দিন জীবনে যে ক্রনিক অসুখগুলি হানা দেয়, ইউরিক অ্যাসি়ড তার মধ্যে অন্যতম। এই ধরনের শারীরিক সমস্যা কোনও বয়স দেখে আসে না। যে কোনও বয়সেই ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা দেখা দিতে পারে। ইউরিক অ্যাসিড ধরা পড়লে পায়ে ব্যথা বাড়ে। কর্মব্যস্ত জীবন এবং খাওয়াদাওয়ায় ব্যাপক অনিয়ম যে সব অসুখ ডেকে আনছে, তার মধ্যে অন্যতম হল রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া। খাবার হজমের পর শরীরে এই অ্যাসিড তৈরি হয়। মাত্রাতিরিক্ত প্রোটিন খেলে বা ওজন বেড়ে গেলে শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়। অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড শরীরের অস্থিসন্ধি ও মূত্রনালিতে জমা হতে শুরু করে। জমতে থাকা ইউরিক অ্যাসিড ক্রিস্টালের আকার নেয়। এটি গাঁটে ব্যথা ও প্রস্রাবের সংক্রমণ ডেকে আনে। এ ছাড়া, শরীরে এই অ্যাসিড বেশি মাত্রায় জমতে শুরু করলে কিডনিতে পাথরও জমতে পারে। লিভারেও সমস্যা দেখা দেয়। সঠিক নিয়মে না চললে ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে গিয়ে একটা বাড়াবাড়ি কিছু হতে পারে। ইউরিক অ্যাসিড হওয়া মানেই অনেক ধরনের খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ তৈরি হয়ে যায়। ইউরিক অ্যাসিড হলে ডাল, পাঁঠার মাংস, টম্যাটো— এই ধরনের খাবারগুলি খেতে বারণ করেন চিকিৎসকেরা। তা ছাড়া, অনেক স্বাস্থ্যকর খাবারও ইউরিক অ্যাসিডের রোগীদের খাওয়া বারণ হয়ে যায়।
মাংস, সামুদ্রিক খাবার, ডাল এবং পনিরের মতো খাবারে পিউরিন থাকে। যাঁদের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি তাঁরা এগুলি এড়িয়ে চলেন। তা সত্ত্বেও অনেকের ইউরিক অ্যাসিড কিছুতেই নিয়ন্ত্রণে থাকে না। চিকিৎসকদের মতে, এ ক্ষেত্রে কেবল উচ্চ পিউরিন মাত্রাযুক্ত খাবারকে দায়ী করলেই হবে না। শরীরে ইউরিক অ্যাসিড জমার মুখ্য কারণ কিন্তু খাবার নয়। লিভারে প্রায় ৭০ শতাংশ ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়। ফ্রুকটোজ় আর সিরাপ, যা সাধারণত সুগার বৃদ্ধির জন্য দায়ী, এদের কারণে ইউরিক অ্যাসিডও বাড়তে পারে। মাংসের পাশাপাশি তাই মিষ্টি খাবারও ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধির জন্য সমান ভাবে দায়ী। লিভারে যখন ফ্রুকটোজ় প্রক্রিয়া হয়, তখন বাই প্রোডাক্ট হিসাবে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি করে। তাই ফলের রস, মধুর মতো উপাদানগুলিও ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়ার জন্য দায়ী হতে পারে।
গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে ফ্রুক্টোজ়-মিষ্টিযুক্ত পানীয়গুলি ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি করে। ইউরিক অ্যাসিড কমানোর ক্ষেত্রে চিনি খাওয়া কমানো প্রোটিন খাওয়া কমানোর তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর।
ইউরিক অ্যাসিড কমাতে কী কী করবেন?
১) চিনিযুক্ত পানীয় আর ফলের রস এড়িয়ে চলুন।
২) পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট আর প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলুন।
৩) প্রোটিন পরিমিত খান।
৪) বেশি করে জল খেতে হবে, কারণ জল শরীর থেকে ইউরিক অ্যাসিড মাত্রা বার করে দিতে সাহায্য করে।