ছবি: সংগৃহীত।
মশা, মাছি, পিঁপড়ে ও টিকটিকির উপদ্রব নেই এমন বাড়ি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। এদের দৌরাত্ম্যে ঘরদোর পরিষ্কার রাখা দুষ্কর হলেও এদের বাদ দিয়ে বসবাস করা সম্ভব নয়। টিকটিকি পোকামাকড় খেয়ে সাফ করলেও অনেকেই টিকিটিকির উপস্থিতি সহ্য করতে পারেন না। তবে জ্যোতিষমতে বাড়ির দেওয়ালে এই সরীসৃপটির অস্তিত্ব নানা ধরনের লক্ষণ বয়ে আনে। জ্যোতিষশাস্ত্রে টিকটিকি সম্পর্কে নানা কথা বলা হয়েছে। সেই অর্থে, টিকটিকি দেখা শুভ এবং কেউ কেউ বলে এটি অশুভ।
বাস্তুশাস্ত্রে এবং প্রচলিত বিশ্বাসে টিকটিকিকে অনেক সময় লক্ষ্মীর প্রতীক হিসাবে গণ্য করা হয়। অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে টিকটিকিকে শুভ বলে মনে করা হয়। আপনার বাড়িতে বা আশপাশে টিকটিকি দেখা দেওয়া শুভ না অশুভ, তা নির্ভর করে আপনি ঠিক কখন, কোথায় এবং কী ভাবে এটি দেখছেন তার উপর।
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, টিকটিকি দেখা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ইতিবাচক বার্তা বহন করে:
নতুন বাড়িতে বা পুজোর ঘরে: যদি নতুন বাড়িতে প্রবেশের সময় বা আপনার পুজোর ঘরে টিকটিকি দেখতে পান, তবে এটি অত্যন্ত শুভ। এটি গৃহকর্তার সুখ-শান্তি এবং আর্থিক উন্নতির ইঙ্গিত দেয়।
দেওয়ালের উপরের দিকে ওঠা: টিকটিকিকে যদি দেওয়াল বেয়ে উপরের দিকে উঠতে দেখেন, তবে বুঝতে হবে আপনার কর্মক্ষেত্রে পদোন্নতি বা ব্যবসায় লাভের সম্ভাবনা রয়েছে।
শুক্রবার দেখা: শুক্রবার লক্ষ্মীর বার। এই দিনে উত্তর-পূর্ব দিকে বা পুজোর স্থানে টিকটিকি দেখা অর্থপ্রাপ্তির আগাম বার্তা বলে মনে করা হয়।
শস্যের আশপাশে: বাস্তুমতে টিকটিক যদি চাল বা গমের পাত্রের কাছে ঘোরাঘুরি করে তা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়। আর্থিক অবস্থার উন্নতি ও ধনপ্রাপ্তির সুযোগ তৈরি হয়।
জোড়া টিকটিকি: দু’টি টিকটিকি একসঙ্গে দেওয়ালে অবস্থান করলে পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে পুনর্মিলন কিংবা পারস্পরিক সম্পর্কের উন্নতির লক্ষণ বলে মনে করা হয়। জোড়া টিকটিকি নজরে পড়লে জানবেন দাম্পত্য সমস্যাগুলি ধীরে ধীরে উধাও হবে। কিন্তু জোড়া টিকটিকি মারামারি করলে তা নেতিবাচক বা অশুভ। বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে মতবিরোধ বা সম্পর্কে তিক্ততার চিহ্ন।
উত্তর-পূর্ব কোণে (ঈশান কোণ) টিকিটিকি : শাস্ত্রমতে, বাড়ির উত্তর-পূর্ব কোণে বা ঈশান কোণে টিকটিকি দেখা দেওয়া মানে খুব শীঘ্রই আপনার কোনও আটকে থাকা কাজ সফল হবে অথবা অপ্রত্যাশিত ভাবে অর্থ আসবে।