Delhi Hotel Fire

হাসপাতালে শেষের দিন গুনছেন বাবা, দেখভালের জন্য হোটেল ভাড়া করেন পুত্র, পরিবারের ৮ জনের মৃত্যু দিল্লির অগ্নিকাণ্ডে

জানা গিয়েছে, দু’তিন দিনের জন্য দিল্লিতে এসেছিলেন বিবেকরা। হাসপাতালে যেতে কোনও রকম অসুবিধা যাতে না হয়, তার জন্য কাছাকাছিই একটি হোটেল বুক করেন তাঁরা।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৪ জুন ২০২৬ ১৪:৩৮
বিবেকের স্ত্রী এবং কন্যা। ছবি: সংগৃহীত।

বিবেকের স্ত্রী এবং কন্যা। ছবি: সংগৃহীত।

হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বাবা। তাঁর সঙ্গে দেখা করতে হরিয়ানা থেকে সপরিবার দিল্লিতে গিয়েছিলেন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বিবেক অগ্রবাল। বিবেকের সঙ্গে এসেছিলেন তাঁর স্ত্রী তর্জনী, দুই কন্যা জিভিশা, ভারিয়া এবং আরও চার আত্মীয়। দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসা চলছিল বিবেকের বাবা রাধেশ্যাম অগ্রবালের।

Advertisement

জানা গিয়েছে, দু’তিন দিনের জন্য দিল্লিতে এসেছিলেন বিবেকরা। হাসপাতালে যেতে কোনও রকম অসুবিধা যাতে না হয়, তার জন্য কাছাকাছিই একটি হোটেল বুক করেন তাঁরা। মালবীয় নগরের একটি হোটেলে ওঠেন তাঁরা সকলে। দু’টি ঘর ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। বুধবার সকালে বিবেকরা সকলে ঘুম থেকে ওঠেন। হাসপাতালে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হন। যাওয়ার আগে হোটেলের রেস্তরাঁয় প্রাতরাশের জন্য যান। সেখানে যখন তাঁরা খাওয়াদাওয়া করছিলেন, সেই সময় হোটেলে আগুন লাগে। বিবেকদের কয়েক জন আত্মীয় আবার হোটেলের ঘরেই ছিলেন।

বিবেকের এক আত্মীয় জানিয়েছেন, হোটেলে আগুন লাগতেই ভিতরে আটকে পড়েছিলেন বিবেকরা। তখন দিল্লিতে এক তুতো ভাইয়ের সঙ্গে ফোন যোগাযোগ করে ঘটনাটি জানান। ফোন পেয়ে ওই তুতো ভাই এবং তাঁর স্ত্রী হোটেলে চলে আসেন। কিন্তু তত ক্ষণে আগুনের গ্রাসে চলে গিয়েছিল হোটেলের বেশির ভাগ অংশ। দমকলও সেখানে পৌঁছে গিয়ে আগুন নেবানোর চেষ্টা করছিল। বিবেকের তুতো ভাইয়ের স্ত্রী স্বাতী টাইমস অফ ইন্ডিয়া-কে বলেন, ‘‘হোটেলে পৌঁছোনোর পর দেখি বিবেককে উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু নিথর হয়ে পড়েছিলেন। সিপিআর দেওয়া হয়। বাঁচানো যায়নি।’’ বিবেকের স্ত্রী হোটেলের ঘরে ছিলেন। পুরো ঝলসে গিয়েছিলেন। তাঁর গয়না দেখে শনাক্ত করা হয়। বিবেকের দুই কন্যারও অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে। বড় কন্যা বেঙ্গালুরুতে পড়াশোনা করছিলেন। দাদুকে দেখবেন বলে তিনিও পরিবারের সঙ্গে দিল্লি এসেছিলেন। বিবেকের মামা এবং মামীরও মৃত্যু হয়েছে এই ঘটনায়। তাঁদের চলে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাধেশ্যামকে দেখবেন বলেই দিল্লিতে এসেছিলেন।

বিবেকের এক আত্মীয় জানান, চিকিৎসক জানিয়েছিলেন রাধেশ্যাম আর বেশি দিন বাঁচবেন না। তাই রাধেশ্যামের সঙ্গে সময় কাটাতে পুরো পরিবার গুরুগ্রাম থেকে দিল্লিতে আসেন। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাই কেড়ে নিল সকলের প্রাণ। প্রসঙ্গত, বুধবার সকালে দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ আগুন লাগে। সেই ঘটনায় ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১২ জন বিদেশি। আর অগ্রবাল পরিবারের আট জনের মৃত্যু হয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন