Gujarat Incident

মেয়ে এবং তাঁর প্রেমিককে খুন করে দেহ কুয়োয় ফেলেন বাবা! প্রমাণ লোপাটের পর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি

ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাতের কচ্ছের নখাত্রানা এলাকার। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, খুনের ষড়যন্ত্রে জড়িত অভিযুক্তের এক আত্মীয়ও। তাঁর সাহায্যেই তরুণী এবং তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন অভিযুক্ত।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২৬ ১২:২২
A man arrested for murdering daughter and her lover in Gujarat

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

মেয়ের প্রেমের সম্পর্কে আপত্তি ছিল। বার বার নিষেধ করার পরেও সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেনি মেয়ে। সেই রাগে মেয়ে এবং তাঁর প্রেমিককে খুন করলেন গুজরাতের এক ব্যক্তি। খুনের পর দেহ লোপাট করে এমন ভাবে গল্প সাজিয়েছিলেন যে তার কিনারা করতে পুলিশের সময় লাগল ৩৯ দিন!

Advertisement

ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাতের কচ্ছের নখাত্রানা এলাকার। পুলিশ সূত্রে খবর, ছোটে আঙ্গিয়ার নামে এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান ১৯ বছর বয়সি এক তরুণী। তবে তাঁর বাবা এই সম্পর্ক মেনে নেননি কখনওই। ওই যুগল ঠিক করেছিলেন, তাঁরা পালিয়ে বিয়ে করবেন। সেই মতো পরিকল্পনা করে গত ৩ ফেব্রুয়ারি ওই যুগল পালিয়ে যান।

মেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়ায় রেগে যান অভিযুক্ত। তখনই খুনের পরিকল্পনা ছকে ফেলেন তিনি। পুলিশ সূত্রে খবর, মেয়ে এবং তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু ফোনের ওপারে কখনওই রাগ দেখাননি। বরং মিষ্টি ভাষায় তাঁদের আশ্বস্ত করেন। তাঁদের দেখা করার প্রস্তাব দেন। বাবার কথায় আশ্বস্ত হয়ে ওই তরুণী দেখা করবেন বলে জানান। কোটড়া এবং খাম্বালার মাঝামাঝি এক নির্জন স্থানে দেখা করতে আসেন ওই যুগল। অভিযোগ, সে সময়ই দু’জনকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন অভিযুক্ত।

খুনের পর দু’জনের দেহ ১০০ ফুট গভীর এক কুয়োয় ফেলে দেন অভিযুক্ত। ভেবেছিলেন কুয়োয় দুই দেহের সলিল সমাধি হবে। কেউ ঘুণাক্ষরে খুনের বিষয়টি জানতে পারবেন না। দেহ লোপাটের পর অভিযুক্ত সোজা চলে যান থানায়। চোখে মুখে অসহায়তা, আতঙ্কের ছাপ। মেয়ের নিখোঁজ ডায়েরি করেন পুলিশের কাছে। সেই ভিত্তিতে তদন্তে নেমে তরুণীর বাবাকে নানা ধরনের প্রশ্ন করেন তদন্তকারীরা। প্রথমে অভিযুক্তের গল্পে বিশ্বাস করলেও পরে বয়ানে অসঙ্গতি নজরে আসে পুলিশের। তার পরেই লাগাতার জেরার মুখে শেষ পর্যন্ত ১৩ মার্চ পুলিশের সামনে ভেঙে পড়েন অভিযুক্ত। স্বীকার করেন অপরাধের কথা। তাঁর স্বীকারোক্তির উপর ভিত্তি করে ওই কুয়োর মধ্যে থেকে দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, খুনের ষড়যন্ত্রে জড়িত অভিযুক্তের এক আত্মীয়ও। তাঁর সাহায্যেই তরুণী এবং তাঁর প্রেমিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন অভিযুক্ত। পুলিশ দু’জনকেই গ্রেফতার করেছে।

Advertisement
আরও পড়ুন