ইনদওরে ‘বিষাক্ত’ পানীয় জল খেয়ে মৃত্যু। শোকার্ত পরিবার। — ফাইল চিত্র।
আবার মধ্যপ্রদেশের ইনদওরে ‘বিষাক্ত’ জল পান করে এক বৃদ্ধার মৃত্যু! মাস খানেক আগে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। এক হাসপাতাল থেকে আর এক হাসপাতাল— অবস্থার অবনতির কারণে বার বার স্থানান্তরিত করা হয় তাঁকে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাঁচানো গেল না অনিতা কুশওয়া নামে বছর পঁয়ষট্টির ওই বৃদ্ধাকে।
বমি এবং ডায়েরিয়া নিয়ে গত ২৮ ডিসেম্বর অসুস্থ হয়ে ইনদওরের ভাগ্যশ্রী হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছিল অনিতাকে। দু’দিন চিকিৎসার পর তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেন চিকিৎসকেরা। বাড়িতে ফেরার কয়েক ঘণ্টা পর থেকেই আবার তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকে। ১ জানুয়ারি দ্রুত তাঁকে অরবিন্দ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি দিন সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন অনিতা।
তবে তার পরেও ওই বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার কোনও উন্নতি লক্ষ করা যায়নি। অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় ৪ জানুয়ারি বম্বে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয় অনিতাকে। তবে চিকিৎসার পরেও অবস্থার উন্নতি না-হওয়ায় তাঁকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখেন চিকিৎসকেরা। ক্রমাগত হেমোডায়ালাইসিস করা হয় তাঁর। তার পরে বেশ কয়েক দিন সিসিইউ-তে চিকিৎসা চলে অনিতার। চিকিৎসা চলাকালীনই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন। রবিবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
দিন কয়েক আগে ইনদওরের ভগীরথপুরায় ‘বিষাক্ত’ জলের প্রভাব দেখা গিয়েছিল। ভগীরথপুরায় একটি থানার কাছে পাইপে ফাটল চিহ্নিত করা হয়। ঘটনাচক্রে, যে জায়গায় পাইপ ফাটে, সেই পাইপলাইনের উপরে একটি শৌচাগার নির্মাণ করা হয়। পাইপে ফাটল ধরায় শৌচাগারের জল চুঁইয়ে পানীয় জলের সঙ্গে মিশেছে। আর তা থেকেই এত বড় বিপত্তি। ‘বিষাক্ত’ জল পান করায় ভাগীরথপুরায় আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। শুধু তা-ই নয়, কমপক্ষে ১৫ জন মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। তবে স্থানীয়দের দাবি, বমি এবং ডায়েরিয়ার কারণে ২৫ জন মারা গিয়েছেন। পরে পর পর আরও অনেকে একই ভাবে আক্রান্ত হওয়ার খবর মেলে। এখনও পর্যন্ত ৩২ জনের মৃত্যুর নেপথ্যে ‘বিষাক্ত জল’ পান করাকে দায়ী করা হচ্ছে।