Biker’s Death in Delhi

দিল্লির রাস্তায় জল বোর্ডের খোঁড়া মারণ-গর্তে পড়ে প্রাণ গেল বাইক আরোহী যুবকের, আক্রমণে আপ

সমাজমাধ্যমে দুর্ঘটনার যে ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে একটি গভীর আয়তাকার গর্তে একটি বাইক পড়ে রয়েছে। তার পাশেই পড়ে রয়েছে আরোহীর নিথর দেহ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:২৬
AAP tears into Delhi’s BJP government as biker dies in uncovered pit dug on the road

দিল্লিতে জল বোর্ডের নির্মাণকাজের জন্য খোঁড়া গর্তে পড়ে মৃত্যু বাইক আরোহীর। ছবি: সংগৃহীত।

রাজধানীর রাস্তায় গভীর গর্তে পড়ে বাইক আরোহীর মৃত্যু। দিল্লির জনকপুরী এলাকায় সরকারি কাজের জন্য রাস্তার মাঝে খোঁড়া হয়েছিল গর্ত। সেই গর্তই প্রাণ নিল যুবকের। গত জানুয়ারিতে নয়ডায় প্রায় একই রকম ঘটনায় আর এক যুবকের মৃত্যু হয়। সেই ঘটনা থেকে দিল্লির সরকার কোনও শিক্ষা নেয়নি বলে দাবি করে আক্রমণ শুরু করেছে প্রধান বিরোধী দল আম আদমি পার্টি (আপ)।

Advertisement

সমাজমাধ্যমে দুর্ঘটনার যে ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে একটি গভীর আয়তাকার গর্তে একটি বাইক পড়ে রয়েছে। তার পাশেই পড়ে রয়েছে আরোহীর নিথর দেহ। তাঁর মাথায় হেলমেট, গায়ে রাইডিং জ্যাকেট এবং হাতে গ্লাভস, পায়ে জুতো। অর্থাৎ বাইক চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে ওই যুবকের তরফ থেকে কোনও গাফিলতি ছিল বলে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়নি। কিন্তু রাস্তার মাঝে এমনই গভীর গর্ত খুঁড়ে রাখা হয়েছে যে, বাইক নিয়ে সেখানে পড়ার পরে আর বাঁচেননি কমল নামে ওই যুবক।

দিল্লি জল বোর্ডের একটি নির্মাণকাজের জন্য রাস্তার মাঝে ওই গর্ত খোঁড়া হয়েছিল। কিন্তু রাস্তার মাঝে অত বড় গর্ত করার পরে সেটিকে ঘিরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। যদি গর্তটি থেকে পথচারীদের দূরে রাখার মতো যথেষ্ট ব্যবস্থা নেওয়া হত, তা হলে এ রকম দুর্ঘটনা ঘটা সম্ভবই নয় বলে বিরোধী দলের দাবি।

কমল একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের রোহিনী শাখার সহকারী ম্যানেজার ছিলেন। তাঁর পারিবারিক সূত্র থেকে জানা গিয়েছে যে, তিনি বুধবার বেশি রাতে অফিস থেকে বাইকে বাড়ি ফিরছিলেন। জনকপুরী ডিস্ট্রিক্ট সেন্টারের কাছে থাকাকালীন তিনি নিজের যমজ ভাই করণকে ফোন করে জানিয়েছিলেন যে, ১০ মিনিটের মধ্যে বাড়ি পৌঁছোবেন। কিন্তু তার পরে দীর্ঘক্ষণ কাটলেও তিনি বাড়ি ফেরেননি। পরিবারের লোকজন বার বার ফোন করলেও কেউ ফোন তোলেননি। পরে ফোন বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলেও পারিবারের দাবি।

কমলের পরিবার জানিয়েছে যে, তাঁকে খুঁজে না-পেয়ে বুধবার রাতেই তাঁরা পুলিশের দ্বারস্থ হন। প্রায় এক ডজন থানায় তাঁরা ঘোরেন কমলের খোঁজ পেতে। পুলিশ কমলের মোবাইল ফোনের শেষ অবস্থান পরিবারকে জানিয়েছিল। কিন্তু তাঁকে খুঁজে দিতে পারেনি। পরে পরিবারকে জানানো হয় যে, কমলের দেহ পাওয়া গিয়েছে।

দিল্লির প্রাক্তন মন্ত্রী তথা আপ-এর রাজ্য সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ কমলের নিথর দেহের ছবি পোস্ট করে দিল্লির বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘‘একজন নিরীহ বাইক আরোহী রাস্তার গভীর গর্তে পড়লেন, আটকে গেলেন, সারা রাত সেখানে পড়ে রইলেন, মারা গেলেন। নয়ডার ঘটনা থেকে দিল্লির বিজেপি সরকার কিছুই শিখল না।’’

গত ১৬ জানুয়ারি নয়ডায় ২৭ বছর বয়সি এক সফ্টঅয়্যার ইঞ্জিনিয়রের মৃত্যু হয়েছিল প্রায় একই রকমের দুর্ঘটনায়। নয়ডার সেক্টর ১৫০-এ একটি নির্মীয়মাণ কাঠামোর পাশে রাস্তার বাঁকের মুখে একটি গভীর গর্ত খুঁড়ে রাখা হয়েছিল। তাতে জলও জমেছিল। যুবরাজ মেহতা নামে ওই যুবক গাড়ি নিয়ে সেই গর্তে পড়ে যান। তাঁরও মৃত্যু হয়। ওই এলাকা উত্তরপ্রদেশে হলেও দিল্লির লাগোয়াই। ফলে নয়ডার ঘটনাটি নিয়ে দিল্লিতেও হইচই হয়েছিল। কিন্তু তার পরেও দিল্লির রাস্তায় মারণ-গর্ত আরও এক যুবকের প্রাণ নিল।

যে এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, সেই জনকপুরীর বিধায়ক বিজেপির আশিস সুদ। তিনি দিল্লির নগরোন্নন মন্ত্রীও। আশিস ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

Advertisement
আরও পড়ুন