(বাঁ দিকে) অহমদাবাদে এয়ার ইন্ডিয়া দুর্ঘটনার একমাত্র জীবিত যাত্রী বিশ্বাসকুমার রমেশ। দুর্ঘটনার পরে উদ্ধারকাজ (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।
২০২৫ সালের ১২ জুন। ঠিক এক বছর আগে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছিলেন তিনি। অহমদাবাদের বিমান দুর্ঘটনার একমাত্র জীবিত যাত্রী বিশ্বাসকুমার রমেশ। এই এক বছরে অনেক কিছু পাল্টেছে। কিন্তু সে দিনের স্মৃতি এখনও টাটকা রমেশের। চোখ বন্ধ করলে ভেসে উঠছে দুর্ঘটনার ছবি। এখনও যেন তিনি অনুভব করছেন সেই তীব্র ঝাঁকুনি। আর কেঁপে কেঁপে উঠছেন রমেশ। তাঁর কথায়, ‘‘এক বছর ধরে ঘুম, উদ্বেগ এবং কষ্টকর স্মৃতি নিয়ে লড়াই করছি।’’
শরীরে ক্ষত শুকিয়ে গিয়েছে। তবে মনে ক্ষত আজও দগদগে। রমেশ বলেন, ‘‘মানুষ দেখে আমি বেঁচে গিয়েছি। কিন্তু বন্ধ দরজার আড়ালে চলতে থাকা লড়াইটা কেউ দেখতে পান না।’’ এক বছর পরেও সাধারণ জীবনে ফেরার জন্য যুদ্ধ করছেন রমেশ।
৪০ বছরের ভারতীয় বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক রমেশ ২০০৩ সাল থেকে ব্রিটেনে থাকেন। তাঁর স্ত্রী এবং সন্তানেরা সেখানেই রয়েছেন। রমেশ ভারতে এসেছিলেন আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে। ২০২৫ সালের ১২ জুন তাঁর সঙ্গে লন্ডনে ফিরছিলেন তাঁর ভাইও। দুর্ঘটনার পর তাঁকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে রমেশ জানতে পারেন, তাঁর ভাই মারা গিয়েছেন।
এয়ার ইন্ডিয়ার এআই১৭১ বিমানের ইকোনমি ক্লাসের ১১এ আসনে বসেছিলেন রমেশ। তাঁর আসনটি ছিল আপৎকালীন দরজার কাছেই। কিন্তু কী ভাবে বিমান থেকে বাইরে বেরিয়েছেন, বলতে পারেননি রমেশ। তিনি ব্যতীত ওই বিমানের আর কেউ বাঁচেননি। রমেশের কথায়, ‘‘আমি বেঁচে আছি। তার জন্য কৃতজ্ঞ। কিন্তু টিকে থাকাটা লড়াইয়ের আসল গল্প। ওই দুর্ঘটনার পর থেকে আমি কী কী প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছি, তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।’’ রমেশ জানান, শারীরিক এবং মানসিক ভাবে তো বটেই, আর্থিক ভাবেও সংগ্রাম চালাচ্ছেন তিনি।
এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান দুর্ঘটনার এক বছর পার। এখনও তদন্তের চূড়ান্ত কোনও রিপোর্ট প্রকাশিত হয়নি। এই ঘটনার তদন্ত করছে এয়ারক্র্যাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (এএআইবি)। তাদের সঙ্গে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ, ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক এবং আমেরিকার জাতীয় পরিবহণ নিরাপত্তা বোর্ডও যুক্ত। সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্র উল্লেখ করে জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনার চূড়ান্ত তদন্ত রিপোর্ট আসতে বিলম্ব হবে।