Economic Concession

চিনের মতো ‘ভুল’ ভারতের ক্ষেত্রে করবে না আমেরিকা

মোদী সরকারকে চাপে ফেলার পাশাপাশি ভারতের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন আমেরিকার এই সহ-সচিব।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৭ মার্চ ২০২৬ ০৮:৪৮

চিনকে অতীতে অর্থনৈতিক ছাড় দিয়ে যে ভুল ওয়াশিংটন করেছে তার পুনরাবৃত্তি ভারতের সঙ্গে করা হবে না। আজ রাইসিনা আলোচনায় ভারতকে চূড়ান্ত অস্বস্তিতে ফেলে এ কথা জানিয়েছেন আমেরিকার বিদেশ দফতরের সহ- সচিব ক্রিস্টোফার ল্যান্ডিউ। তাঁর কথায়, গত দু’দশকে চিনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে আমেরিকা। তাই ভারতের সঙ্গে সম্প্রতি চূড়ান্ত হওয়া বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রেও ওয়াশিংটন এ বার অনেক বেশি সতর্ক এবং নিজেদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি স্পষ্ট ভাবে মাথায় রাখছে।

ভারতের প্রাক্তন বিদেশসচিব কানওয়াল সিব্বল প্রশ্ন তুলেছেন, “আমেরিকার এমন কঠোর বার্তা দেওয়ার কারণ কী? উনি আসলে বলতে চাইছেন, ভারতের অর্থনীতির উত্থান আমেরিকা নিয়ন্ত্রণ করবে। নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিষয়টিকে বুঝে নেওয়া প্রয়োজন ভারতের।”

ল্যান্ডিউ আজ বলেন, “ভারতকে বুঝতে হবে, ২০ বছর আগে চিনের ক্ষেত্রে আমরা যে ভুল করেছিলাম, ভারতের ক্ষেত্রে তা আর করব না। আমরা তখন ভেবেছিলাম, চিনকে আমাদের বাজারে প্রবেশের সুযোগ করে দিলে তা সকলের জন্য ভাল হবে। কিন্তু পরে দেখা গেল, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই চিন আমাদেরই ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে।” তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, আমেরিকা এমন কোনও পদক্ষেপ করবে না যা আমেরিকার নাগরিকদের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়। ল্যান্ডিউয়ের কথায়, “আমরা নিশ্চিত করতে চাই, আমরা যা কিছু করব তা যেন আমাদের নাগরিকদের পক্ষে সুবিধজনক হয়। কারণ শেষ পর্যন্ত তাঁদের কাছেই আমাদের দায়বদ্ধতা। ঠিক যেমন ভারত সরকারকেও তাদের জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হয়।”

তবে মোদী সরকারকে চাপে ফেলার পাশাপাশি ভারতের ক্রমবর্ধমান আন্তর্জাতিক গুরুত্বের কথাও তুলে ধরেন আমেরিকার এই সহ-সচিব। বলেন, একুশ শতকের আন্তর্জাতিক রাজনীতির গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে ভারতের উত্থানের উপরে। তাঁর মতে, বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ হিসেবে ভারতের মানবসম্পদ এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনা-- আগামী দশকগুলিতে বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। ভারত-আমেরিকা সম্পর্ককে তিনি ‘পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা অংশীদারি’ বলেও ব্যাখ্যা করেন। তাঁর কথায়, এই সম্পর্ক কোনও দান বা দয়ার ভিত্তিতে নয়, পারস্পরিক কৌশলগত এবং অর্থনৈতিক স্বার্থের জায়গা থেকে তৈরি হয়েছে। ল্যান্ডিউয়ের বক্তব্য, “আমি এখানে সমাজসেবা করতে আসিনি। এসেছি জাতীয় স্বার্থে। একই সঙ্গে আমরা মনে করি, ভারতেরও স্বার্থ রয়েছে এই অংশীদারিকে আরও শক্তিশালী করার।”

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এইচ১বি ভিসা সংস্কারের ফলে হাজার হাজার ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী অনিশ্চয়তার মধ্যে। ভিসা স্ট্যাম্পিং-এ বিলম্বের ফলে অনেকে ভারতে আটকে রয়েছেন। এই বিষয়টি নিয়েও নিশ্চিন্ত হওয়ার বার্তা দেননি ল্যান্ডিউ। বলেছেন, “আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের জন্য আমেরিকার নাগরিকদের সঙ্গে যদি প্রতিযোগিতাতেই নামতে হয়, তাহলে ওই বিদেশি শিক্ষার্থীদের আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা দখল করা ঠিক নয়। এই ধরনের অভিবাসন আমেরিকার সমাজের জন্য কী সুবিধা নিয়ে আসছে তা-ই আমাদের সরকার মূল্যায়ন করছে। আমেরিকার অভিবাসন নীতি আমেরিকার কল্যাণের জন্যই ব্যবহার করা উচিত।”

আরও পড়ুন