অমিত শাহ। ফাইল চিত্র।
এক পা এক পা করে এগোচ্ছেন তিনি, পদ্মবনে অন্তত তেমনই গুঞ্জন ছড়িয়েছে।
তিনি অমিত শাহ। প্রায় আড়াই দশক ধরে নরেন্দ্র মোদীর ছায়াসঙ্গী, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইতিমধ্যেই মেপে পা ফেলে মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, রাজস্থান, ওড়িশায় নিজের পছন্দ মতো ব্যক্তিকে মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে বসিয়েছেন বলে মানছেন দলেরই একাংশ। এ বার বিহারে ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে নীতীশ কুমার সরে যাওয়ায় ফের একটি রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রী পেতে চলেছে বিজেপি। সেখানেও যিনিই মুখ্যমন্ত্রী হোন না কেন, তিনি যে অমিত শাহেরই ঘনিষ্ঠ হতে চলেছেন, তা নিয়ে দ্বিমত নেই দলের মধ্যে। বিরোধীদের মতে, ২০২৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে যথাসম্ভব বেশি সংখ্যক রাজ্যে নিজের পছন্দের লোককে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসিয়ে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করার নীতি নিয়ে এগোচ্ছেন অমিত শাহ।
গত বছরেই ৭৫ বছরে পা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পরবর্তী লোকসভা নির্বাচন হবে ২০২৯ সালে। সেই সময় পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকলে, মোদীর বয়স হবে প্রায় ৭৯ বছর। ফলে চতুর্থ বার তিনি প্রধানমন্ত্রী পদের দাবি করবেন, এমন সম্ভাবনা কম বলে আপাতত মনে করছেন অনেকে। রাজনীতির অনেকের মতে, সেই পরিস্থিতিতে মূলত প্রধানমন্ত্রী হিসাবে নিজেকে ওই পদের অপ্রতিদ্বন্দ্বী মুখ হিসাবে তুলে ধরার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছেন গান্ধীনগরের সাংসদ।
রাজনীতিকদের একাংশের মতে, সে সময়ে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে তাঁকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ ও মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীস। এর মধ্যে যোগী-রাজ্যে ২০২৭ সালে ভোট। সেই ভোটে তিনি যদি হেরে যান, তা হলে সহজাত প্রক্রিয়াতেই দৌড় থেকে সরে যাবেন যোগী। কিন্তু যদি যোগী তৃতীয় বার দলকে উত্তরপ্রদেশে জেতাতে সক্ষম হন, সে ক্ষেত্রে তিনি আগামী দিনে শাহের মতোই প্রধানমন্ত্রিত্বের দাবি যে জানাবেন, তা এখনই অনেকাংশে স্পষ্ট। তবে মোদীর পরে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, তা নির্ণয় করার পিছনে আরএসএস ভবিষ্যতে ভূমিকা নেবেই। শাহ-ঘনিষ্ঠ শিবির মনে করে, বর্তমানে যে সমীকরণ রয়েছে, তাতে আরএসএসের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসাবে পছন্দের তালিকায় দেবেন্দ্র ফডণবীস, যোগী আদিত্যনাথ কিংবা বর্তমান কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ চৌহান থাকলেও অমিত শাহ এই মুহূর্তে অন্তত পছন্দের তালিকায় নেই।
আর তা বুঝেই সম্প্রতি বিজেপি যে রাজ্যগুলিতে জিতেছে, তাতে এমন নেতাদের মুখ্যমন্ত্রী করা হচ্ছে, যাঁরা সকলেই শাহের ঘনিষ্ঠ। শুধু তাই নয়, দলের জাতীয় সভাপতি থেকে বিভিন্ন রাজ্যের রাজ্য সভাপতি— এঁরা সকলেই দলে অমিত শাহ শিবিরের লোক বলে পরিচিত। রাজনীতিকদের একাংশের মতে, দল ও রাজ্যের ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ পদগুলিতে নিজের পছন্দের লোককে বসিয়ে আগামী দিনে তাঁর বিরুদ্ধে যাতে কোনও বিরোধিতার স্বর না ওঠে, তা নিশ্চিত করার কৌশল নিয়ে এগোচ্ছেন শাহ। শুধু তাই নয়, আগামী দিনে দলের অন্দরেও সমর্থনের প্রশ্নে যাতে কোনও খামতি না থাকে, সম্ভবত তাও নিশ্চিত করতে লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছেন তিনি।
এ যাত্রায় পশ্চিমবঙ্গে জিততে মরিয়া শাহ। নিজের অস্ত্রাগারেরসমস্ত হাতিয়ার ব্যবহার করে পশ্চিমবঙ্গে এ যাত্রায় বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে চান তিনি। সেটায় সফল হলে তাঁর হাত ধরেই বঙ্গে গেরুয়া শাসনের শুরু হবে। যা দীর্ঘ সময় ধরে আরএসএসের কাঙ্খিত লক্ষ্য। শাহ শিবির ভাল করেই জানে, এ যাত্রায় বঙ্গ বিজয় সম্পন্ন হলে আরএসএসের যে সমর্থন এখন অধরা রয়েছে, তা হয়তো ভবিষ্যতে অর্জন করতে সক্ষম হবেন তিনি।