অমিত শাহ। —ফাইল চিত্র।
সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে জনবিন্যাসের চরিত্রের বদল খতিয়ে দেখতে গত কালই কমিটি গঠন করেছে কেন্দ্র। আগামী দিনে সীমান্ত থেকে পঞ্চাশ কিলোমিটারের মধ্যে (বিএসএফের এক্তিয়ারভুক্ত এলাকা) জনবিন্যাসের চরিত্র বদল হচ্ছে কি না, তা নজর রাখার জন্য বিএসএফকে আজ নির্দেশ দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ রাজস্থানে সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি বৈঠকে ওই নির্দেশ দেন শাহ। স্বরাষ্ট্র সূত্রের মতে, পশ্চিম সীমান্তে দাঁড়িয়ে ওই ঘোষণা করলেও ওই নীতি প্রযোজ্য হবে পূর্ব সীমান্তেও।
এ ছাড়া, অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার স্বার্থে আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত যে সব অবৈধ নির্মাণ গড়ে উঠেছে, তা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন শাহ। আজ রাজস্থানের বিকানেরে পশ্চিম সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে বৈঠকে বসেন শাহ। তাতে তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সীমান্ত সুরক্ষার স্বার্থে তিনি আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত যে সমস্ত অবৈধ নির্মাণ রয়েছে, তা আগামী দিনে প্রশাসনকে ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র সূত্রের ব্যাখ্যা, যুদ্ধকালীন বা আপৎকালীন পরিস্থিতিতে যাতে সেনা বা আধাসেনার গতিবিধিতে কোনও সমস্যা সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করতেই ওই পদক্ষেপ।
ওই নির্দেশের প্রভাব আগামী দিনে পড়তে চলেছে পশ্চিমবঙ্গেও। আগামী ১৫ জুন পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন শাহ। স্বরাষ্ট্র সূত্রের মতে, পশ্চিমবঙ্গের আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে একাধিক স্থানে অবৈধ নির্মাণ রয়েছে। যার মধ্যে কিছু নির্মাণ পাচারকারীদের সুবিধে করে দেওয়ার জন্য তৈরি করা হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষা বাড়ানোর পাশাপাশি চোরাচালান রুখতে ওই নির্মাণ ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি প্রতিটি সীমান্ত জেলায় অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান রুখতে ৩৬০ ডিগ্রি নিরাপত্তা গ্রিড গড়ে তোলার কথা জানিয়েছেন শাহ। মূলত চার স্তরীয় ওই সুরক্ষা গ্রিডে আধাসেনা, গোয়েন্দা সংস্থা, রাজ্য প্রশাসন ও আমজনতার মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলার উপরে জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে সন্দেহজনক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও সন্দেহজনক লেনদেন চিহ্নিত করা, জেলাগুলিতে থাকা বড় মাপের সংস্থার আর্থিক লেনদেনে নজর রাখার সঙ্গে জাল আধার কার্ড তৈরি আটকানোর উপরেও জোর দিয়েছেন শাহ।
পূর্ব সীমান্তে ধারাবাহিক অনুপ্রবেশের ফলে জনবিন্যাসের চরিত্র পাল্টে যাচ্ছে বলে দীর্ঘদিনের অভিযোগ বিজেপির। কী ভাবে তা রোখা সম্ভব হবে, তার পথ খুঁজতে গত কালই একটি কমিটি গঠন করেছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় জনবিন্যাসের চরিত্র পাল্টাচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব বিএসএফের হাতে তুলে দিয়েছেন শাহ।
সূত্রের মতে, এ দিনের বৈঠকে শাহ নির্দেশ দিয়েছেন, সীমান্ত সংলগ্ন কোনও এলাকায় অস্বাভাবিক ভাবে জনবিন্যাসের চরিত্র বদলে যেতে শুরু করলে বিএসএফ তা সংশ্লিষ্ট রাজ্য প্রশাসনকে জানাবে। এ দিকে, অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গে ধরপাকড় শুরু হওয়ায় অনেক বাংলাদেশি নিজের দেশে ফিরে যেতে শুরু করেছেন। অনেককে জোর করে পাঠানো হচ্ছে। এই ধরনের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরানোর প্রশ্নে সরকারের কোনও ঘোষিত নিয়ম বা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে চুক্তি আছে কি না, তা তথ্যের অধিকার আইনে জানতে চেয়েছিলেন এক ব্যক্তি। জবাবে কেন্দ্র জানিয়েছে, প্রশ্নটি স্পষ্ট নয়। তাই জবাব দেওয়া সম্ভব নয়।