Uttar Pradesh BJP

উত্তরপ্রদেশে বিজেপিতে শাহ-যোগী ভারসাম্য

দিল্লি থেকে অমিত শাহ, না কি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, কে উত্তরপ্রদেশে দলের রাশ রাখতে সমক্ষ হবেন, এ নিয়ে জল্পনা ছিল তুঙ্গে।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৬ জুন ২০২৬ ০৮:২৬
অমিত শাহের সঙ্গে যোগী আদিত্যনাথ।

অমিত শাহের সঙ্গে যোগী আদিত্যনাথ। ফাইল চিত্র।

নয়াদিল্লি, ২৫ জুন: বাবা, দাদার পরে এ বার দলের গুরুদায়িত্ব পেলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের ছেলে নীরজ সিংহ।

উত্তরপ্রদেশে টানা তৃতীয় বারের জন্য ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে আজ সংগাঠনিক স্তরে দলকে সাজাল উত্তরপ্রদেশ বিজেপি। তাতেই সহ-সভাপতির দায়িত্ব পেলেন রাজনাথ-পুত্র নীরজ। বিজেপি সূত্রের বক্তব্য, নতুন রাজ্য বিজেপি সভাপতি পঙ্কজ চৌধরির নেতৃত্বে যে নতুন সাংগঠনিক ‘টিম’ ঘোষণা করা হয়েছে, তা মূলত জাতপাতের ভারসাম্যকে মাথায় রেখে করা হলেও, জনসংখ্যায় প্রধান্য থাকায় বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ওবিসি সম্প্রদায়কে। এ বারের পঙ্কজের দলে ওবিসি নেতার সংখ্যা ১৬ থেকে ২৫ করা হয়েছে। সার্বিক ভাবে বেড়েছে সংগঠনের চেহারা। গত ‘টিমে’ যেখানে ৫৫ জন সদস্য ছিল, এ বার তা বেড়ে হয়েছে ৬৪।

দিল্লি থেকে অমিত শাহ, না কি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ, কে উত্তরপ্রদেশে দলের রাশ রাখতে সমক্ষ হবেন, এ নিয়ে জল্পনা ছিল তুঙ্গে। আজ তালিকা প্রকাশের পরে দেখা যাচ্ছে, রাজনাথের পুত্র এবং শাহ-ঘনিষ্ঠ নীরজ সহ-সভাপতি হয়েছেন। শাহ-ঘনিষ্ঠ আরএসএস কর্মকর্তা এবং এত দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিজস্ব দল তো বটেই, কার্যত তাঁর আপ্ত সহায়কের দায়িত্ব পালন করা অঙ্কুর শর্মা সম্পাদক হয়েছেন। সংগঠনে স্থান পেয়েছেন শাহ-ঘনিষ্ঠ সাংবাদিক যতেন্দ্র শর্মা। অন্য দিকে, সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত প্রাক্তন সমাজবাদী বিধায়ক পূজা পাল, সুরেশ রাণা যোগী-ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত। গোরক্ষপুর ও কাশী এলাকায় ক্ষেত্রীয় সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া বিনোদ রাই ও অশোক চৌরাসিয়াও যোগী-ঘনিষ্ঠ। বিজেপির এক কেন্দ্রীয় নেতার ব্যাখ্যা, কেবল জাতপাতের ভারসাম্যই নয়, যোগী ও শাহ শিবিরের মধ্যেও ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

গত লোকসভা নির্বাচনে পিডিএ (পিছড়া-দলিত-অল্পসংখ্যক) সমাজের সমর্থনকে কব্জা করায় উত্তরপ্রদেশে আসন প্রাপ্তির নিরিখে বিজেপিকে অনেকটাই পিছনে ফেলে দেন অখিলেশ যাদব। সেই সমীকরণ ভাঙতে এ বারের পদাধিকারীর তালিকায় উচ্চবর্ণের সঙ্গে আছেন ওবিসি ও দলিত নেতারা। দলের ১৯ জন সহ-সভাপতির মধ্যে চার জন রাজপুত, তিন জন ব্রাহ্মণ, দু’জন বৈশ্য সমাজের। এ ছাড়া, জাটভ নন এমন দু’জন নেতা-নেত্রীকে সহ-সভাপতি করেছে দল। লক্ষ্য, পাসি-কোরিসের মতো দলিত সমাজের ভোটনিশ্চিত করা।

বিজেপি সূত্রের বক্তব্য, ওবিসি-দের মধ্যে স্থান পেয়েছেন কুশওয়াহা, মৌর্য, সাইনি, জাট, কুর্মি, যাদব, পাল সমাজের নেতারা। যাদব নন, এমন ওবিসি সমাজ ও জাটভ নন এমন দলিত সমাজের সমর্থন পেতে রাজভড়, বিশ্বকর্মা, নিষাদ, নোনিয়া, বাল্মীকি সমাজের বিজেপি নেতাদের স্থান দিয়ে সব শ্রেণিকে বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেছে দল।

উত্তর প্রদেশের পরে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় স্তরেও রদবদল সেরে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে দলীয় নেতৃত্বের। একটি সূত্রের মতে, সংগঠনের রদবদল এখন হলেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার রদবদল বাদল অধিবেশনের পরে করার কথা ভাবছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

আরও পড়ুন