—প্রতীকী চিত্র।
পশ্চিমবঙ্গের ভুয়ো আধার কার্ড ব্যবহার করে বেঙ্গালুরুতে চাকরি করছিলেন। কিন্তু প্রেমিকের সন্ধানে অসমে পাড়ি দিয়েই ধরা পড়ে গেলেন বাংলাদেশের তরুণী। বিমানবন্দর থেকে সোজা থানা হয়ে অবশেষে তাঁর ঠাঁই হল গোয়ালপাড়ার ট্রানজ়িট শিবিরে।
২৪ বছরের ওই তরুণী বেঙ্গালুরু থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে গুয়াহাটি পৌঁছেছিলেন। তাঁর অসমবাসী সহকর্মী ও প্রেমিক কয়েক মাস আগে অসমে এসে আর বেঙ্গালুরুতে ফেরেননি। তাঁর খোঁজেই এসেছিলেন ওই তরুণী। বিমানবন্দরে মালপত্র নিয়ে বেরোনোর সময়ে অসম পুলিশের গোয়েন্দা শাখার কর্মীদের চোখে তাঁর গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয়। আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তরুণী স্বীকার করে নেন, তাঁর বাড়ি ঢাকার কাছে নারায়ণগঞ্জে। ২০২৪ সালে আগরতলার এক দালালের সাহায্যে ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে ঢুকে তিনি অসমে আসেন। গুয়াহাটি হয়ে ট্রেনে বেঙ্গালুরু যান। বেঙ্গালুরুতে তিনি একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করছিলেন। তাঁর কাছে ‘পূজা দাস’ নামে তৈরি একটি ভুয়ো আধার কার্ড উদ্ধার হয়, যেখানে পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার একটি ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছিল। ওই ভুয়ো পরিচয়ের জোরেই তিনি ভারতের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত ও বসবাস করছিলেন। বিএসএফ আধিকারিকেরা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পরে পুলিশের সীমান্ত শাখার হাতে তুলে দেন। তরুণীকে গোয়ালপাড়া ট্রানজ়িট শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
মেঘালয়ের সংগঠন ‘ফেডারেশন অব খাসি, জয়ন্তীয়া অ্যান্ড গারো পিপল্’-এর অভিযোগ, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা খাসিদের পদবি ব্যবহার করে নিজেদের মেঘালয়ের আদিবাসী হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করছে, এমনকি মেঘালয়ে শুরু হতে চলা এসআইআরে ভোটার তালিকায় নাম তোলার চেষ্টাও চালিয়ে যাচ্ছে। সংগঠনের দাবি, সম্প্রতি সীমান্তবর্তী গ্রাম পরিদর্শনের সময় তারা দেখেছে, সন্দেহভাজন বাংলাদেশিরা খাসি পদবি ব্যবহার করে সরকারি সুবিধা পাওয়ার চেষ্টা করছে। শুধু পদবি দেখে এসআইআরে নাম অন্তর্ভুক্ত করা হলে বিপদ হতে পারে বলে শঙ্কা সংগঠনের।
রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী প্রেস্টোন টিনসং মেনে নিয়েছেন, অনুপ্রবেশ মেঘালয়ের একটি বড় সমস্যা। অনেক ক্ষেত্রে বিএসএফ অনুপ্রবেশকারীদের আটক করলেও তাদের ফেরত নিতে অস্বীকার করছেন বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। অনেকে আটকে পড়ছে সীমান্তের জ়িরো লাইনে।