বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। — নিজস্ব চিত্র।
পুরোদস্তুর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই দল গোছাতে মাঠে নেমে পড়লেন বিজেপির কার্যকরী সভাপতি নিতিন নবীন। সব ঠিক থাকলে ২০ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক ভাবে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি হচ্ছেন তিনি। কিন্তু তার আগেই, ২১ জানুয়ারি সব রাজ্যের বিজেপি সভাপতিদের আগাম বৈঠক ডেকে দিলেন তিনি।
দলীয় সূত্রের মতে, ১৯ জানুয়ারি বিজেপির সভাপতি নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেবেন নিতিন। রেওয়াজ মাফিক তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী না-থাকারই সম্ভাবনা। তা হলে ওই দিনই সভাপতি হিসেবে নাম ঘোষণা হবে, পরের দিন আনুষ্ঠানিক ভাবে দায়িত্ব নেবেন তিনি। এই নির্বাচন উপলক্ষে সব রাজ্যের বিজেপি সভাপতি ও জাতীয় পরিষদের সদস্যদের উপস্থিত থাকার কথা দিল্লিতে। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিতিন ২১ জানুয়ারি রাজ্য সভাপতিদের সঙ্গে বৈঠকে করতে চলেছেন, সূত্রের খবর। বৈঠকে ডাকা হয়েছে সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন)-দেরও। সামনে যে সব রাজ্যে ভোট, তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ, কেরল ও তামিলনাড়ু এখনও দুর্ভেদ্য বিজেপির কাছে। নিতিন জানেন, ওই রাজ্যগুলিতে জয়ের পতাকা ওড়ানো বেশ কঠিন। আবার ওই তিন রাজ্যে বিজেপি জিততে না পারলে সে দায়ও বর্তাবে তাঁর উপরে।
হাতে সময় নেই। সূত্রের মতে, এই পরিস্থিতিতে ভাল ফলের রণকৌশল ঠিক করতেই সভাপতিদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন নিতিন। বিজেপির বিশ্লেষণ, কেরল ও তামিলনাড়ুতে ক্ষমতা দখল করা এই মুহূর্তে কঠিন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে গত কয়েক বছরে বিজেপির শক্তিবৃদ্ধি হয়েছে। ফলে জানপ্রাণ দিয়ে লড়াতে নামলে জেতার সম্ভাবনা তৈরি হলেও হতে পারে। তাই সূত্রের মতে, নিতিনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে পশ্চিমবঙ্গই।
কী ভাবে, কোন কৌশলে তৃণমূলকে হারানো সম্ভব, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতার আবহে বিভিন্ন দুর্নীতি মামলায় আদালতের অবস্থানকে কতটা রাজনৈতিক ভাবে কাজে লাগানো যেতে পারে, প্রধানমন্ত্রীর সফরে বাংলার জন্য একাধিক প্রকল্প ঘোষণা করে রাজ্যবাসীর মন জয় করা কতটা সম্ভব— এ সব নিয়েই রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে নিতিনের দীর্ঘ আলোচনা হওয়ার কথা। শমীকের সঙ্গে নিতিনের আলাদা বৈঠকও হতে পারে।