—প্রতীকী চিত্র।
সদ্য এপ্রিল মাসে তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন ডেকে সংসদে মহিলা সংরক্ষণ বিলে সংশোধনী পাশ করাতে ব্যর্থ হয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। সেটা বড় ধাক্কা ছিল সরকারের কাছে। এই পরিস্থিতিতে আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মহিলাদের যাতে সংরক্ষণের সুবিধা দেওয়া সম্ভব হয়, তার জন্য আসন্ন বাদল অধিবেশনে ফের এক বার ওই সংশোধনী বিলে কিছু পরিবর্তন করে সংসদে আনার কথা ভাবছেন বিজেপি নেতৃত্ব। তবে তা শেষ পর্যন্ত আনা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর হাতে ছেড়ে দিয়েছে দল।
আগামী ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেই মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ চালু করার লক্ষ্যে গত মাসে সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডেকে বিল পাশ করানোর পরিকল্পনা নিয়েছিল শাসক শিবির। কিন্তু মহিলা সংরক্ষণ আইন সংশোধনের নামে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাসের যে কৌশল সরকার নিয়েছিল, তাতে বিরোধীদের অসম্মতি ছিল। বিরোধীদের যুক্তি ছিল, আসন পুনর্বিন্যাসের নামেউত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়িয়ে নিয়ে কৌশলে ক্ষমতা ধরে রাখার পরিকল্পনা নিয়েছে মোদী সরকার। ফলে সংবিধান সংশোধন করতে লোকসভায় উপস্থিত দুই-তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন জোগাড় করতে ব্যর্থ হয় সরকার।
আগামী জুলাই মাস থেকে শুরু হবে সংসদের বাদল অধিবেশন। ওই অধিবেশনে ফের এক বার বিলটি নিয়ে আসার পক্ষপাতী বিজেপি নেতৃত্ব। কারণ অর্ধেক আকাশের সমর্থন নিশ্চিত করতে ২০২৯ সালের লোকসভাতেই মহিলাদের ৩৩ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে চায় শাসক শিবির। তাই মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল পাশ করাতে এ যাত্রায় লোকসভার আসন বৃদ্ধির যে বিতর্কিত শর্তটি ছিল, তা প্রত্যাহার করে নেওয়ার কথা ভাবছে দল। পরিবর্তে বতর্মান লোকসভার সদস্য সংখ্যার মধ্যেই মহিলাদের ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত করার শর্ত আনার কথা ভাবা হচ্ছে। কারণ বিরোধীরা, বিশেষ করে কংগ্রেস, বর্তমান লোকসভার আসনের মধ্যেই ৩৩ শতাংশ মহিলাদের সংরক্ষণ দেওয়ার প্রশ্নে সরকারকে সমর্থন করতে নীতিগত ভাবে রাজি আছে। তাই দু’পা পিছিয়ে বিরোধীদের দাবি মেনে নিয়ে বর্তমান আসন সংখ্যাতেই মহিলাদের সংরক্ষণ দেওয়ার কথা ভাবছে বিজেপি। একমাত্র তবেই ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে মহিলাদের সংরক্ষণের ফায়দা তোলা সম্ভব হবে। সেই পরিস্থিতিতে ২০২৭ সালে জনগণনার পরে যে জনসংখ্যা দাঁড়াবে, তার ভিত্তিতে লোকসভার আসন সংখ্যা পুনর্বিন্যাস করা হবে। সেই বর্ধিত আসনসংখ্যার ভিত্তিতে প্রথম লোকসভার ভোট হবে২০৩৪ সালে।
একই সঙ্গে পাঁচ রাজ্যের ফলের দিকেও তাকিয়ে রয়েছে বিজেপি। দলের বক্তব্য, যদি ভাল ফল হয়, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে যদি দল জিততে সক্ষম হয়, তা হলে জাতীয় রাজনীতিতে আরও জমি শক্ত হবে। দলের এক নেতার কথায়, ‘‘সে ক্ষেত্রে প্রমাণ হবে পশ্চিমবঙ্গের মহিলারা বিজেপির পক্ষে আছেন। সেই পরিস্থিতিতে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ না দেওয়া অপরাধ হবে। বিরোধীরা মহিলাদের সংরক্ষণ সমর্থন না করে মহিলাদের ক্ষমতায়নে বাধা সৃষ্টি করছে, সেই প্রচারে নামতেও সুবিধা হবে দলের।’’