সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। —ফাইল চিত্র।
তাঁর মৌখিক পর্যবেক্ষণের ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। শনিবার এমনটাই জানালেন দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। ‘পরজীবী’ এবং ‘আরশোলা’ মন্তব্য প্রসঙ্গে শনিবার একটি বিবৃতি জারি করেছেন প্রধান বিচারপতি। সেখানে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, ওই মৌখিক পর্যবেক্ষণকে যে ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, তা দেখে তিনি ‘ব্যথিত’। তিনি দেশের যুবসমাজের সমালোচনা করেছেন বলে যে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বিভিন্ন মহলে, তা-ও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে জানান প্রধান বিচারপতি।
শনিবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমি দেশের যুবসমাজের সমালোচনা করেছি— এমন ধারণা বা দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নিয়ে আমি গর্বিত। দেশের প্রত্যেক তরুণ-তরুণীই আমাকে অনুপ্রাণিত করে। দেশের যুবসমাজের প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা এবং সম্মান রয়েছে। আমি তাঁদের উন্নত ভারতের স্তম্ভ হিসাবে দেখি, এ কথা বললেও অত্যুক্তি হবে না।”
বস্তুত, শুক্রবার একটি মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতির এক মন্তব্য থেকেই গোটা বিষয়ের সূত্রপাত। ওই মন্তব্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। এ বার গোটা বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন প্রধান বিচারপতি। ‘পরজীবী’ মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি জানান, যাঁরা ‘নকল এবং ভুয়ো ডিগ্রি’ নিয়ে আইনি পেশায় এসেছেন তাঁদের উদ্দেশেই ওই মৌখিক পর্যবেক্ষণটি ছিল। সংবাদমাধ্যমের একাংশ তাঁর ওই মন্তব্যকে ভুল ভাবে ব্যাখ্যা করেছে।
শুক্রবারের মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যাঁরা নকল ও ভুয়ো ডিগ্রির সহায়তায় আইনি পেশায় এসেছেন, আমি সুনির্দিষ্ট ভাবে তাঁদের সমালোচনা করেছিলাম। এই ধরনের ব্যক্তিরা সংবাদমাধ্যম, সমাজমাধ্যম এবং অন্য মহতী পেশাতেও লুকিয়ে ঢুকে পড়েছেন। সেই কারণেই তাঁরা পরজীবীর মতো।” উল্লেখ্য, সিনিয়র আইনজীবীর পদমর্যাদা চেয়ে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে আবেদন করেছিলেন এক আইনজীবী। তাঁকে ভর্ৎসনা করার সময়েই ওই ‘পরজীবী’ এবং ‘আরশোলা’ মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি।