Indore Water Contamination

ইনদওরে ১০ জনের মৃত্যুতে দায়ী ‘বিষাক্ত’ জলই! গবেষণাগারের রিপোর্টে দাবি, আক্রান্ত ১৪০০, আইসিইউতে ভর্তি ৩২ জন

স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, ভগীরথপুরার ১৭১৪টি বাড়িতে বৃহস্পতিবার সমীক্ষা চালানো হয়েছে। ৮৫৭১ জনের শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩৩৮ জনের মধ্যে ডায়েরিয়ার মৃদু উপসর্গ রয়েছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০২৬ ১২:১৬
‘বিষাক্ত’ জলপান: অসুস্থদের দেখতে ইনদওরের হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। ছবি: পিটিআই।

‘বিষাক্ত’ জলপান: অসুস্থদের দেখতে ইনদওরের হাসপাতালে মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব। ছবি: পিটিআই।

মধ্যপ্রদেশের ইনদওরের ভগীরথপুরায় যে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, তার জন্য দায়ী ‘বিষাক্ত’ জলই। গবেষণাগারের রিপোর্টে তেমনই দাবি করা হয়েছে। সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক তথা চিকিৎসক মাধব প্রসাদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, শহরের একটি মেডিক্যাল কলেজের গবেষণাগারে পানীয় জলের নমুনা পাঠানো হয়েছিল। জলের পাইপলাইন ফেটে যাওয়ায় সেখান থেকেই পানীয় জলে দূষণ ছড়িয়েছে। ইনদওরের মেয়র পুষ্যমিত্র ভার্গব সংবাদসংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন, ১০ জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। তবে স্থানীয়েরা দাবি করেছেন, ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

Advertisement

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, ভগীরথপুরায় একটি থানার কাছে পাইপে ফাটল চিহ্নিত করা হয়েছে। ঘটনাচক্রে, যে জায়গায় পাইপ ফেটেছে, সেই পাইপলাইনের উপরে একটি শৌচাগার নির্মাণ করা হয়েছে। পাইপে ফাটল ধরায় শৌচাগারের জল চুঁইয়ে পানীয় জলের সঙ্গে মিশেছে। আর তা থেকেই এত বড় বিপত্তি। ‘বিষাক্ত’ জল পান করায় ভাগীরথপুরায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৪০০। দুশোরও বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁদের মধ্যে ৩২ জন আইসিইউয়ে ভর্তি।

অতিরিক্ত মুখ্যসচিব সঞ্জয় দুবে জানিয়েছেন, প্রশাসন গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। পাইপলাইনের আর কোথাও ফাটল রয়েছে কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, পাইপলাইন মেরামত করে আবার পরিষ্কার জল সরবরাহ করা হচ্ছে ভাগীরথপুরায়। তবে এলাকাবাসীদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, পান করার আগে জল যেন ভাল ভাবে ফুটিয়ে নেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদবের নির্দেশে ভগীরথপুরার পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন মুখ্যসচিব। স্থানীয় প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করেন। তাঁদের সঙ্গে গোটা ঘটনাক্রম নিয়ে আলোচনাও হয়।

ইতিমধ্যেই ইনদওরের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন রাজ্য সরকারকে নোটিস দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘ দিন ধরেই দূষিত পানীয় জল সরবরাহ করা হচ্ছিল। কারও পেটে ব্যথা, কারও বমি বমি ভাব— এ রকম নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। জল থেকে সমস্যা হচ্ছে এই সন্দেহে স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়। কিন্তু অভিযোগ, বার বার জানানো সত্ত্বেও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। কেন কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, কেন স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হল না, তা জানতে চেয়েছে কমিশন।

মুখ্যমন্ত্রী নিজে ইনদওরের বিভিন্ন হাসপাতালে গিয়ে এই ঘটনায় অসুস্থদের সঙ্গে দেখা করে এসেছেন বৃহস্পতিবার। একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও করেন তিনি। স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ভগীরথপুরার ১৭১৪টি বাড়িতে বৃহস্পতিবার সমীক্ষা চালানো হয়েছে। ৮৫৭১ জনের শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ৩৩৮ জনের মধ্যে ডায়েরিয়ার মৃদু উপসর্গ রয়েছে।

ঘটনাচক্রে, যে ভগীরথপুরায় ডায়েরিয়ার প্রাদুর্ভাব হয়েছে, সেই এলাকা রাজ্যের আবাসন এবং নগরোন্নয়ন মন্ত্রী কৈলাস বিজয়বর্গীয়ের বিধানসভা এলাকার মধ্যে পড়ে। বুধবার রাতে সর্বভারতীয় এক টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, কেন অসুস্থেরা চিকিৎসার খরচ পাচ্ছেন না? কেন পরিস্রুত জল দেওয়া হচ্ছে না? আর তাতেই মেজাজ হারিয়ে বিজয়বর্গীয় সাংবাদিককে বলেন, ‘‘তাতে ঘন্টা হয়েছে।’’ আর এই ‘ঘন্টা’ শব্দ শুনেই রুখে দাঁড়ান সাংবাদিক। তার পরই শুরু হয় বাগ্‌বিতণ্ডা। যা ইনদওরের এই ঘটনাকে ছাপিয়ে রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

Advertisement
আরও পড়ুন