—প্রতীকী চিত্র।
জম্মু-কাশ্মীরের উল্লেখ রয়েছে ‘ভারত-অধিকৃত কাশ্মীর’ হিসেবে। মকবুল বাট, সৈয়দ আলি গিলানি, মাসারত আলমের মতো বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গি নেতাদের উল্লেখ করা হয়েছে ‘অনুসরণ করার যোগ্য ব্যক্তি’ হিসেবে।জম্মু-কাশ্মীরের কয়েকটি সরকারি স্কুলের গ্রন্থাগারে পাঠানো বইয়ে এমন বিষয়ের উল্লেখ নিয়ে বিতর্কের জেরে শেষ পর্যন্ত সাসপেন্ড হলেন আটজন আধিকারিক।
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ‘সমগ্র শিক্ষা গ্রন্থাগার’ প্রকল্পের অধীনে সরকারি স্কুলে সরবরাহ করা ‘পার্সোনালিটিজ় অ্যান্ড লেজেন্ডস অব জম্মু-কাশ্মীর’ বইয়ে বিতর্কিত বিষয়ের উল্লেখ নিয়ে প্রথমে সরব হয় অধিকার রক্ষা সংগঠন ‘জম্মু-কাশ্মীর পিপল্স ফোরাম’। এর পরে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিরোধী দল বিজেপি সক্রিয় হয়। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা সুনীল শর্মা বলেন, ‘‘জম্মু-কাশ্মীর জুড়ে বেশ কয়েকটি স্কুলে সরবরাহ করা হয়েছে। এটা গুরুতর অপরাধ।’’ তিনি দাবি করেন, বইয়ে ২০০৮ সালে মুম্বই হামলার মূল চক্রী হাফিজ় সইদেরও প্রশংসা করা হয়েছে। ‘পার্সোনালিটিজ় অ্যান্ড লেজেন্ডস অব জম্মু-কাশ্মীর’-এর পাশাপাশি ‘গ্রেট পার্সোনালিটিজ় অব জম্মু-কাশ্মীর’ নামক বইয়েও এমন বিতর্কিত বিষয়ের উল্লেখ রয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। অস্বস্তিতে পড়ে ওমর আবদুল্লা সরকার। তিনি জানিয়েছেন, বই দু’টি তিনি দেখেননি।
ঘটনায় স্কুলশিক্ষা দফতরের আট আধিকারিককে নিলম্বিত করার নির্দেশ দেয় সরকার। জানানো হয়েছে, ওই দু’টি বইয়ের মোট যে ২৫১টি কপি স্কুলগুলিতে সরবরাহ করা হয়েছিল। সেগুলি প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নিলম্বিত আধিকারিকদের মধ্যে রয়েছেন ‘সমগ্র শিক্ষা’ প্রকল্পের গ্রন্থাগার সমন্বয়ক, এক জন প্রিন্সিপাল, চার জন শিক্ষক ও শিক্ষা দফতরের এক জন অফিসার। চুক্তির ভিত্তিতে নিযুক্ত এক জন কম্পিউটার অ্যাসিস্ট্যান্টকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন উপরাজ্যপাল মনোজ সিন্হা।