—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
সামনেই কেরলে ভোট। সংশোধিত বিদেশি অনুদান আইন সংখ্যালঘু সমাজ (এ ক্ষেত্রে মূলত খ্রিস্টান) বিরোধী বলে ইতিমধ্যেই কেরলে প্রচারে নেমেছে সিপিএম-কংগ্রেস। এই আবহে ভোট ময়দানে হিতে বিপরীত হবে বুঝে আজ লোকসভায় ওই বিল পাশ করানোর প্রশ্নে পিছিয়ে আসে সরকার।
বিদেশ থেকে আসা অর্থের বড় অংশ এ দেশে ধর্মান্তরণের কাজে ব্যবহার হয় বলে গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ধর্মান্তরণে যুক্ত বলেও অভিযোগ। তাই সংশোধনী বিলে এ ধরনের অভিযুক্ত সংস্থার রেজিস্ট্রেশন বাতিল করার কথা বলা হয়েছে। গত ২৫ মার্চ লোকসভায় বিলটি পেশ হয়। সংশোধনীতে বলা হয়েছে, কোনও সংস্থার এফসিআরএ রেজিস্ট্রেশন তামাদি হয়ে গেলেই, সেই সব সংস্থার হাতে থাকা তহবিল ও সম্পত্তি দেখভালের ভার সরকার নিযুক্ত কর্তৃপক্ষের হাতে চলে যাবে।
ওই বিনের নিশান মূলত খ্রিস্টান সমাজ—এই অভিযোগে ইতিমধ্যেই কেরলে বিজেপির বিরুদ্ধে প্রচারে নেমেছে কংগ্রেস ও সিপিএম। পরিসংখ্যান বলছে, বর্তমানে প্রায় ১৬ হাজার সংস্থা বিদেশ থেকে বছরে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা অনুদান পায়। যে টাকার বেশির ভাগই আসে ভারতে সক্রিয় খ্রিস্টান সংগঠন ও চার্চের নামে। অভিযোগ, সেই টাকা বন্ধ করাই লক্ষ্য বিজেপির। তাই ওই বিল আনা হচ্ছে। বিরোধীদের বক্তব্য, সংখ্যালঘু বিরোধী বিজেপি সরকার সংখ্যালঘু ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত দেওয়ার লক্ষ্যেই ওই বিল পাশ করাতে চাইছে।
কেরলে গত লোকসভায় একটি আসন জিতেছে বিজেপি। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ওই রাজ্যে বেশ কিছু আসন জিতে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে মরিয়া বিজেপি। এই আবহে সরকার খ্রিস্টানদের বিরোধিতা করতে বিলটি আনছে বলে প্রচার হলে, খ্রিস্টানেরা তো বটেই, এমনকি ওই রাজ্যের ধর্মনিরপেক্ষ হিন্দু ভোটও সরে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে বিজেপির। তাই আজ বিলটি পাশ করানোর প্রশ্নে পিছিয়ে আসে কেন্দ্র। কেরলের বিজেপি সভাপতি রাজীব চন্দ্রশেখর বলেন, ‘‘বিলটি নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিল নিয়ে চার্চের যে চিন্তা রয়েছে তা নিষ্পত্তির পরেই বিলটি সংসদে পাশ করানো হবে।’’ কেন্দ্রীয় সংসদীয় মন্ত্রী রিজিজুর দাবি, ‘‘বিলটি আনা হবে না বলে গতকালই বিরোধীদের জানানো হয়েছিল।’’ কংগ্রেসের পাল্টা প্রশ্ন, ‘‘কেন তা হলে আজ সরকারের কার্যবিবরণীতে বিলটি নিয়ে আলোচনার উল্লেখ রয়েছে?’’
কংগ্রেস সাংসদ মণিকম টেগোর বিলটির বিরোধিতায় সব দলীয় সাংসদকে আজ লোকসভায় উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেন। তৃণমূল কংগ্রেসের বক্তব্য, সংসদের বাইরে বলা কোনও বক্তব্য শোনা হবে না। সংসদে সরকার কী বলছে তা-ই একমাত্র গ্রাহ্য করা হবে। দিনের শেষে শাসক শিবিরের ইঙ্গিত, আপাতত এই পর্বে বিলটি পাশ করানোর চেষ্টা হবে না।