—প্রতীকী চিত্র।
১৯৯১ সালের উপাসনাস্থল আইন (বিশেষ বিধান) নিয়ে ইলাহাবাদ হাই কোর্টের সাম্প্রতিক রায়ের সমালোচনা করে বিবৃতি দিল সিপিএমের পলিটবুরো। গত বৃহস্পতিবার হাই কোর্ট তার রায়ে জানায়, জনকল্যাণ বা জনস্বার্থে সরকার ধর্মস্থান অধিগ্রহণ করতে পারে। আইনে তার কোনও বাধা নেই। বারাণসীতে কাশী বিশ্বনাথধাম করিডর তৈরির জন্য ডালমন্ডি স্ট্রিটের ৬টি মসজিদের জমি অধিগ্রহণ করেছিল উত্তরপ্রদেশ সরকার। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন দাখিল হয়েছিল ইলাহাবাদ হাই কোর্টে। সেই মামলার শুনানিতেই বিচারপতি জে জে মুনির এবং বিচারপতি অরুণ কুমারের বেঞ্চ জানিয়েছে, ১৯৯১ সালের ওই আইন সরকারকে বৃহত্তর জনস্বার্থের উদ্দেশ্যে কোনও ধর্মস্থানের জমি অধিগ্রহণে বাধা দেয় না। আইনে বলা আছে, উপাসনাস্থলের চরিত্র বদল করা যাবে না। অধিগ্রহণে বাধা নেই।
এই রায়ের বিরোধিতা করেই আজ বিবৃতি প্রকাশ করেছে সিপিএমের পলিটবুরো। সেই বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ইলাহাবাদ হাই কোর্টের এই রায় যথেষ্ট উদ্বেগের। পলিটবুরোর বক্তব্য, এ দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাপন, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সংখ্যালঘু অধিকারকে খর্ব করেছে। ইলাহাবাদ হাই কোর্ট তার রায়ে যে ভাবে উপাসনাস্থল আইন ব্যাখ্যা করেছে, তা ত্রুটিপূর্ণ বলে মত পলিটবুরোর। বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ধর্মস্থানের জমি অধিগ্রহণ করে যদি ধর্মস্থানকে ভেঙে ফেলা হয়, তাতে তো চরিত্র বদল ঘটছেই। এই রায় আদতে ভোজশালা এবং সাম্প্রতিক মসজিদ বিতর্কের নমুনাকেই অনুসরণ করেছে বলে দাবি পলিটবুরোর। বলা হয়েছে, উত্তরপ্রদেশ সরকার চাইলে কাশী বিশ্বনাথ মন্দির সংলগ্ন সোনার গলি এলাকার জমি অধিগ্রহণ করতে পারত। কিন্তু তা না করে ইচ্ছাকৃত ভাবে সংখ্যালঘু এলাকার জমি অধিগ্রহণ করেছে যোগী আদিত্যনাথ সরকার। ইলাহাবাদ হাই কোর্টের এই রায় সুপ্রিম কোর্টে খারিজ হওয়া উচিত বলেও বিবৃতিতেজানিয়েছে পলিটবুরো।