— প্রতীকী চিত্র।
অবশেষে আজ আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হল। বিজেপির তরফে জানানো হয়েছে, আগামী ১৯ জানুয়ারি দলের সর্বভারতীয় সভাপতি পদের জন্য মনোনয়ন পত্র জমা দিতে পারবেন প্রার্থীরা। পরিস্থিতি যা, তাতে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে কার্যকরী সভাপতি নিতিন নবীনই মনোনয়ন জমা দিতে চলেছেন। দ্বিতীয় কোনও নাম জমা না পড়লে সে দিন কিংবা পরের দিন আনুষ্ঠানিক ভাবে সভাপতি হিসেবে নিতিনের নাম ঘোষণা করা হবে।
পৌষ মাস শুরু হওয়ার আগেই নিতিনকে কার্যকরী সভাপতি হিসেবে বেছে নিয়ে দল বুঝিয়ে দিয়েছিল বর্তমান সভাপতি জেপি নড্ডার উত্তরসূরি হতে চলেছেন তিনি। সংক্রান্তি শেষ হয়ে মাঘ মাস শুরু হতেই আজ দলের কেন্দ্রীয় রিটার্নিং অফিসার কে লক্ষণ ভোটের দিনক্ষণ জানিয়ে দেন। সভাপতি পদের নির্বাচনের জন্য আগামী ১৯ জানুয়ারি বেলা দু’টো থেকে চারটের মধ্যে মনোনয়ন পত্র জমা দিতে পারবেন প্রার্থীরা। মনোনয়ন পত্রের যাচাই হবে চারটে থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। কোনও প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নিতে চাইলে বিকেল পাঁচটা থেকে ছ’টার মধ্যে তা করতে পারবেন। কারা কারা মনোনয়ন জমা দিলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায় তা সাংবাদিক বৈঠক করে জানাবে দল। একাধিক ব্যক্তি যদি প্রার্থী হন, সে ক্ষেত্রে পরের দিন নির্বাচন হবে। বিজেপি সূত্রের দাবি, নিতিন একাই প্রার্থী হলে তাঁর নাম জাতীয় সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করে দেওয়া হবে।
দলীয় সূত্রের বক্তব্য, অতীতের মতোই এবারও দ্বিতীয় কোনও নেতার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা কম। সূত্রের মতে, ২০১৩ সালে বিজেপির জাতীয় সভাপতি পদে লড়াই হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সে সময়ে দলের সভাপতি ছিলেন নিতিন গডকড়ী। মোটের উপরে তাঁর দ্বিতীয়বার সভাপতি হওয়া প্রায় নিশ্চিত ছিল। তাঁর নামে আরএসএসের সম্মতিও ছিল। কিন্তু সভাপতি নির্বাচনের দিন কয়েক আগে নিতিন ঘনিষ্ঠ একটি সমবায় ব্যাঙ্কে অর্থ তছরুপের মামলা সামনে আসে। তারপরেই নিতিনকে সভাপতি করা নিয়ে আপত্তি তোলেন লালকৃষ্ণ আডবাণী-সহ দলের একাংশ। দ্বিতীয় প্রার্থী হিসেবে সে সময়ে মনোনয়ন পত্র তোলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী জমানার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী যশবন্ত সিন্হা। তবে নির্বাচন এড়াতে আরএসএসের মধ্যস্থতায় নিতিনের পরিবর্তে দ্বিতীয়বারের জন্য সভাপতি হিসেবে বেছে নেওয়া হয় রাজনাথ সিংহকে। যাতে সম্মতি দেন আডবাণী। পরে সভাপতি হিসেবে রাজনাথের এক বছরের সময়কালে (২০১৩-’১৪) নরেন্দ্র মোদীকে ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের মুখ হিসেবে ঘোষণা করেন বিজেপি নেতৃত্ব।