শুভম কুমারের দেহ পৌঁছল জহানাবাদে। পিটিআই
দু’জনের বাড়িতে বিয়ের পাকা কথা চলছিল। এক জন মাকে ফোন করে কিছু ক্ষণ আগেই বলেছিলেন, পরে সময় হাতে নিয়ে ফোন করবেন। কারও বিয়ে হয়েছে সদ্য, কারও চাকরির মেয়াদ ছিল শেষের দিকে। শনিবার যোরহাটের রৌরিয়ায় বায়ুসেনা ঘাঁটিতে এএন-৩২ বিমানের দুর্ঘটনা অসহায় করে দিল পাঁচটি পরিবারকে।
বায়ুসেনার তরফে জানানো হয়, স্কোয়াড্রন লিডার প্রশান্ত সিংহকে দেহরাদূনে শ্রদ্ধাঞ্জলির আয়োজন করা হবে। অগ্নিবীর বায়ুসেনা দানিশ আলমের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে বিহারের ভোজপুরে। বাকি দুই প্রয়াত বায়ুসেনা সার্জেন্ট জিতেন্দ্র শর্মা এবং অগ্নিবীর বায়ু কুমাওয়াতকে যথাক্রমে হিন্ডন এবং রাজস্থানের নাগৌরে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হবে। এ ছাড়াও যোরহাট এয়ার ফোর্স স্টেশনেও একটি শ্রদ্ধাঞ্জলি অনুষ্ঠানের আয়োজন হবে।
শনিবার দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রশান্তের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। তাঁর বাবা উমেশ সিংহ সিআরপি-র ডেপুটি কমান্ডান্ট পদ থেকে অবসর নিয়েছেন। ছ’বছর আগে তিনি ভারতীয় বায়ুসেনায় অফিসার হিসেবে যোগ দেন। তাঁর বিয়ে হয়েছিল মাত্র দেড় বছর আগে। তাঁর স্ত্রী পেশায় এক জন আইনজীবী এবং বর্তমানে অসমে প্রশান্তের সঙ্গেই থাকতেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়েই প্রশান্তের বাবা-মা অসমের উদ্দেশে রওনা দেন।
বিহারের জহানাবাদের বাসিন্দা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট শুভম কুমার ২০২১ সালে ভারতীয় বায়ুসেনায় ফ্লাইং অফিসার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। শনিবার সকালেই মাকে ভিডিয়ো কল করে তিনি বলেছিলেন, “মা, আমি ভাল আছি। একটু ব্যস্ত আছি। এক ঘণ্টার মধ্যে ফ্রি হয়ে তোমার সঙ্গে ভাল করে কথা বলব।” মা ছেলের ভিডিয়ো কলের অপেক্ষায় ছিলেন। সেই ফোন আর আসেনি, বদলে আসে ছেলের মৃত্যুসংবাদ।
২২ বছর বয়সি অগ্নিবীর বায়ু ক্ষেমারাম কুমাওয়াত ছিলেন রাজস্থানের দিদওয়ানা-কুচামন জেলার পাঁচোতা গ্রামের বাসিন্দা। ছোটবেলা থেকেই তাঁর স্বপ্ন ছিল সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া। অগ্নিবীর হিসেবে তাঁর চাকরির মেয়াদ শেষ হয়ে এসেছিল। পরিবারে তাঁর বিয়ে নিয়ে আলোচনা চলছিল। ২২ বছর বয়সি অপর অগ্নিবীর বায়ু দানিশ আলম ছিলেন পরিবারের একমাত্র সন্তান। যোরহাটই ছিল ভোজপুরের বাসিন্দা দানিশের প্রথম পোস্টিং।